দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির তথ্যমতে, বিশ্বের শতাধিক দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি এ শোকানুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে গতকাল আয়োজিত রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওইদিন থেকে টানা ৪০ দিন সংঘাত চলার পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। পরবর্তী সময়ে গত ১৭ জুন দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে। বর্তমানে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চলছে।
প্রথমে মার্চে খামেনির দাফনের পরিকল্পনা থাকলেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় তা পিছিয়ে দেয়া হয়। গতকাল থেকে শুরু হওয়া রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান টানা সাতদিন ধরে ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে চলবে। তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনির কফিন রাখা হয়েছে। আজ ও আগামীকাল হাজারো মানুষ সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। সোম ও মঙ্গলবার শোকযাত্রা শুরু হবে দক্ষিণাঞ্চলের নগরী কোমের উদ্দেশে।
এরপর বুধবার মরদেহ ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেয়া হবে। নাজাফ ও কারবালায় জনসাধারণের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে শোকযাত্রা। পরে মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদ শহরে অবস্থিত ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে আগামী শুক্রবার খামেনিকে দাফন করা হবে। মাশহাদই ছিল তার জন্মস্থান।
এদিকে খামেনির রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শোকানুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান ও জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখেইল কাভেলাশভিলিও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি সরকারি প্রতিনিধি দল তেহরানে অবস্থান করছে। তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইয়িলমাজ রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শোকানুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন ভারতের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গারিটা ও বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন। তাদের সঙ্গে রয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ ও বিরোধী নেতা মেহবুবা মুফতিও।
চীন থেকে জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির সহসভাপতি হে ওয়েই তেহরানে অনুষ্ঠিত শোকানুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন। আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এবং অর্থনৈতিক বিষয়ক উপপ্রধানমন্ত্রী আবদুল গনি বারাদারও অংশ নিচ্ছেন শোকানুষ্ঠানে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানগুলোর একটি হবে। এর পরিসর ১৯৮৯ সালে ইরানের বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির শেষযাত্রাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। খোমেনির শোকানুষ্ঠানে প্রায় এক কোটি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।
নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ও খামেনির ছেলে মোজতবা আলী খামেনি শোকানুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন না। ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।




















