দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার সমন্বিত এবং দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করা, পড়াশোনার ঘাটতি দূর করা এবং একটি বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
আজ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে আগারগাঁও তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী এই তথ্য জানান।
মাঠপর্যায়ের চিত্র ও ‘দৃষ্টিনন্দন’ প্রকল্প
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত চার মাস ধরে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো নিজে পরিদর্শন করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে রাজধানীর বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ ও সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমের বাস্তব অবস্থা মূল্যায়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে আধুনিক রূপ দিতে চলমান “দৃষ্টিনন্দন” প্রকল্পের ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে তা সরেজমিনে যাচাই করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি ও বিশেষ নির্দেশনা
পরিদর্শনকালে শিক্ষার্থীদের সাথে সরাসরি কথা বলা ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, অধিকাংশ শিক্ষার্থীর অগ্রগতি সন্তোষজনক হলেও কিছু শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। এই পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।
নতুন কারিকুলাম ও শিক্ষক নীতিমালা
শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করতে বর্তমান কারিকুলাম পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে বলে জানান ববি হাজ্জাজ। এর পাশাপাশি শিক্ষকদের মানোন্নয়নে একটি সমন্বিত শিক্ষক নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। এই নীতিমালায় শিক্ষক নিয়োগ, উন্নত প্রশিক্ষণ, পেশাগত উন্নয়ন (CPD), কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন (KPI), তদারকি এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কাঠামো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ক্লাসরুম
প্রাথমিক শিক্ষাকে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকারের বেশ কিছু আধুনিক পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে:
-
ডিজিটাল ভিডিও লেসন ও স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন।
-
ফ্ল্যাট প্যানেল ও তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু।
-
শিক্ষার্থীর পড়াশোনার ঘাটতি চিহ্নিত করে তা পুনরায় শেখানোর আধুনিক পদ্ধতি।
লক্ষ্য ও প্রত্যাশা
প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সরকারের লক্ষ্য কেবল ভবনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং শিক্ষার গুণগত মানে একটি মৌলিক ও যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা। দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য আধুনিক, মানসম্মত এবং আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর।
উক্ত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা ঢাকা অঞ্চলের বিভাগীয় উপপরিচালক, ঢাকা জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, বিভিন্ন থানার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

























