ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন টানাপোড়েনের খবর সামনে এসেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জোর গুঞ্জন উঠেছে। কট্টরপন্থী বিরোধী সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি বিশেষ সূত্রের বরাত দিয়ে এই বিস্ফোরক তথ্যটি প্রকাশ করেছে। তবে এখন পর্যন্ত ইরানের মূল ধারার বা সরকারি কোনো গণমাধ্যমে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।
সূত্রটির দাবি অনুযায়ী, গত রোববার পাঠানো ওই পদত্যাগপত্রে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান দেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থা নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর চিঠির মূল বিষয়গুলো ছিল:
সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা: দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর নির্বাচিত সরকারকে পরিকল্পিতভাবে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে।
আইআরজিসির আধিপত্য: এই রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে দেশটির সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রিভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-এর কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো পুরো রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে।
দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা: এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা বা সরকারের নেতৃত্ব দেওয়া তাঁর পক্ষে আর সম্ভব নয়। তাই তিনি অবিলম্বে পদত্যাগের অনুমতি চেয়েছেন।
প্রেসিডেন্টের এই আকস্মিক পদক্ষেপ ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতার স্তরে এক নজিরবিহীন ও গভীর মতবিরোধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে সর্বোচ্চ নেতা এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বাস্তবিক অর্থে, গত কয়েক মাস ধরেই ইরানের নির্বাচিত সরকার এবং সামরিক-নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পর্দার আড়ালে তীব্র উত্তেজনা চলছিল। বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, আইআরজিসি পদ্ধতিগতভাবে প্রেসিডেন্টের প্রশাসনিক ক্ষমতা খর্ব করেছে এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর ওপর নিজেদের কার্যকর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে।
এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে পেজেশকিয়ান প্রশাসন বর্তমানে এক বড় ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার মুখোমুখি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশটির কূটনৈতিক আলোচনা এবং মন্ত্রিসভায় দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রদবদল বা পরিবর্তন বাস্তবায়নের ওপর, যা কার্যত সম্পূর্ণ থমকে গেছে।
























