ঢাকা ০২:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপেক্ষা করছে ‘বড় সারপ্রাইজ’, হুঁশিয়ারি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর 

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপেক্ষা করছে ‘বড় সারপ্রাইজ’, হুঁশিয়ারি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর 

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান তীব্র উত্তেজনার মাঝে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম সতর্কবার্তা দিল ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, নতুন করে কোনো আক্রমণ চালানো হলে ওয়াশিংটনের জন্য আরও বড় ধরনের ‘সারপ্রাইজ’ বা চমক অপেক্ষা করছে। সেই সঙ্গে दोबारा সংঘাত শুরু হলে আরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও স্পষ্ট ঘোষণা দেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই বার্তা দেন। আরাঘচি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ের সামরিক সংঘাত থেকে ইরান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে। আর এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনের যেকোনো যুদ্ধে আরও জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

বিবৃতিতে আব্বাস আরাঘচি বলেন, “সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। যদি আবারও নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে, তবে এবার মার্কিন বাহিনীর জন্য আরও বড় চমক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”

নিজেদের সামরিক শক্তির মহড়া ও সক্ষমতার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত আধুনিক প্রযুক্তির ‘এফ-৩৫’ (F-35) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে অত্যাধুনিক হিসেবে পরিচিত এই যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার মধ্য দিয়ে ইরান নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, খোদ মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনেই যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদনে শত কোটি ডলার মূল্যের একাধিক যুদ্ধবিমান হারানোর কথা স্বীকার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, মার্কিন গবেষণা সংস্থা ‘কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস’-এর সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল। ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত এই অভিযানে অংশ নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রও।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের এই কঠোর ও সরাসরি হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও বেশি উসকে দিতে পারে। একই সঙ্গে এই বক্তব্য থেকে এটিও পরিষ্কার যে, ভবিষ্যতের যেকোনো সম্ভাব্য সংঘাতের মোকাবিলায় তেহরান আগেভাগেই নিজেদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপেক্ষা করছে ‘বড় সারপ্রাইজ’, হুঁশিয়ারি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর 

আপডেট সময় : ০১:২২:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান তীব্র উত্তেজনার মাঝে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম সতর্কবার্তা দিল ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, নতুন করে কোনো আক্রমণ চালানো হলে ওয়াশিংটনের জন্য আরও বড় ধরনের ‘সারপ্রাইজ’ বা চমক অপেক্ষা করছে। সেই সঙ্গে दोबारा সংঘাত শুরু হলে আরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও স্পষ্ট ঘোষণা দেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই বার্তা দেন। আরাঘচি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ের সামরিক সংঘাত থেকে ইরান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছে। আর এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনের যেকোনো যুদ্ধে আরও জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

বিবৃতিতে আব্বাস আরাঘচি বলেন, “সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। যদি আবারও নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে, তবে এবার মার্কিন বাহিনীর জন্য আরও বড় চমক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”

নিজেদের সামরিক শক্তির মহড়া ও সক্ষমতার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত আধুনিক প্রযুক্তির ‘এফ-৩৫’ (F-35) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে অত্যাধুনিক হিসেবে পরিচিত এই যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার মধ্য দিয়ে ইরান নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, খোদ মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনেই যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদনে শত কোটি ডলার মূল্যের একাধিক যুদ্ধবিমান হারানোর কথা স্বীকার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, মার্কিন গবেষণা সংস্থা ‘কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস’-এর সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল। ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত এই অভিযানে অংশ নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রও।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের এই কঠোর ও সরাসরি হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও বেশি উসকে দিতে পারে। একই সঙ্গে এই বক্তব্য থেকে এটিও পরিষ্কার যে, ভবিষ্যতের যেকোনো সম্ভাব্য সংঘাতের মোকাবিলায় তেহরান আগেভাগেই নিজেদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখছে।