বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে মিন্টু শেখ ওরফে মিঠু শেখ (৪৫) নামের এক বিএনপি কর্মীকে বর্বরোচিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার হোগলাপাশা ইউনিয়নের বৌলপুর গ্রামে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। হামলাকারীরা নিহতের ডান হাতটি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত মিঠু শেখ বৌলপুর গ্রামের ওহেদ শেখের পুত্র। তিনি হোগলাপাশা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। সোমবার বিকেলে নিজের বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি কলাক্ষেতের কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তার ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং একপর্যায়ে তার ডান হাতটি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মোরেলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ইয়াদ। তিনি এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, কয়েক বছর আগে মিঠুর চাচাতো ভাই মাস্টার গোলাম রসুলকেও একইভাবে হত্যা করা হয়েছিল। ব্যক্তিগত জীবনে মিঠু শেখ স্ত্রী, দুই ছেলে ও তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মোরেলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বা স্থানীয় বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন।

























