ঢাকা ১২:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে বন্যার, মূল কারণ শুধুই কী বৃষ্টি?

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যা: শুধু বৃষ্টি নয়, খাল-নদী ভরাটই মূল কারণ?

বান্দরবানের পাহাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি সঠিকভাবে নিষ্কাশন হতে পারছে না। ফলে বছরের পর বছর ধরে বন্যার কবলে পড়ছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ জনপদ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অতিবৃষ্টি নয়। বরং খাল-নদী ভরাট, দখল, অপরিকল্পিত অবকাঠামো ও প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংসের যৌথ প্রভাবেই স্থায়ী দুর্যোগ-প্রবণ অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে পটিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশ।

বান্দরবানের পাহাড় থেকে উৎপত্তি হওয়া হাঙ্গর খাল লোহাগাড়ার জঙ্গল পদুয়া, ফরিয়াদিকূল এবং সাতকানিয়ার ছদাহা, কেঁওচিয়া ইউনিয়ন হয়ে ডলু খালের সঙ্গে মিশে সাঙ্গু নদীতে গিয়ে পড়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে খালটির শেষাংশ এখন প্রায় অস্তিত্বহীন। কোথাও পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে, আবার কোথাও দখল হয়ে গেছে। এছাড়া কোথাও কোথাও তা সরু নালায় পরিণত হয়েছে। ফলে পাহাড়ি ঢলের পানি নদীতে পৌঁছানোর আগেই লোকালয়ে আটকে যাচ্ছে।

 

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যা: শুধু বৃষ্টি নয়, খাল-নদী ভরাটই মূল কারণ?
দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যা: শুধু বৃষ্টি নয়, খাল-নদী ভরাটই মূল কারণ?

 

ছদাহা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মুজিবুর রহমান জানান, খালের অন্তত তিন কিলোমিটার অংশ এখন নালার মতো হয়ে গেছে। শুকনো মৌসুমে পানি না থাকলেও বর্ষায় পাহাড়ি ঢল নামলে তা নিষ্কাশনের কোনো পথ থাকে না বলে জানান তিনি। তাই দ্রুত খনন না হলে প্রতিবছরই এই সংকট চলবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একই পরিস্থিতি সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের গড়াল খালেরও। তাসনীম ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, দুই দশক আগেও এই খালে নৌকা চলত। কিন্তু এখন তা প্রায় মৃত। তার মতে, শুধু চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনকেই দায়ী করা ঠিক নয়। বরং নদী-খাল, দিঘি-পুকুর ভরাট এবং কৃষিজমিতে অপরিকল্পিত বসতি স্থাপনও পানি নিষ্কাশনের পথ ধ্বংসের বড় কারণ।

দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় ডুবে আছে জনপদ
আগে বন্যার পানি দুই-তিন দিনের মধ্যেই নেমে যেত। কিন্তু এবার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমরসমান, আবার কোথাও বুকসমান পানিতে ডুবে আছে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক। ফলে বহু এলাকায় নৌকাই চলাচলের একমাত্র মাধ্যম।

সাতকানিয়ার পশ্চিম ঢেমশা গ্রামের বাসিন্দা মো. আবদুল কাদের বলেন, ছোটবেলা থেকে বন্যা দেখে এলেও এবারের মতো দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা আগে দেখেননি। তার ভাষায়, পানি বের হওয়ার সব পথ যেন বন্ধ হয়ে গেছে।

 

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যা: শুধু বৃষ্টি নয়, খাল-নদী ভরাটই মূল কারণ?
দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যা: শুধু বৃষ্টি নয়, খাল-নদী ভরাটই মূল কারণ?

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি অংশ মাছের ক্ষতির আশঙ্কায় মিঠাপানি প্রবেশ ঠেকাতে নিষ্কাশন পথ ও স্লুইসগেট বন্ধ করে রেখেছে। যার ফলে পাহাড়ি ঢলের পানি দীর্ঘসময় লোকালয়ে আটকে থাকছে।

নদীর তলদেশে পলি জমা ও জোয়ারের প্রভাব

দীর্ঘদিন নিয়মিত ড্রেজিং না হওয়ায় সাঙ্গু ও ডলু নদীর তলদেশে ব্যাপক বালি-পলি জমেছে। এতে নদীর পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের প্রভাব। কারণ অতিবৃষ্টির সময় সাগরের পানি উঁচু থাকায় বন্যার পানি দ্রুত সাগরে নামতে পারেনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. বরকত আলী বলেন, চট্টগ্রামের বন্যার পেছনে জোয়ার-ভাটার প্রভাব ও মানুষের কার্যক্রম দুটোই দায়ী। রেকর্ড বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের পানি যুক্ত হওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না বলে তিনি জানান। এছাড়া নদী-নালা-পুকুর ভরাট, পাহাড় কাটা ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে পানি প্রবাহের পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়াকেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

 

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনও বন্যার একটি কারণ। কারণ সেখানে পর্যাপ্ত ব্রিজ ও কালভার্ট নেই, যার ফলে পাহাড়ি ঢল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের অস্বাভাবিক তারতম্যও বন্যা পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কমছে প্রাকৃতিক পানি ধারণক্ষমতা

বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত এক দশকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক পানি ধারণক্ষমতা উদ্বেগজনকভাবে কমেছে। একসময় শত শত পুকুর, বিল ও জলাভূমি অতিরিক্ত পানি ধারণ করত। কিন্তু এখন আবাসন, বাজার ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের কারণে সেগুলো ভরাট হয়ে গেছে। পাশাপাশি পাহাড় কাটার ফলে আলগা মাটি-বালু নেমে নদী-খাল আরও দ্রুত ভরাট হচ্ছে। ফলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে।

খাল খননে সরকারি উদ্যোগ

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) চট্টগ্রামের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজমানুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে কিছু খাল খননের কাজ হয়েছে। এছাড়া সামনে আরেকটি প্রকল্পের আওতায় সব শাখা খাল চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে খনন করা হবে।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচির প্রথম ধাপে বিলীন হয়ে যাওয়া কয়েকটি বড় খাল পুনরায় খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগে বিএডিসিও কাজ করছে। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বন্যার প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

স্থায়ী সমাধানের পথ কী

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাঙ্গু-ডলুসহ সংশ্লিষ্ট নদীর নিয়মিত ড্রেজিং প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রয়োজন শাখা খাল পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, জলাশয় সংরক্ষণ এবং পাহাড় কাটা বন্ধ করা। এর সঙ্গে রেল-সড়ক অবকাঠামোয় পর্যাপ্ত পানি চলাচলের ব্যবস্থা না করলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী মুক্তি সম্ভব নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি কি একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়, সংসদে প্রশ্ন আখতার হোসেনের

চট্টগ্রামে বন্যার, মূল কারণ শুধুই কী বৃষ্টি?

আপডেট সময় : ১১:১৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

বান্দরবানের পাহাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি সঠিকভাবে নিষ্কাশন হতে পারছে না। ফলে বছরের পর বছর ধরে বন্যার কবলে পড়ছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ জনপদ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অতিবৃষ্টি নয়। বরং খাল-নদী ভরাট, দখল, অপরিকল্পিত অবকাঠামো ও প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংসের যৌথ প্রভাবেই স্থায়ী দুর্যোগ-প্রবণ অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে পটিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশ।

বান্দরবানের পাহাড় থেকে উৎপত্তি হওয়া হাঙ্গর খাল লোহাগাড়ার জঙ্গল পদুয়া, ফরিয়াদিকূল এবং সাতকানিয়ার ছদাহা, কেঁওচিয়া ইউনিয়ন হয়ে ডলু খালের সঙ্গে মিশে সাঙ্গু নদীতে গিয়ে পড়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে খালটির শেষাংশ এখন প্রায় অস্তিত্বহীন। কোথাও পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে, আবার কোথাও দখল হয়ে গেছে। এছাড়া কোথাও কোথাও তা সরু নালায় পরিণত হয়েছে। ফলে পাহাড়ি ঢলের পানি নদীতে পৌঁছানোর আগেই লোকালয়ে আটকে যাচ্ছে।

 

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যা: শুধু বৃষ্টি নয়, খাল-নদী ভরাটই মূল কারণ?
দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যা: শুধু বৃষ্টি নয়, খাল-নদী ভরাটই মূল কারণ?

 

ছদাহা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মুজিবুর রহমান জানান, খালের অন্তত তিন কিলোমিটার অংশ এখন নালার মতো হয়ে গেছে। শুকনো মৌসুমে পানি না থাকলেও বর্ষায় পাহাড়ি ঢল নামলে তা নিষ্কাশনের কোনো পথ থাকে না বলে জানান তিনি। তাই দ্রুত খনন না হলে প্রতিবছরই এই সংকট চলবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একই পরিস্থিতি সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের গড়াল খালেরও। তাসনীম ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, দুই দশক আগেও এই খালে নৌকা চলত। কিন্তু এখন তা প্রায় মৃত। তার মতে, শুধু চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনকেই দায়ী করা ঠিক নয়। বরং নদী-খাল, দিঘি-পুকুর ভরাট এবং কৃষিজমিতে অপরিকল্পিত বসতি স্থাপনও পানি নিষ্কাশনের পথ ধ্বংসের বড় কারণ।

দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় ডুবে আছে জনপদ
আগে বন্যার পানি দুই-তিন দিনের মধ্যেই নেমে যেত। কিন্তু এবার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমরসমান, আবার কোথাও বুকসমান পানিতে ডুবে আছে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক। ফলে বহু এলাকায় নৌকাই চলাচলের একমাত্র মাধ্যম।

সাতকানিয়ার পশ্চিম ঢেমশা গ্রামের বাসিন্দা মো. আবদুল কাদের বলেন, ছোটবেলা থেকে বন্যা দেখে এলেও এবারের মতো দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা আগে দেখেননি। তার ভাষায়, পানি বের হওয়ার সব পথ যেন বন্ধ হয়ে গেছে।

 

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যা: শুধু বৃষ্টি নয়, খাল-নদী ভরাটই মূল কারণ?
দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যা: শুধু বৃষ্টি নয়, খাল-নদী ভরাটই মূল কারণ?

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি অংশ মাছের ক্ষতির আশঙ্কায় মিঠাপানি প্রবেশ ঠেকাতে নিষ্কাশন পথ ও স্লুইসগেট বন্ধ করে রেখেছে। যার ফলে পাহাড়ি ঢলের পানি দীর্ঘসময় লোকালয়ে আটকে থাকছে।

নদীর তলদেশে পলি জমা ও জোয়ারের প্রভাব

দীর্ঘদিন নিয়মিত ড্রেজিং না হওয়ায় সাঙ্গু ও ডলু নদীর তলদেশে ব্যাপক বালি-পলি জমেছে। এতে নদীর পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের প্রভাব। কারণ অতিবৃষ্টির সময় সাগরের পানি উঁচু থাকায় বন্যার পানি দ্রুত সাগরে নামতে পারেনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. বরকত আলী বলেন, চট্টগ্রামের বন্যার পেছনে জোয়ার-ভাটার প্রভাব ও মানুষের কার্যক্রম দুটোই দায়ী। রেকর্ড বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের পানি যুক্ত হওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না বলে তিনি জানান। এছাড়া নদী-নালা-পুকুর ভরাট, পাহাড় কাটা ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে পানি প্রবাহের পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়াকেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

 

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনও বন্যার একটি কারণ। কারণ সেখানে পর্যাপ্ত ব্রিজ ও কালভার্ট নেই, যার ফলে পাহাড়ি ঢল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের অস্বাভাবিক তারতম্যও বন্যা পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কমছে প্রাকৃতিক পানি ধারণক্ষমতা

বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত এক দশকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক পানি ধারণক্ষমতা উদ্বেগজনকভাবে কমেছে। একসময় শত শত পুকুর, বিল ও জলাভূমি অতিরিক্ত পানি ধারণ করত। কিন্তু এখন আবাসন, বাজার ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের কারণে সেগুলো ভরাট হয়ে গেছে। পাশাপাশি পাহাড় কাটার ফলে আলগা মাটি-বালু নেমে নদী-খাল আরও দ্রুত ভরাট হচ্ছে। ফলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে।

খাল খননে সরকারি উদ্যোগ

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) চট্টগ্রামের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজমানুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে কিছু খাল খননের কাজ হয়েছে। এছাড়া সামনে আরেকটি প্রকল্পের আওতায় সব শাখা খাল চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে খনন করা হবে।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচির প্রথম ধাপে বিলীন হয়ে যাওয়া কয়েকটি বড় খাল পুনরায় খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগে বিএডিসিও কাজ করছে। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বন্যার প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

স্থায়ী সমাধানের পথ কী

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাঙ্গু-ডলুসহ সংশ্লিষ্ট নদীর নিয়মিত ড্রেজিং প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রয়োজন শাখা খাল পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, জলাশয় সংরক্ষণ এবং পাহাড় কাটা বন্ধ করা। এর সঙ্গে রেল-সড়ক অবকাঠামোয় পর্যাপ্ত পানি চলাচলের ব্যবস্থা না করলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী মুক্তি সম্ভব নয়।