ঢাকা ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজার ট্রিলিয়ন ডলার ছোঁয়ার পথে: ওমডিয়া

বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজার ট্রিলিয়ন ডলার ছোঁয়ার পথে: ওমডিয়া

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারে বিশ্বজুড়ে চিপের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজার এখন দ্রুত গতিতে প্রবৃদ্ধির নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই বাজারে ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ রেকর্ড প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে এ খাতের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৭৫২ বিলিয়ন ডলারে।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার হিসাব অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে চিপ বাজারের রাজস্ব ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফলে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে মোট আয় দাঁড়াবে ১ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। মূলত এআই অবকাঠামোর দ্রুত চাহিদাই এই বিপুল প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ। বিশেষ করে ডেটা সেন্টার ও এআই সার্ভারে উচ্চ ক্ষমতার প্রসেসিং চিপ ব্যবহার হচ্ছে। তাই চিপ নির্মাতারা তাদের উৎপাদন সক্ষমতা এআই-সম্পর্কিত পণ্যের দিকে সরিয়ে নিচ্ছেন।

মেমোরি চিপের বাজারে অভূতপূর্ব সাড়া

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সেমিকন্ডাক্টর খাতের প্রবৃদ্ধির মূলে ছিল মেমোরি চিপ। গত প্রান্তিকে পুরো চিপ বাজারের অর্ধেকের বেশি রাজস্ব এসেছে মেমোরি আইসি থেকে। কারণ ডিআরএএম ও ন্যান্ড ফ্ল্যাশ মেমোরির চাহিদা বাড়ায় এগুলোর দাম ও বিক্রি উভয়ই বেড়েছে।

নির্মাতারা এখন এআইয়ের জন্য ব্যবহৃত উচ্চ ব্যান্ডউইডথ মেমোরি বা এইচবিএম উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু এর ফলে প্রচলিত ডিআরএএম উৎপাদনে সক্ষমতা কিছুটা কমেছে। বাজারে সরবরাহ সীমিত থাকায় মেমোরি চিপের গড় বিক্রয়মূল্য দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রসেসর খাতের রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়ে প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে মাইক্রোপ্রসেসর বা এমপিইউর রাজস্ব আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেড়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা

ওমডিয়া পূর্বাভাস দিয়েছে, এআই চাহিদার কারণে চলতি বছর বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজার ১ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে। এছাড়া চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি একটি দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দিয়েছে। তারা বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই বৈশ্বিক বাজার ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

টিএসএমসির মতে, ২০৩০ সালের মোট চিপ বাজারের ৫৫ শতাংশই আসবে এআই ও উচ্চ ক্ষমতার কম্পিউটিং খাত থেকে। পাশাপাশি স্মার্টফোন খাত ২০ শতাংশ এবং গাড়ি শিল্প ১০ শতাংশ অবদান রাখবে। এদিকে আন্তর্জাতিক চিপ চাহিদার ইতিবাচক প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়ছে। দক্ষিণ কোরিয়া ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৭ শতাংশ ত্রৈমাসিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজার ট্রিলিয়ন ডলার ছোঁয়ার পথে: ওমডিয়া

বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজার ট্রিলিয়ন ডলার ছোঁয়ার পথে: ওমডিয়া

আপডেট সময় : ১০:২৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারে বিশ্বজুড়ে চিপের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজার এখন দ্রুত গতিতে প্রবৃদ্ধির নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই বাজারে ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ রেকর্ড প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে এ খাতের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৭৫২ বিলিয়ন ডলারে।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার হিসাব অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে চিপ বাজারের রাজস্ব ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফলে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে মোট আয় দাঁড়াবে ১ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। মূলত এআই অবকাঠামোর দ্রুত চাহিদাই এই বিপুল প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ। বিশেষ করে ডেটা সেন্টার ও এআই সার্ভারে উচ্চ ক্ষমতার প্রসেসিং চিপ ব্যবহার হচ্ছে। তাই চিপ নির্মাতারা তাদের উৎপাদন সক্ষমতা এআই-সম্পর্কিত পণ্যের দিকে সরিয়ে নিচ্ছেন।

মেমোরি চিপের বাজারে অভূতপূর্ব সাড়া

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সেমিকন্ডাক্টর খাতের প্রবৃদ্ধির মূলে ছিল মেমোরি চিপ। গত প্রান্তিকে পুরো চিপ বাজারের অর্ধেকের বেশি রাজস্ব এসেছে মেমোরি আইসি থেকে। কারণ ডিআরএএম ও ন্যান্ড ফ্ল্যাশ মেমোরির চাহিদা বাড়ায় এগুলোর দাম ও বিক্রি উভয়ই বেড়েছে।

নির্মাতারা এখন এআইয়ের জন্য ব্যবহৃত উচ্চ ব্যান্ডউইডথ মেমোরি বা এইচবিএম উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু এর ফলে প্রচলিত ডিআরএএম উৎপাদনে সক্ষমতা কিছুটা কমেছে। বাজারে সরবরাহ সীমিত থাকায় মেমোরি চিপের গড় বিক্রয়মূল্য দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রসেসর খাতের রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়ে প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে মাইক্রোপ্রসেসর বা এমপিইউর রাজস্ব আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেড়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা

ওমডিয়া পূর্বাভাস দিয়েছে, এআই চাহিদার কারণে চলতি বছর বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজার ১ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে। এছাড়া চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি একটি দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দিয়েছে। তারা বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই বৈশ্বিক বাজার ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

টিএসএমসির মতে, ২০৩০ সালের মোট চিপ বাজারের ৫৫ শতাংশই আসবে এআই ও উচ্চ ক্ষমতার কম্পিউটিং খাত থেকে। পাশাপাশি স্মার্টফোন খাত ২০ শতাংশ এবং গাড়ি শিল্প ১০ শতাংশ অবদান রাখবে। এদিকে আন্তর্জাতিক চিপ চাহিদার ইতিবাচক প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়ছে। দক্ষিণ কোরিয়া ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৭ শতাংশ ত্রৈমাসিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।