ঢাকা ০৭:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে দেশের প্রথম বেসরকারি কনটেইনার বন্দর এমজিএইচ টার্মিনাল উদ্বোধন

সোমবার (২০ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সিপিএর বোর্ড রুমে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান এবং এমজিএইচ গ্রুপের সিইও আনিস আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাত একর জমির ওপর নির্মিত এই আধুনিক টার্মিনালে রয়েছে ২৫০ মিটার দীর্ঘ একটি জেটি। এটি একসঙ্গে ৩ হাজার ৫০০ টিইইউএস কনটেইনার ধারণ করতে সক্ষম এবং মাসে প্রায় ৪০ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার খালাস ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং মাসিক ১০২টি জাহাজ হ্যান্ডলিং সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এমজিএইচ টার্মিনালটি দেশের প্রথম গ্রিন পোর্ট বা পরিবেশবান্ধব বন্দর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। টার্মিনালটি সম্পূর্ণ জিরো এমিশন নীতিতে পরিচালিত হবে। কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সব সরঞ্জাম ও প্রাইম মুভার বিদ্যুৎচালিত এবং সোলার রোড প্যানেল ও সোলার ফেন্সিংয়ের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে বছরে প্রায় ২ হাজার ৭০০ টন কার্বন নির্গমন কমানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অবস্থানগত সুবিধার কারণে মোহনা থেকে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে জাহাজ টার্মিনালে ভিড়তে পারবে। যেখানে মূল চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ভিড়তে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে এই টার্মিনাল ব্যবহারে প্রতিটি জাহাজের অন্তত দেড় ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে। এতে জাহাজপ্রতি শূন্য দশমিক ৬ থেকে ১ দশমিক ৩ টন পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব হবে, যা আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা এনে দেবে।

এমজিএইচ গ্রুপের সিইও আনিস আহমেদ জানান, সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য সর্বোচ্চ দক্ষতা নিশ্চিত করা এবং দেশের লজিস্টিকস খাতকে আধুনিক ও গতিশীল করে তোলা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান বলেন, বেসরকারি খাতের দক্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে এই উদ্যোগ দেশের রপ্তানি খাতকে বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমজিএইচ গ্রুপের এই বিনিয়োগ দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, লজিস্টিকস দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মার্কিন অবরোধ আলোচনার অন্তরায়, ট্রাম্পকে জানাল পাকিস্তান

চট্টগ্রামে দেশের প্রথম বেসরকারি কনটেইনার বন্দর এমজিএইচ টার্মিনাল উদ্বোধন

আপডেট সময় : ০৫:৪২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

সোমবার (২০ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সিপিএর বোর্ড রুমে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান এবং এমজিএইচ গ্রুপের সিইও আনিস আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাত একর জমির ওপর নির্মিত এই আধুনিক টার্মিনালে রয়েছে ২৫০ মিটার দীর্ঘ একটি জেটি। এটি একসঙ্গে ৩ হাজার ৫০০ টিইইউএস কনটেইনার ধারণ করতে সক্ষম এবং মাসে প্রায় ৪০ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার খালাস ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং মাসিক ১০২টি জাহাজ হ্যান্ডলিং সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এমজিএইচ টার্মিনালটি দেশের প্রথম গ্রিন পোর্ট বা পরিবেশবান্ধব বন্দর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। টার্মিনালটি সম্পূর্ণ জিরো এমিশন নীতিতে পরিচালিত হবে। কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সব সরঞ্জাম ও প্রাইম মুভার বিদ্যুৎচালিত এবং সোলার রোড প্যানেল ও সোলার ফেন্সিংয়ের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে বছরে প্রায় ২ হাজার ৭০০ টন কার্বন নির্গমন কমানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অবস্থানগত সুবিধার কারণে মোহনা থেকে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে জাহাজ টার্মিনালে ভিড়তে পারবে। যেখানে মূল চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ভিড়তে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে এই টার্মিনাল ব্যবহারে প্রতিটি জাহাজের অন্তত দেড় ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে। এতে জাহাজপ্রতি শূন্য দশমিক ৬ থেকে ১ দশমিক ৩ টন পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব হবে, যা আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা এনে দেবে।

এমজিএইচ গ্রুপের সিইও আনিস আহমেদ জানান, সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য সর্বোচ্চ দক্ষতা নিশ্চিত করা এবং দেশের লজিস্টিকস খাতকে আধুনিক ও গতিশীল করে তোলা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান বলেন, বেসরকারি খাতের দক্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে এই উদ্যোগ দেশের রপ্তানি খাতকে বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমজিএইচ গ্রুপের এই বিনিয়োগ দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, লজিস্টিকস দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।