নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে মারাত্মক আহত তরুণ মো. জোবায়ের (১৮) টানা চারদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে প্রাণ হারিয়েছেন। আজ রোববার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুরো এলাকায় ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
নিহত জোবায়ের পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার মো. জাহাঙ্গীরের ছেলে। তিনি বন্দরের এনায়েতনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন রাতে কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন জোবায়ের। পথে এনায়েতনগর ভাঙা ব্রিজের উত্তর পাশের ঢালে তিন ছিনতাইকারী তাঁর পথরোধ করে। দুর্বৃত্তরা তাঁর মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে জোবায়ের বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছিনতাইকারীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে এবং তাঁর মোবাইল ফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা জোবায়েরকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আজ রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। তরুণের এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জোবায়েরের মৃত্যুর খবর আসার পরপরই অপরাধীদের গ্রেফতারে কঠোর অবস্থানে গিয়েছে বন্দর থানা পুলিশ। বন্দর থানার সেকেন্ড অফিসার মনির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম এনায়েতনগর, শাহীমসজিদ ও খালপাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।
অভিযানের বিষয়ে বন্দর থানার সেকেন্ড অফিসার মনির হোসেন জানান:
“ঘটনার পর থেকেই অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে আমাদের টিম কাজ করছে। অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ছিনতাই হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এদিকে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

























