ঢাকা ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফতুল্লায় পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে নিখোঁজ শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার

ফতুল্লার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে এক শিশুর অর্ধগলিত ও বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে ফতুল্লার ব্যাংক কলোনি এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ ৪-৫ দিন ধরে পড়ে থাকায় নিথর দেহটি অনেকটা পচে গিয়ে বিকৃত হয়ে পড়েছে। পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

উদ্ধারকৃত মরদেহটি নিজের নিখোঁজ সন্তান হোসাইনের (৯) বলে দাবি করেছেন রোকসানা নামে এক নারী। তিনি শহরের চাষাঢ়া এলাকায় ফেরি করে ফুল বিক্রি করেন। রোকসানা জানান, গত ৫-৬ দিন ধরে তার ছেলে নিখোঁজ ছিল। মরদেহের হাতের আঙুল এবং পায়ের জুতা দেখে তিনি এটি হোসাইনের লাশ বলে শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন।

তবে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম জানিয়েছেন, লাশের মুখমণ্ডল ও শরীরের অধিকাংশ অংশ পচে যাওয়ায় চেনার উপায় নেই। তাই নিশ্চিত হওয়ার জন্য তারা প্রযুক্তির সহায়তায় ডিএনএ বা অন্যান্য আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের চেষ্টা করছেন। ওই নারীর তথ্য পুলিশের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যে বাড়িটি থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সেটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বাড়ির প্রধান ফটকে তালা লাগানো থাকলেও মাদকসেবীরা নিয়মিত দেয়াল টপকে ভেতরে যাতায়াত করত। পরিত্যক্ত এই ভবনটি মূলত মাদক কেনাবেচা ও সেবনের আখড়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। বাড়ির মালিকের পরিচয় সম্পর্কে স্থানীয়রা কোনো সঠিক তথ্য দিতে পারেননি।

পরিবার নিয়ে ফতুল্লার তক্কারমাঠ এলাকায় ভাড়া থাকেন রোকসানা। বৃদ্ধা মা ও সন্তানকে নিয়ে তার অভাবের সংসার। জীবন চালাতে চাষাঢ়ার রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ফুল বিক্রি করেন তিনি। মাঝেমধ্যে ছেলে হোসাইনও তার সঙ্গে কাজে যেত। ছেলের নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে দিশেহারা এই মা এখন সন্তানের শেষ চিহ্নটুকু বুঝে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।

ফতুল্লায় পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে নিখোঁজ শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় : ০২:০১:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ফতুল্লার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে এক শিশুর অর্ধগলিত ও বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে ফতুল্লার ব্যাংক কলোনি এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ ৪-৫ দিন ধরে পড়ে থাকায় নিথর দেহটি অনেকটা পচে গিয়ে বিকৃত হয়ে পড়েছে। পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

উদ্ধারকৃত মরদেহটি নিজের নিখোঁজ সন্তান হোসাইনের (৯) বলে দাবি করেছেন রোকসানা নামে এক নারী। তিনি শহরের চাষাঢ়া এলাকায় ফেরি করে ফুল বিক্রি করেন। রোকসানা জানান, গত ৫-৬ দিন ধরে তার ছেলে নিখোঁজ ছিল। মরদেহের হাতের আঙুল এবং পায়ের জুতা দেখে তিনি এটি হোসাইনের লাশ বলে শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন।

তবে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম জানিয়েছেন, লাশের মুখমণ্ডল ও শরীরের অধিকাংশ অংশ পচে যাওয়ায় চেনার উপায় নেই। তাই নিশ্চিত হওয়ার জন্য তারা প্রযুক্তির সহায়তায় ডিএনএ বা অন্যান্য আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের চেষ্টা করছেন। ওই নারীর তথ্য পুলিশের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যে বাড়িটি থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সেটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বাড়ির প্রধান ফটকে তালা লাগানো থাকলেও মাদকসেবীরা নিয়মিত দেয়াল টপকে ভেতরে যাতায়াত করত। পরিত্যক্ত এই ভবনটি মূলত মাদক কেনাবেচা ও সেবনের আখড়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। বাড়ির মালিকের পরিচয় সম্পর্কে স্থানীয়রা কোনো সঠিক তথ্য দিতে পারেননি।

পরিবার নিয়ে ফতুল্লার তক্কারমাঠ এলাকায় ভাড়া থাকেন রোকসানা। বৃদ্ধা মা ও সন্তানকে নিয়ে তার অভাবের সংসার। জীবন চালাতে চাষাঢ়ার রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ফুল বিক্রি করেন তিনি। মাঝেমধ্যে ছেলে হোসাইনও তার সঙ্গে কাজে যেত। ছেলের নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে দিশেহারা এই মা এখন সন্তানের শেষ চিহ্নটুকু বুঝে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।