জুলাই সনদ নিয়ে জামায়াত মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই মিথ্যাচারের জন্য দেশের জনগণ তাদের কখনোই ক্ষমা করবে না। একই সঙ্গে আগামী দুই বছরের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর থেকে পুনরায় বিমান চলাচল শুরু হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
আজ বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর সচল করার লক্ষ্যে রানওয়েসহ বিভিন্ন অংশ সরেজমিনে পরিদর্শন এবং এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “জুলাই সনদ নিয়ে জামায়াত অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তারা বলছে আমরা নাকি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই না। অথচ আমরাই এই সনদ তৈরি করেছি এবং সংস্কারের উদ্যোগও আমাদেরই। এই মিথ্যাচারের জবাব জনগণ দেবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, দেশের মানুষ জামায়াতকে কখনোই ক্ষমতায় আনবে না। ১৯৭১ সালে তারা আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে এবং মা-বোনদের সম্ভ্রম নষ্ট করেছে। দেশের মানুষ তাদের কোনোভাবেই মেনে নিতে পারে না।”
এলজিআরডি মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের রাজনীতি মূলত মানুষের কল্যাণের জন্য। এখানে কোনো বিভাজন বা সাম্প্রদায়িকতার স্থান থাকবে না। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই মিলেমিশে একসঙ্গে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অর্থ এই নয় যে কেউ দেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্বের বিরুদ্ধে কথা বলবে। দেশের মানুষ তা কখনোই মেনে নেবে না।”
বিমানবন্দরটি চালুর বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মিজ্ আফরোজা খানম রিতা বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, “আমরা পুরো টিম নিয়ে বিমানবন্দরের রানওয়েসহ বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেছি। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী ২ বছরের মধ্যে এটি চালুর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।” তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের এই প্রক্রিয়া চলাকালীন কিছুটা ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেহেতু ওয়াদা করেছেন, সেহেতু বিমানবন্দরটি চালু হবেই। যাবতীয় যাচাই-বাছাই ও পরিকল্পনা ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, এখন কাজ শুরু হবে। আশা করছি আগামী ২ বছরের মধ্যে আপনারা এই বিমানবন্দর থেকে বিমানে চড়ে ঢাকা যেতে পারবেন।”
উক্ত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুর রহমান জাহিদ এবং জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন ও সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলীসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
এ সময় ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেনসহ প্রশাসন ও বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের ঠাকুরগাঁওবাসীর পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা দেওয়া হয়।






















