নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বন্দর উপজেলায় ৫ দিন ধরে নিখোঁজ থাকা মাসুদ রানা (৩৫) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ ৪ জুলাই ২০২৬, শনিবার সকালে ২৬ নং ওয়ার্ডের একটি পচা ডোবা থেকে তাঁর ভাসমান লাশটি উদ্ধার করা হয়। মাদক সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নিখোঁজের ৫ দিন পর মরদেহ উদ্ধার
পারিবারিক সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখ রাত ১১টা থেকে নিখোঁজ ছিলেন বাচ্চু মিয়ার ছেলে মাসুদ রানা। আত্মীয়-স্বজনরা সম্ভাব্য সব জায়গায় সন্ধান করেও গত কয়েকদিন তাঁর কোনো খোঁজ পাননি।
আজ সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ২৬ নং ওয়ার্ডের কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনায় ভরা একটি ডোবায় একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে।
আড়ালে কি মাদক কারবার?
নিহত মাসুদ রানা পেশায় একজন রিকশাচালক হলেও, স্থানীয়দের দাবি— এর আড়ালে তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মাসুদ নিজের রিকশা ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পৌঁছে দেওয়ার কাজ করতেন।
নেপথ্যে মাদক সিন্ডিকেটের সংঘাত!
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই মাদক কারবারিরা মূলত কোনো প্রভাবশালী মাদক সিন্ডিকেট বা গডফাদারের নিয়ন্ত্রণে থেকে কাজ করে। এই চক্রের কারণে এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও মাদকের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যা স্থানীয় সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদকের অর্থ লেনদেন বা অভ্যন্তরীণ কোনো বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করে লাশ ডোবায় ফেলে রাখা হয়েছে।
তদন্তে নেমেছে পুলিশ
লাশ উদ্ধারের পর বন্দর থানা পুলিশ দ্রুত সেটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা সম্ভব হবে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না এবং ঘটনার পেছনে মাদকের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে পুলিশ ইতিমধ্যেই জোরালো তদন্ত শুরু করেছে।























