ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি মানল না ইসরায়েল, ইরানে নতুন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের মেঘ কাটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। ইরান এই বিরতি মেনে নেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বুধবার ভোরে চালানো এই আকস্মিক আক্রমণ পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল ১২-এর বরাতে জানা গেছে, আজ ভোরে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। তেল আবিবের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরেও ইরান ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ বন্ধ করেনি। ফলে আত্মরক্ষার তাগিদে এবং হামলাকারী স্থাপনাগুলো ধ্বংস করতেই তারা এই পাল্টা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।

এই সংঘাত এমন এক সময়ে শুরু হলো যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এক পশলা শান্তির সুবাতাস বইছিল। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বিশেষ মধ্যস্থতায় ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক অ্যাকশন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে আলোচনার জন্য ‘উপযুক্ত’ হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই সপ্তাহব্যাপী এক উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু আলোচনার টেবিলে বসার আগেই ইসরায়েলের এই অনড় অবস্থান এবং সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ পুরো কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

এখন বিশ্ববাসীর নজর ইসলামাবাদের বৈঠকের দিকে। ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলকে এই সংঘাত থেকে নিবৃত্ত করতে পারে কি না এবং এই হামলার প্রভাব শান্তি আলোচনায় কতটা পড়ে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘বন্ধ কলকারখানা চালু’ সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি মানল না ইসরায়েল, ইরানে নতুন হামলা

আপডেট সময় : ১০:৫৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের মেঘ কাটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। ইরান এই বিরতি মেনে নেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বুধবার ভোরে চালানো এই আকস্মিক আক্রমণ পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল ১২-এর বরাতে জানা গেছে, আজ ভোরে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। তেল আবিবের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরেও ইরান ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ বন্ধ করেনি। ফলে আত্মরক্ষার তাগিদে এবং হামলাকারী স্থাপনাগুলো ধ্বংস করতেই তারা এই পাল্টা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।

এই সংঘাত এমন এক সময়ে শুরু হলো যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এক পশলা শান্তির সুবাতাস বইছিল। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বিশেষ মধ্যস্থতায় ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক অ্যাকশন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে আলোচনার জন্য ‘উপযুক্ত’ হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই সপ্তাহব্যাপী এক উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু আলোচনার টেবিলে বসার আগেই ইসরায়েলের এই অনড় অবস্থান এবং সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ পুরো কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

এখন বিশ্ববাসীর নজর ইসলামাবাদের বৈঠকের দিকে। ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলকে এই সংঘাত থেকে নিবৃত্ত করতে পারে কি না এবং এই হামলার প্রভাব শান্তি আলোচনায় কতটা পড়ে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।