টানা কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। লাইনের একটি অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় রেল কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আজ সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
রেললাইন নিমজ্জিত ও প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শন
ভারী বর্ষণের ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের জানআলী হাট এবং ষোলোশহর স্টেশনের মধ্যবর্তী শমসের পাড়া এলাকায় প্রায় ৫০০ মিটার রেলপথ এখন পানির নিচে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা মেনে আজ সকালে এই নিমজ্জিত এলাকাটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
পরিদর্শনকালে তিনি ট্রেন চলাচলের সার্বিক অবস্থা, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং সেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন। একই সাথে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের নির্দেশনা দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর এই পরিদর্শনকালে তাঁর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন:
- চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ড. শাহাদাত হোসেন
- চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দিন
- চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম
- বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুবক্তগীনসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
পর্যটক এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল ও ট্রেন চলাচলের বর্তমান অবস্থা
এদিকে, গতকাল ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনটির চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের অংশটুকুর যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। ট্রেনটি আজ বিকেল ৪:০০ টায় চট্টগ্রাম থেকে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রুটে সব ধরনের ট্রেন চলাচল স্থগিত থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং রেললাইন থেকে পানি নেমে যাওয়ার পর পুরো লাইন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পুনরায় এই রুটে ট্রেন চালু করা হবে।
যাত্রীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ও টিকিট রিফান্ড
যেসব যাত্রী পথিমধ্যে আটকে পড়েছেন, তাঁদেরকে ট্রেনের মাধ্যমে ঢাকায় ফিরিয়ে আনার বিশেষ ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
যেসব যাত্রী তাঁদের টিকিটের টাকা ফেরত (রিফান্ড) নিতে চান, তাঁরা সংশ্লিষ্ট স্টেশনের কাউন্টারে যোগাযোগ করে ভাড়ার টাকা তুলে নিতে পারবেন। একই সাথে স্থগিত হওয়া অন্যান্য ট্রেনের যাত্রীরাও কাউন্টার থেকে তাঁদের টিকিটের মূল্য ফেরত পাবেন বলে জানানো হয়েছে।
হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যাত্রীদের সাময়িক ভোগান্তির জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।




















