ঢাকা ০৬:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের ভিভিআইপি ফ্লাইটের বড় ত্রুটি ২৬ কোটি টাকার ক্ষতি

বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজে দফায় দফায় যান্ত্রিক ত্রুটি এবং রক্ষণাবেক্ষণে ভয়াবহ অনিয়মের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। বিমানের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, প্রকৌশল ও নিরাপত্তা বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে এয়ারক্রাফটটি বড় ধরনের ঝুঁকিতে ছিল। উল্লেখ্য, এই একই ত্রুটিপূর্ণ বিমানে গত ২৫ ডিসেম্বর ভিভিআইপি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহন করা হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ৯ ও ১৭ ডিসেম্বর উড়োজাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণ কাজে একাধিক গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। নথিপত্র অনুযায়ী, ১০ ডিসেম্বরের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘণ্টায় শেষ করা হয়, যা এই মডেলের বিমানের জন্য অস্বাভাবিক কম সময়। এছাড়া ত্রুটি নির্ণয় বা কার্যকারিতা পরীক্ষার বিস্তারিত লগ এবং জনবল রেকর্ড উপস্থাপনে ব্যর্থ হওয়াকে বড় ধরনের বিচ্যুতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৫ দিনের মধ্যে একই যান্ত্রিক ত্রুটি তিনবার দেখা দিলেও সেটিকে ‘পুনরাবৃত্তিমূলক ত্রুটি’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি। এমনকি ২১ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে সিলেটগামী বিজি-২০২ ফ্লাইটটি আকাশে থাকা অবস্থায় পুনরায় কারিগরি বিকলতা দেখা দেয়। এতে করে বিমানে অগ্নিকাণ্ড বা গিয়ারবক্সের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

বিমানের এই অব্যবস্থাপনার কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বড় অংকের লোকসান হয়েছে। বারবার যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, অন্য বিমান থেকে পার্টস খুলে আনা এবং অতিরিক্ত জনবল ও পরিবহন ব্যয় মিলিয়ে প্রায় ২৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তদন্ত কমিটি নিশ্চিত করেছে। কমিটির মতে, এটি কেবল যান্ত্রিক সমস্যা নয়, বরং পুরো ব্যবস্থাপনার একটি সমন্বিত ব্যর্থতা।

তদন্তে বিমানের দুই প্রকৌশলী হীরালাল এবং মো. সাইফুজ্জামান খানের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কম ফুয়েল প্রেসারের সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও তারা বিমানটিকে উড়ানের ছাড়পত্র দিয়েছিলেন, যা ছিল একটি গুরুতর সিদ্ধান্তগত ভুল। কমিটি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে।

বিমানের উপপ্রধান প্রকৌশলী (বেস মেইনটেন্যান্স) মো. মনসুরুল আলমের নেতৃত্বে এই তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল মামুন (ব্যবস্থাপক, অর্থ) এবং সদস্য মো. জুবিয়ারুল ইসলাম (উপমহাব্যবস্থাপক, প্রশিক্ষণ)। যদিও প্রতিবেদনটি ইতিমধ্যে জমা পড়েছে, তবে এ বিষয়ে বিমানের সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মার্কিন অবরোধ আলোচনার অন্তরায়, ট্রাম্পকে জানাল পাকিস্তান

তারেক রহমানের ভিভিআইপি ফ্লাইটের বড় ত্রুটি ২৬ কোটি টাকার ক্ষতি

আপডেট সময় : ০৯:১৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজে দফায় দফায় যান্ত্রিক ত্রুটি এবং রক্ষণাবেক্ষণে ভয়াবহ অনিয়মের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। বিমানের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, প্রকৌশল ও নিরাপত্তা বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে এয়ারক্রাফটটি বড় ধরনের ঝুঁকিতে ছিল। উল্লেখ্য, এই একই ত্রুটিপূর্ণ বিমানে গত ২৫ ডিসেম্বর ভিভিআইপি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহন করা হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ৯ ও ১৭ ডিসেম্বর উড়োজাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণ কাজে একাধিক গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। নথিপত্র অনুযায়ী, ১০ ডিসেম্বরের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘণ্টায় শেষ করা হয়, যা এই মডেলের বিমানের জন্য অস্বাভাবিক কম সময়। এছাড়া ত্রুটি নির্ণয় বা কার্যকারিতা পরীক্ষার বিস্তারিত লগ এবং জনবল রেকর্ড উপস্থাপনে ব্যর্থ হওয়াকে বড় ধরনের বিচ্যুতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৫ দিনের মধ্যে একই যান্ত্রিক ত্রুটি তিনবার দেখা দিলেও সেটিকে ‘পুনরাবৃত্তিমূলক ত্রুটি’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি। এমনকি ২১ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে সিলেটগামী বিজি-২০২ ফ্লাইটটি আকাশে থাকা অবস্থায় পুনরায় কারিগরি বিকলতা দেখা দেয়। এতে করে বিমানে অগ্নিকাণ্ড বা গিয়ারবক্সের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

বিমানের এই অব্যবস্থাপনার কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বড় অংকের লোকসান হয়েছে। বারবার যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, অন্য বিমান থেকে পার্টস খুলে আনা এবং অতিরিক্ত জনবল ও পরিবহন ব্যয় মিলিয়ে প্রায় ২৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে তদন্ত কমিটি নিশ্চিত করেছে। কমিটির মতে, এটি কেবল যান্ত্রিক সমস্যা নয়, বরং পুরো ব্যবস্থাপনার একটি সমন্বিত ব্যর্থতা।

তদন্তে বিমানের দুই প্রকৌশলী হীরালাল এবং মো. সাইফুজ্জামান খানের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কম ফুয়েল প্রেসারের সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও তারা বিমানটিকে উড়ানের ছাড়পত্র দিয়েছিলেন, যা ছিল একটি গুরুতর সিদ্ধান্তগত ভুল। কমিটি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে।

বিমানের উপপ্রধান প্রকৌশলী (বেস মেইনটেন্যান্স) মো. মনসুরুল আলমের নেতৃত্বে এই তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল মামুন (ব্যবস্থাপক, অর্থ) এবং সদস্য মো. জুবিয়ারুল ইসলাম (উপমহাব্যবস্থাপক, প্রশিক্ষণ)। যদিও প্রতিবেদনটি ইতিমধ্যে জমা পড়েছে, তবে এ বিষয়ে বিমানের সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।