যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য ২ দফা সংলাপ ইরানের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। ইসলামবাদে প্রথম রাউন্ড বৈঠকের ইরান চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ‘প্রস্তুত ছিল না’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
গতকাল সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে সাংবাদিক ব্রেট বেইয়ারকে সাক্ষাৎকার দেন ভ্যান্স। সাক্ষাৎকারে তাকে ফস্ক নিউজের সাংবাদিক ব্রেট বেইয়ার প্রশ্ন করেন, ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী কি-না।
জবাবে ভ্যান্স বলেন, “এই প্রশ্নটি ইরানিদের করা হলে সবচেয়ে ভালো হবে; কারণ বল এখন তাদের কোর্টে।”
“আমি এটুকু বলতে পারি যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার ব্যাপারে ইরানের কাছ থেকে আমাদের চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি পেতেই হবে এবং আমি মনে করি, ইরান যদি এ ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে একমত হতে রাজি থাকে, তাহলে দুই দেশের জন্যই একটি খুব, খুবই ভালো চুক্তি হতে পারে।”
“আর যদি তারা (চুক্তিতে আসতে) রাজি না থাকে, তবে সেটা তাদের ব্যাপার।”
ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত দুই যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।
তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনই নিহত হন আয়তুল্লাহ খামেনি, যিনি টানা ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। এছাড়া ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায়।
কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে যুদ্ধের ৩৯তম দিন, ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারই ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সংলাপে বসেছিলেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা।
সংলাপে মার্কিন প্রতিনিধি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ; কিন্তু ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পর কোনো সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই শেষ হয়েছে সেই বৈঠক।
সোমবারের সাক্ষাৎকারে জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, ইসলামাবাদের সেই সংলাপে ইরানি প্রতিনিধি দলটি চুক্তিহ স্বাক্ষরের অবস্থানে ছিল না।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমার মনে হয়, ইরানিরা কীভাবে আলোচনা করে— সে সম্পর্কে কিছু জ্ঞান আমরা (ইসলামাবাদের বৈঠক থেকে) পেয়েছি; এজন্যই আমরা আমরা পাকিস্তান থেকে চলে এসেছিলাম।
“কারণ আলোচনা চলার সময়েই এক পর্যায়ে আমরা বুঝতে পারলাম— যে টিমের সঙ্গে আমরা বৈঠক করছি, তারা চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারবে না; তাদের তেহরানে যেতে হবে এবং সর্বোচ্চ নেতা কিংবা অন্য কারোর অনুমোদন প্রাপ্তির পরেই তারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারবে।”
তবে ইসলামাবাদে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর না হলেও সেই বৈঠক যে বিফলে গেছে— তা মনে করেন না জে ডি ভ্যান্স। ফক্স নিউজকে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “তারা আমাদের নির্দেশনায় এগিয়ে আসা শুরু করেছে, যদিও এ অগ্রগতি বেশিদূর নয়— তারপরও আমি মনে করি এটা ভালো লক্ষণ।”
“এবং আমার সত্যিই মনে হয় যে এখনও আমরা একটা অসাধারণ চুক্তি করতে পারি; কিন্তু এখন এটা নির্ভর করছে ইরানের ওপর। এ ইস্যুতে পরবর্তী পদক্ষেপ তাদের নিতে হবে।”





















