ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ নম্বর জার্সি ফিরে পেলে নেইমার ছোঁবেন পেলেকে

১০ নম্বর জার্সি ফিরে পেলে নেইমার ছোঁবেন পেলেকে

শেষ পর্যন্ত নেইমারকে নিয়ে ধোঁয়াশা কেটে গেছে। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি শেষ মুহূর্তে তাকে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে রেখেছেন। সান্তোস তারকা আবারও ব্রাজিলিয়ান জাতীয় দলের জার্সি পরবেন। তাতে করে পেলের একটি রেকর্ডে ভাগ বসাতে পারেন তিনি। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে চারটি বিশ্বকাপে খেলেছেন ১০ নম্বর জার্সিতে।

নেইমার জাতীয় দলে প্রথমবার ১০ নম্বর জার্সি পরেন ২০১৪ বিশ্বকাপে। পরে ২০১৮ ও ২০২২ সালেও একই সংখ্যার জার্সি পরে বিশ্বমঞ্চে খেলেছেন। ১৩ ম্যাচে আট গোল ও তিন অ্যাসিস্ট তার। আশা করা হচ্ছে, আসন্ন বিশ্বকাপেও পেলের ঐতিহ্য ধরে রাখবেন তিনি।

২০২৩ থেকে নেইমার খেলেননি ব্রাজিলের জার্সিতে। এই সময়ে শেষ খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় দলের ১০ নম্বর জার্সি পরেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মার্চে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ১০ নম্বর জার্সিতে খেলেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। ধরে নেওয়াই যায়, জাতীয় দলে ফেরায় এবার সেই জার্সি আবার ফেরত পাচ্ছেন নেইমার।

২০২৪ সালে কোপা আমেরিকায় ১০ নম্বর জার্সি পরার কথা ছিল রদ্রিগোর। কিন্তু ইনজুরির কারণে স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েন। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে তিনি বলেছিলেন, এই জার্সি তিনি প্রকৃত মালিক নেইমারের জন্য সংরক্ষণ করে রাখছেন।

ওই সময় রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বলেছিলেন, ‘আমি সবসময় এটা পরিষ্কার করতে চাই যে এখন আমি ১০ নম্বর জার্সি পরলেও এটি মূলত তার। আমি শুধু এই মুহূর্তের জন্য পরছি। আমরা তার ফেরার জন্য অপেক্ষা করছি।’

পেলে ব্রাজিলের হয়ে ১০ নম্বর জার্সি পরেছিলেন ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে। ব্রাজিলের প্রথম তিনটি বিশ্বকাপ জিতে এই জার্সিকে অমরত্বের মর্যাদা এনে দেন।

প্রথমবার পেলে এই জার্সি গায়ে দেন আকস্মিকভাবে। ব্রাজিলিয়ান কিংয়ের আগে ১০ নম্বর জার্সির আকর্ষণ তেমন ছিল না। নিজের প্রথম বিশ্বকাপে ১৭ বছর বয়সী সেই কিশোর একের পর এক রেকর্ড যখন ভাঙতে থাকলেন—বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হলেন, ফাইনালে গোল করলেন এবং বিশ্বকাপ জিতলেন, তখন এই ১০ হয়ে দাঁড়াল মর্যাদাপূর্ণ সংখ্যা।

১৯৬২ ও ১৯৬৬ সালে ইনজুরির কারণে পেলের ক্যারিয়ার কিছুটা থমকে গিয়েছিল। তবে ১৯৭০ সালে নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ জিতে শেষটা আরও স্মরণীয় করেন।

১০ নম্বর জার্সিতে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ডে পেলের সঙ্গে ভাগ বসাতে যাচ্ছেন নেইমার। কিন্তু এখন পর্যন্ত ‘দ্য রেই’এর মতো করে শিরোপা ছুঁয়ে দেখা হয়নি। তবে আনচেলত্তি ডাক দেওয়ায় সেলেসাওদের হয়ে সেই আক্ষেপ ঘুচানোর শেষ সুযোগ পাচ্ছেন নেইমার।

যদিও গত বিশ্বকাপের পর থেকে জাতীয় দলের জার্সি খুব একটা গায়ে দিতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। ২০২২ বিশ্বকাপের পর ইনজুরি ও ক্লাব বদল–সব মিলিয়ে এই তারকা জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন মাত্র চার ম্যাচ। শেষবার ২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের হয়ে খেলতে দেখা গেছে তাকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

১০ নম্বর জার্সি ফিরে পেলে নেইমার ছোঁবেন পেলেকে

আপডেট সময় : ০৬:২৪:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

শেষ পর্যন্ত নেইমারকে নিয়ে ধোঁয়াশা কেটে গেছে। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি শেষ মুহূর্তে তাকে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে রেখেছেন। সান্তোস তারকা আবারও ব্রাজিলিয়ান জাতীয় দলের জার্সি পরবেন। তাতে করে পেলের একটি রেকর্ডে ভাগ বসাতে পারেন তিনি। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে চারটি বিশ্বকাপে খেলেছেন ১০ নম্বর জার্সিতে।

নেইমার জাতীয় দলে প্রথমবার ১০ নম্বর জার্সি পরেন ২০১৪ বিশ্বকাপে। পরে ২০১৮ ও ২০২২ সালেও একই সংখ্যার জার্সি পরে বিশ্বমঞ্চে খেলেছেন। ১৩ ম্যাচে আট গোল ও তিন অ্যাসিস্ট তার। আশা করা হচ্ছে, আসন্ন বিশ্বকাপেও পেলের ঐতিহ্য ধরে রাখবেন তিনি।

২০২৩ থেকে নেইমার খেলেননি ব্রাজিলের জার্সিতে। এই সময়ে শেষ খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় দলের ১০ নম্বর জার্সি পরেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মার্চে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ১০ নম্বর জার্সিতে খেলেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। ধরে নেওয়াই যায়, জাতীয় দলে ফেরায় এবার সেই জার্সি আবার ফেরত পাচ্ছেন নেইমার।

২০২৪ সালে কোপা আমেরিকায় ১০ নম্বর জার্সি পরার কথা ছিল রদ্রিগোর। কিন্তু ইনজুরির কারণে স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েন। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে তিনি বলেছিলেন, এই জার্সি তিনি প্রকৃত মালিক নেইমারের জন্য সংরক্ষণ করে রাখছেন।

ওই সময় রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বলেছিলেন, ‘আমি সবসময় এটা পরিষ্কার করতে চাই যে এখন আমি ১০ নম্বর জার্সি পরলেও এটি মূলত তার। আমি শুধু এই মুহূর্তের জন্য পরছি। আমরা তার ফেরার জন্য অপেক্ষা করছি।’

পেলে ব্রাজিলের হয়ে ১০ নম্বর জার্সি পরেছিলেন ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে। ব্রাজিলের প্রথম তিনটি বিশ্বকাপ জিতে এই জার্সিকে অমরত্বের মর্যাদা এনে দেন।

প্রথমবার পেলে এই জার্সি গায়ে দেন আকস্মিকভাবে। ব্রাজিলিয়ান কিংয়ের আগে ১০ নম্বর জার্সির আকর্ষণ তেমন ছিল না। নিজের প্রথম বিশ্বকাপে ১৭ বছর বয়সী সেই কিশোর একের পর এক রেকর্ড যখন ভাঙতে থাকলেন—বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হলেন, ফাইনালে গোল করলেন এবং বিশ্বকাপ জিতলেন, তখন এই ১০ হয়ে দাঁড়াল মর্যাদাপূর্ণ সংখ্যা।

১৯৬২ ও ১৯৬৬ সালে ইনজুরির কারণে পেলের ক্যারিয়ার কিছুটা থমকে গিয়েছিল। তবে ১৯৭০ সালে নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ জিতে শেষটা আরও স্মরণীয় করেন।

১০ নম্বর জার্সিতে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ডে পেলের সঙ্গে ভাগ বসাতে যাচ্ছেন নেইমার। কিন্তু এখন পর্যন্ত ‘দ্য রেই’এর মতো করে শিরোপা ছুঁয়ে দেখা হয়নি। তবে আনচেলত্তি ডাক দেওয়ায় সেলেসাওদের হয়ে সেই আক্ষেপ ঘুচানোর শেষ সুযোগ পাচ্ছেন নেইমার।

যদিও গত বিশ্বকাপের পর থেকে জাতীয় দলের জার্সি খুব একটা গায়ে দিতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। ২০২২ বিশ্বকাপের পর ইনজুরি ও ক্লাব বদল–সব মিলিয়ে এই তারকা জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন মাত্র চার ম্যাচ। শেষবার ২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের হয়ে খেলতে দেখা গেছে তাকে।