ঢাকা ০৫:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইডিসিএল পরিদর্শনে ঔষধ প্রশাসনের নতুন মহাপরিচালক, গুণগত মান রক্ষায় কড়া নির্দেশনা

ইডিসিএল পরিদর্শনে ঔষধ প্রশাসনের নতুন মহাপরিচালক, গুণগত মান রক্ষায় কড়া নির্দেশনা

সরকারি ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) পরিদর্শন করেছেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক মো. আলমগীর হোসেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম এই আনুষ্ঠানিক সফরে তিনি ঔষধের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং কারিগরি দক্ষ জনবল নিয়োগের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।

গত বুধবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ইডিসিএল-এর ঢাকা কারখানা পরিদর্শনে যান মহাপরিচালক। এসময় তিনি উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায় খুঁটিয়ে দেখেন।

পরিদর্শনকালে মহাপরিচালকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ইডিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. আকতার হোসেন ও মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি কারখানার উৎপাদন ইউনিট, মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরি, ঔষধ গুদামজাতকরণ ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। ঔষধের মান যাচাইয়ের পরীক্ষায় নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে তিনি দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করেন।

কারখানার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পর মহাপরিচালক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনটি প্রধান নির্দেশনা প্রদান করেন:

  • আধুনিক প্রযুক্তি: উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

  • প্রশিক্ষণ: কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করতে হবে।

  • সক্ষমতা বৃদ্ধি: দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মহাপরিচালক মো. আলমগীর হোসেন সাফ জানিয়ে দেন, “জনগণের জন্য নিরাপদ, কার্যকর ও মানসম্মত ঔষধ প্রস্তুতের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।”

পরিদর্শনকালে ইডিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আঃ সামাদ মৃধা প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো মহাপরিচালকের সামনে উপস্থাপন করেন। তিনি জানান:

  • ঢাকা কারখানার পাশেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (cGMP) অনুসরণ করে একটি অত্যাধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে।

  • গোপালগঞ্জ কারখানায় অ্যান্টিভেনম, র‍্যাবিস, ডেঙ্গু ও হাম-রুবেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ ভ্যাকসিনের ফিল-ফিনিশ ফ্যাসিলিটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

  • বগুড়া কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং খুলনা প্ল্যান্টে কার্টন তৈরির নতুন ফ্যাসিলিটি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে সরকারের ক্রমবর্ধমান ঔষধের চাহিদা পূরণ এবং মানসম্মত সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অতিরিক্ত সচিব মো. আলমগীর হোসেনকে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

কেবল জাতীয় দলে খেললেই বছরে আয় হবে ৪৯ কোটি টাকা

ইডিসিএল পরিদর্শনে ঔষধ প্রশাসনের নতুন মহাপরিচালক, গুণগত মান রক্ষায় কড়া নির্দেশনা

আপডেট সময় : ০২:০৮:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

সরকারি ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) পরিদর্শন করেছেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক মো. আলমগীর হোসেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম এই আনুষ্ঠানিক সফরে তিনি ঔষধের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং কারিগরি দক্ষ জনবল নিয়োগের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।

গত বুধবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ইডিসিএল-এর ঢাকা কারখানা পরিদর্শনে যান মহাপরিচালক। এসময় তিনি উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায় খুঁটিয়ে দেখেন।

পরিদর্শনকালে মহাপরিচালকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ইডিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. আকতার হোসেন ও মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি কারখানার উৎপাদন ইউনিট, মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরি, ঔষধ গুদামজাতকরণ ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। ঔষধের মান যাচাইয়ের পরীক্ষায় নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে তিনি দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করেন।

কারখানার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পর মহাপরিচালক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনটি প্রধান নির্দেশনা প্রদান করেন:

  • আধুনিক প্রযুক্তি: উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

  • প্রশিক্ষণ: কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করতে হবে।

  • সক্ষমতা বৃদ্ধি: দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মহাপরিচালক মো. আলমগীর হোসেন সাফ জানিয়ে দেন, “জনগণের জন্য নিরাপদ, কার্যকর ও মানসম্মত ঔষধ প্রস্তুতের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।”

পরিদর্শনকালে ইডিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আঃ সামাদ মৃধা প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো মহাপরিচালকের সামনে উপস্থাপন করেন। তিনি জানান:

  • ঢাকা কারখানার পাশেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (cGMP) অনুসরণ করে একটি অত্যাধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে।

  • গোপালগঞ্জ কারখানায় অ্যান্টিভেনম, র‍্যাবিস, ডেঙ্গু ও হাম-রুবেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ ভ্যাকসিনের ফিল-ফিনিশ ফ্যাসিলিটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

  • বগুড়া কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং খুলনা প্ল্যান্টে কার্টন তৈরির নতুন ফ্যাসিলিটি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে সরকারের ক্রমবর্ধমান ঔষধের চাহিদা পূরণ এবং মানসম্মত সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অতিরিক্ত সচিব মো. আলমগীর হোসেনকে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।