ঢাকা ১০:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ বাঙালির আত্মপরিচয়ের দিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস

আজ বাঙালির আত্মপরিচয়ের দিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস

আজ ২ মার্চ, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য গৌরবোজ্জ্বল দিন—জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে প্রথম উত্তোলন করা হয়েছিল স্বাধীন বাংলার লাল-সবুজ পতাকা। সেই মুহূর্তটিই মূলত বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।

উত্তাল মার্চের ঐতিহাসিক সেই মুহূর্ত
১৯৭১ সালের ২ মার্চ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে বাংলার জনতা। তৎকালীন ডাকসু নেতাদের আহ্বানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঢল নামে সর্বস্তরের মানুষের। তৎকালীন ছাত্রনেতাদের উপস্থিতিতে ডাকসুর সহ-সভাপতি আ স ম আবদুর রব প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। ঢাকা তখন পরিণত হয়েছিল মিছিলের নগরীতে।

পতাকার আদি রূপ ও বিবর্তন
তৎকালীন সেই পতাকার রূপ বর্তমানের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন ছিল। সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্তের মাঝখানে সোনালি রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল সেই পতাকায়, যার নকশা করেছিলেন শিব নারায়ণ দাশ। পরবর্তী সময়ে ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি বর্তমান রূপটি (মানচিত্রবিহীন) সরকারিভাবে গৃহীত হয়। শিল্পী কামরুল হাসানের করা এই নকশায় সবুজের মাঝে লাল বৃত্তটি মূলত স্বাধীনতা অর্জনে বাঙালির ত্যাগের ও উদীয়মান সূর্যের প্রতীক।

স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে উজ্জীবিত জনতা
ঐতিহাসিকদের মতে, ২ মার্চের পতাকা উত্তোলনই জানান দিয়েছিল যে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠন ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। ছাত্র সমাজের নেতৃত্বে সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পাকিস্তানের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে বাঙালির বিজয়ের পথ সুগম করে। এর কিছুদিন পরই ২৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ধানমন্ডির বাসভবনে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

ত্যাগ ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক
দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং অগণিত প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয় আমাদের এই প্রিয় লাল-সবুজ পতাকা। স্বাধীনতা যুদ্ধের পুরোটা সময় এই পতাকাই ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণার উৎস। আজকের এই দিনে জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে সেই উত্তাল দিনগুলোকে এবং পতাকার মান রক্ষায় আত্মোৎসর্গকারী বীরদের।

আজ বাঙালির আত্মপরিচয়ের দিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস

আপডেট সময় : ০৮:১৫:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

আজ ২ মার্চ, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য গৌরবোজ্জ্বল দিন—জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে প্রথম উত্তোলন করা হয়েছিল স্বাধীন বাংলার লাল-সবুজ পতাকা। সেই মুহূর্তটিই মূলত বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।

উত্তাল মার্চের ঐতিহাসিক সেই মুহূর্ত
১৯৭১ সালের ২ মার্চ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে বাংলার জনতা। তৎকালীন ডাকসু নেতাদের আহ্বানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঢল নামে সর্বস্তরের মানুষের। তৎকালীন ছাত্রনেতাদের উপস্থিতিতে ডাকসুর সহ-সভাপতি আ স ম আবদুর রব প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। ঢাকা তখন পরিণত হয়েছিল মিছিলের নগরীতে।

পতাকার আদি রূপ ও বিবর্তন
তৎকালীন সেই পতাকার রূপ বর্তমানের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন ছিল। সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্তের মাঝখানে সোনালি রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল সেই পতাকায়, যার নকশা করেছিলেন শিব নারায়ণ দাশ। পরবর্তী সময়ে ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি বর্তমান রূপটি (মানচিত্রবিহীন) সরকারিভাবে গৃহীত হয়। শিল্পী কামরুল হাসানের করা এই নকশায় সবুজের মাঝে লাল বৃত্তটি মূলত স্বাধীনতা অর্জনে বাঙালির ত্যাগের ও উদীয়মান সূর্যের প্রতীক।

স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে উজ্জীবিত জনতা
ঐতিহাসিকদের মতে, ২ মার্চের পতাকা উত্তোলনই জানান দিয়েছিল যে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠন ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। ছাত্র সমাজের নেতৃত্বে সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পাকিস্তানের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে বাঙালির বিজয়ের পথ সুগম করে। এর কিছুদিন পরই ২৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ধানমন্ডির বাসভবনে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

ত্যাগ ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক
দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং অগণিত প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয় আমাদের এই প্রিয় লাল-সবুজ পতাকা। স্বাধীনতা যুদ্ধের পুরোটা সময় এই পতাকাই ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণার উৎস। আজকের এই দিনে জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে সেই উত্তাল দিনগুলোকে এবং পতাকার মান রক্ষায় আত্মোৎসর্গকারী বীরদের।