ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের বিদায় ঘণ্টা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে সরিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি এখন টক অফ দ্য টাউন। আইনাঙ্গনসহ সংশ্লিষ্ট মহলে গুঞ্জন উঠেছে যে, তাজুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন আইনজীবী আমিনুল ইসলাম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, চিফ প্রসিকিউটর পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি ইতিমধেই শুরু হয়েছে। নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে আলোচনায় আসা আইনজীবী আমিনুল ইসলাম এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার আইনি লড়াইয়ে যুক্ত ছিলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের পর থেকেই প্রসিকিউশন টিমে রদবদলের বিষয়টি আলোচনায় ছিল। তবে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের একটি ফেসবুক পোস্ট এই জল্পনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে। বার্গম্যান তার পোস্টে দাবি করেছেন যে, সরকার তাজুল ইসলামকে সরিয়ে আমিনুল ইসলামকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমান চিফ প্রসিকিউটরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নতুন করে পুনর্গঠন করা হয়। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাজুল ইসলামকে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদায় চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয়। গত দেড় বছর তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন।

তার অধীনে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে তিনটি মামলার রায় ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব রায়ে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশ প্রধানসহ মোট ২৬ জনকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শহীদ আবু সাঈদ হত্যাসহ আরও দুটি মামলা রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের গুম ও নির্যাতনের একাধিক মামলার বিচার চলছে। মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানসহ সাবেক সরকারের অনেক প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপি বর্তমানে এই ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি। আগামী ৪ মার্চ রামপুরার একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে।

পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে সম্প্রতি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তাজুল ইসলাম জানান, ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতেই চলবে। সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পাননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম নিজস্ব গতিতে চলবে। সরকার সুনির্দিষ্ট কিছু না বললেও বিচারপ্রক্রিয়া চলমান রাখার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনারগাঁওয়ে জুলাই শহীদ দিবসে স্মরণ সভা, ঐক্যের ডাক এমপির

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের বিদায় ঘণ্টা

আপডেট সময় : ০৮:২০:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে সরিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি এখন টক অফ দ্য টাউন। আইনাঙ্গনসহ সংশ্লিষ্ট মহলে গুঞ্জন উঠেছে যে, তাজুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন আইনজীবী আমিনুল ইসলাম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, চিফ প্রসিকিউটর পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি ইতিমধেই শুরু হয়েছে। নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে আলোচনায় আসা আইনজীবী আমিনুল ইসলাম এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার আইনি লড়াইয়ে যুক্ত ছিলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের পর থেকেই প্রসিকিউশন টিমে রদবদলের বিষয়টি আলোচনায় ছিল। তবে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের একটি ফেসবুক পোস্ট এই জল্পনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে। বার্গম্যান তার পোস্টে দাবি করেছেন যে, সরকার তাজুল ইসলামকে সরিয়ে আমিনুল ইসলামকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমান চিফ প্রসিকিউটরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নতুন করে পুনর্গঠন করা হয়। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাজুল ইসলামকে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদায় চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয়। গত দেড় বছর তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন।

তার অধীনে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে তিনটি মামলার রায় ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব রায়ে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশ প্রধানসহ মোট ২৬ জনকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শহীদ আবু সাঈদ হত্যাসহ আরও দুটি মামলা রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের গুম ও নির্যাতনের একাধিক মামলার বিচার চলছে। মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানসহ সাবেক সরকারের অনেক প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপি বর্তমানে এই ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি। আগামী ৪ মার্চ রামপুরার একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে।

পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে সম্প্রতি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তাজুল ইসলাম জানান, ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতেই চলবে। সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পাননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম নিজস্ব গতিতে চলবে। সরকার সুনির্দিষ্ট কিছু না বললেও বিচারপ্রক্রিয়া চলমান রাখার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছে।