ঢাকা ০৬:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাহাবুদ্দিন-হামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের

সাহাবুদ্দিন-হামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের আবেদনও জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ আজাদ পার্টির অভিযোগ দাখিল

রোববার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ আজাদ পার্টি এই অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়। এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষ প্রাণ হারান। কিন্তু তিন বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সেই সময় প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখেননি।

এছাড়া ৫ আগস্ট পর্যন্ত আয়নাঘর, গুম ও হত্যার মতো ঘটনায়ও তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি। ফলে অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব ঘটনায় তার মৌন সমর্থন ছিল।

পুরনো ঘটনাগুলোও অভিযোগে যুক্ত

ট্রাইব্যুনালে ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ আজাদ পার্টির নেতারা আরও কিছু ঘটনার কথা তুলে ধরেন। পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের সহিংসতা এবং বিভিন্ন গুম-খুনের সময় আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন বলে তারা জানান।

তাদের দাবি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইনে ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ নামে একটি নীতি রয়েছে। এই নীতি অনুসারে, কোনো গণহত্যা বা মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটলে দায়িত্বশীল সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষও জবাবদিহির আওতায় আসতে পারেন।

সে বিবেচনায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতিরা তিন বাহিনীর প্রধান ছিলেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেননি। উপরন্তু তারা তৎকালীন সরকারকে সহযোগিতা ও সুরক্ষা দিয়েছেন। তাই অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

শেখ হাসিনাকে সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে

পাশাপাশি, রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম নামে আরেকটি সংগঠন পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছে। তাদের অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করেছিলেন সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এই বিষয়েও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৃথকভাবে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ব পোশাক বাজারে বাংলাদেশকে টপকে গেল ভিয়েতনাম

সাহাবুদ্দিন-হামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের

আপডেট সময় : ০৪:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের আবেদনও জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ আজাদ পার্টির অভিযোগ দাখিল

রোববার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ আজাদ পার্টি এই অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়। এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষ প্রাণ হারান। কিন্তু তিন বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সেই সময় প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখেননি।

এছাড়া ৫ আগস্ট পর্যন্ত আয়নাঘর, গুম ও হত্যার মতো ঘটনায়ও তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি। ফলে অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব ঘটনায় তার মৌন সমর্থন ছিল।

পুরনো ঘটনাগুলোও অভিযোগে যুক্ত

ট্রাইব্যুনালে ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ আজাদ পার্টির নেতারা আরও কিছু ঘটনার কথা তুলে ধরেন। পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের সহিংসতা এবং বিভিন্ন গুম-খুনের সময় আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন বলে তারা জানান।

তাদের দাবি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইনে ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ নামে একটি নীতি রয়েছে। এই নীতি অনুসারে, কোনো গণহত্যা বা মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটলে দায়িত্বশীল সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষও জবাবদিহির আওতায় আসতে পারেন।

সে বিবেচনায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতিরা তিন বাহিনীর প্রধান ছিলেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেননি। উপরন্তু তারা তৎকালীন সরকারকে সহযোগিতা ও সুরক্ষা দিয়েছেন। তাই অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

শেখ হাসিনাকে সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে

পাশাপাশি, রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম নামে আরেকটি সংগঠন পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছে। তাদের অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করেছিলেন সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এই বিষয়েও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৃথকভাবে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।