ঢাকা ০২:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেখানেই মব হবে, সেখানেই অ্যাকশন: ডিএমপি কমিশনার

যেখানেই মব হবে, সেখানেই অ্যাকশন: ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মহানগরীতে যেকোনো ধরনের ‘মব কালচার’ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির নতুন কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেখানেই মব বা বেআইনি জমায়েত তৈরি হবে, সেখানেই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আইনি ব্যবস্থা বা অ্যাকশনে যাবে।

আজ বুধবার সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কমিশনার এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

ডিএমপি কমিশনার জানান, সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে ঢাকা পুলিশ কোনো ছাড় দেবে না। বিশেষ করে চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, অনলাইন জুয়া এবং বিভিন্ন ধরণের প্রতারণামূলক চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বা শূন্য সহনশীলতা বজায় রাখছে। অপরাধীর রাজনৈতিক বা সামাজিক অবস্থান যা-ই হোক না কেন, তাকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পুলিশের বিশেষ তৎপরতায় ইতিমধ্যে তালিকাভুক্ত ২০৬ জন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজধানীতে অপরাধের অন্যতম উৎস ‘কিশোর গ্যাং’-এর বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুনির্দিষ্ট তালিকা ধরে ধরে এই গ্যাংগুলোর লিডার বা প্রধানদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

একই সাথে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডের ওপরও নজর রাখছে পুলিশ। জামিনে মুক্ত হয়ে যারা পুনরায় অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে, তাদেরকেও ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান ডিএমপি কমিশনার।

পুলিশি সেবার মান বাড়াতে থানার অভ্যন্তরীণ সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন নতুন কমিশনার। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, থানা ও ফাঁড়িগুলোকে আরও উন্নত করা হবে এবং সেগুলোকে সাধারণ মানুষের জন্য জনবান্ধব ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া হবে। থানায় কোনো দালালের স্থান হবে না। কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম বা কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া পুলিশের যানবাহন সংকট দূর করার আশ্বাসও দেন তিনি।

রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপট নিয়ে কমিশনার বলেন, বিগত সরকারের সময় এই রিকশাকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট বা চক্র গড়ে উঠেছিল। ফলে শুধু পুলিশের পক্ষে এটি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন।

নিরাপদ নগরী গড়ে তোলাকে নিজের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধ করার প্রবণতা বাড়ছে, যা পুলিশের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। একটি নিরাপদ শহর গড়তে তিনি নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। তবে স্বস্তির খবর হিসেবে তিনি জানান, রাজধানীতে এই মুহূর্তে উগ্রবাদ বা বড় কোনো নাশকতার সুনির্দিষ্ট তথ্য পুলিশের কাছে নেই।

আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও সহজ করতে সড়ক ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে ‘এআই’ (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির ব্যবহার ইতিবাচক সুফল নিয়ে আসছে বলেও জানান তিনি।

সবশেষে, ঈদের ছুটিতে রাজধানী যখন ফাঁকা হয়ে যাবে, তখন সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন ডিএমপি কমিশনার।

জনপ্রিয় সংবাদ

যেখানেই মব হবে, সেখানেই অ্যাকশন: ডিএমপি কমিশনার

আপডেট সময় : ০২:১০:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

ঢাকা মহানগরীতে যেকোনো ধরনের ‘মব কালচার’ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির নতুন কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেখানেই মব বা বেআইনি জমায়েত তৈরি হবে, সেখানেই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আইনি ব্যবস্থা বা অ্যাকশনে যাবে।

আজ বুধবার সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কমিশনার এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

ডিএমপি কমিশনার জানান, সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে ঢাকা পুলিশ কোনো ছাড় দেবে না। বিশেষ করে চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, অনলাইন জুয়া এবং বিভিন্ন ধরণের প্রতারণামূলক চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বা শূন্য সহনশীলতা বজায় রাখছে। অপরাধীর রাজনৈতিক বা সামাজিক অবস্থান যা-ই হোক না কেন, তাকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পুলিশের বিশেষ তৎপরতায় ইতিমধ্যে তালিকাভুক্ত ২০৬ জন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজধানীতে অপরাধের অন্যতম উৎস ‘কিশোর গ্যাং’-এর বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুনির্দিষ্ট তালিকা ধরে ধরে এই গ্যাংগুলোর লিডার বা প্রধানদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

একই সাথে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডের ওপরও নজর রাখছে পুলিশ। জামিনে মুক্ত হয়ে যারা পুনরায় অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে, তাদেরকেও ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান ডিএমপি কমিশনার।

পুলিশি সেবার মান বাড়াতে থানার অভ্যন্তরীণ সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন নতুন কমিশনার। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, থানা ও ফাঁড়িগুলোকে আরও উন্নত করা হবে এবং সেগুলোকে সাধারণ মানুষের জন্য জনবান্ধব ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া হবে। থানায় কোনো দালালের স্থান হবে না। কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম বা কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া পুলিশের যানবাহন সংকট দূর করার আশ্বাসও দেন তিনি।

রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপট নিয়ে কমিশনার বলেন, বিগত সরকারের সময় এই রিকশাকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট বা চক্র গড়ে উঠেছিল। ফলে শুধু পুলিশের পক্ষে এটি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন।

নিরাপদ নগরী গড়ে তোলাকে নিজের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধ করার প্রবণতা বাড়ছে, যা পুলিশের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। একটি নিরাপদ শহর গড়তে তিনি নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। তবে স্বস্তির খবর হিসেবে তিনি জানান, রাজধানীতে এই মুহূর্তে উগ্রবাদ বা বড় কোনো নাশকতার সুনির্দিষ্ট তথ্য পুলিশের কাছে নেই।

আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও সহজ করতে সড়ক ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে ‘এআই’ (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির ব্যবহার ইতিবাচক সুফল নিয়ে আসছে বলেও জানান তিনি।

সবশেষে, ঈদের ছুটিতে রাজধানী যখন ফাঁকা হয়ে যাবে, তখন সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন ডিএমপি কমিশনার।