ঢাকা ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকায় আলজেরীয় দূতাবাসে জাতীয় শহীদ দিবস উদযাপিত

ঢাকায় আলজেরীয় দূতাবাসে জাতীয় শহীদ দিবস উদযাপিত

যথাযোগ্য মর্যাদা ও গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে গতকাল ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে ঢাকায় আলজেরীয় দূতাবাসে ‘জাতীয় শহীদ দিবস’ উদযাপিত হয়েছে। আলজেরিয়ার স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী নেতা এবং বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

দিবসটির কর্মসূচী শুরু হয় আলজেরিয়ার জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। এরপর শহীদদের সম্মানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। নীরবতা শেষে শহীদদের আত্মার শান্তি ও বরকত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক।

অনুষ্ঠানে আলজেরিয়ার জাতীয় শহীদ দিবসের প্রেক্ষাপট ও এর ঐতিহাসিক গুরুত্বের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত মান্যবর আব্দেলৌআহাব সাঈদানি তার বক্তব্যে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য “শহীদদের চুক্তির প্রতি বিশ্বস্ত”-এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন:

“শহীদদের স্মরণ কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তাদের আদর্শকে ধারণ করে দেশ ও জাতির অগ্রগতি অব্যাহত রাখাই হলো প্রকৃত শ্রদ্ধা।”

রাষ্ট্রদূত তার ভাষণে বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের ওপর জোর দেন—যে নীতিগুলোর জন্য আলজেরিয়ার বিপ্লবীরা দীর্ঘ লড়াই চালিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ১৯৫৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ আলজেরিয়ার আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকার করেছিল। লারবি বেন ম’হিদি এবং দিয়দুশ মুরাদের মতো বীর শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি সকলকে একতা ও দেশপ্রেমের আহ্বান জানান।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে রাষ্ট্রদূত জানান, আলজেরিয়া তার ইতিহাসের সত্যতা রক্ষায় একটি বিশেষ আইন পাস করেছে। এই আইনটি ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের অন্যায়কে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ কেবল শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সত্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ার একটি ভিত্তি।

রাষ্ট্রদূত সাঈদানি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের শহীদদের প্রতিও বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ত্যাগ ও সহনশীলতার মূল্যবোধ আলজেরিয়া ও বাংলাদেশকে একটি অভিন্ন সূত্রে গেঁথেছে। দুই দেশের এই অটুট বন্ধুত্ব আগামীতে শান্তি, সমৃদ্ধি ও মর্যাদা রক্ষায় আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানটি শেষ হয় শহীদদের স্মৃতি রক্ষা এবং তাদের স্বপ্নের আলজেরিয়া গড়ার নতুন অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে পোশাক কারখানায় পানি পান করে শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ

ঢাকায় আলজেরীয় দূতাবাসে জাতীয় শহীদ দিবস উদযাপিত

আপডেট সময় : ০৩:০৭:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যথাযোগ্য মর্যাদা ও গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে গতকাল ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে ঢাকায় আলজেরীয় দূতাবাসে ‘জাতীয় শহীদ দিবস’ উদযাপিত হয়েছে। আলজেরিয়ার স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী নেতা এবং বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

দিবসটির কর্মসূচী শুরু হয় আলজেরিয়ার জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। এরপর শহীদদের সম্মানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। নীরবতা শেষে শহীদদের আত্মার শান্তি ও বরকত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক।

অনুষ্ঠানে আলজেরিয়ার জাতীয় শহীদ দিবসের প্রেক্ষাপট ও এর ঐতিহাসিক গুরুত্বের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত মান্যবর আব্দেলৌআহাব সাঈদানি তার বক্তব্যে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য “শহীদদের চুক্তির প্রতি বিশ্বস্ত”-এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন:

“শহীদদের স্মরণ কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তাদের আদর্শকে ধারণ করে দেশ ও জাতির অগ্রগতি অব্যাহত রাখাই হলো প্রকৃত শ্রদ্ধা।”

রাষ্ট্রদূত তার ভাষণে বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের ওপর জোর দেন—যে নীতিগুলোর জন্য আলজেরিয়ার বিপ্লবীরা দীর্ঘ লড়াই চালিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ১৯৫৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ আলজেরিয়ার আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকার করেছিল। লারবি বেন ম’হিদি এবং দিয়দুশ মুরাদের মতো বীর শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি সকলকে একতা ও দেশপ্রেমের আহ্বান জানান।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে রাষ্ট্রদূত জানান, আলজেরিয়া তার ইতিহাসের সত্যতা রক্ষায় একটি বিশেষ আইন পাস করেছে। এই আইনটি ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের অন্যায়কে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ কেবল শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সত্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ার একটি ভিত্তি।

রাষ্ট্রদূত সাঈদানি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের শহীদদের প্রতিও বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ত্যাগ ও সহনশীলতার মূল্যবোধ আলজেরিয়া ও বাংলাদেশকে একটি অভিন্ন সূত্রে গেঁথেছে। দুই দেশের এই অটুট বন্ধুত্ব আগামীতে শান্তি, সমৃদ্ধি ও মর্যাদা রক্ষায় আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানটি শেষ হয় শহীদদের স্মৃতি রক্ষা এবং তাদের স্বপ্নের আলজেরিয়া গড়ার নতুন অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে।