ঢাকা ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিস্তির টাকা আদায়ে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কিস্তির টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি এনজিও সংস্থা কোডেকের কর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে ৫ টার দিকে উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের গণ্ডামারী গ্রামে ভুক্তভোগী খাইরুন বেগমের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তিনি বর্তমানে কলাপাড়া হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী জানা যায়, পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা খাইরুন বেগমকে চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে, কিল-ঘুষি ও তলপেটে লাথি মারা হয়। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খাইরুন বেগম জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে কোডেক থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তার স্বামী নজির মোল্লা কুয়েতে পাড়ি জমান। তবে বিদেশে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তিনি এখনো কোনো অর্থ পাঠাতে পারেননি। ফলে তিন সন্তান ও গর্ভের অনাগত সন্তানকে নিয়ে চরম সংকটে দিন কাটছে তার। এর মধ্যেই এনজিও কর্মীরা নিয়মিত কিস্তির টাকা আদায়ে চাপ দিচ্ছিলেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি কষ্ট করে দুইটি কিস্তি পরিশোধ করেছি। কিন্তু বাকি টাকা দিতে না পারায় তারা বাড়িতে এসে চাপ সৃষ্টি করে। টাকা না থাকায় সময় চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

এসময় ভুক্তভোগী ওই নারী আরও বলেন, ধানখালী শাখার ম্যানেজার মনির হোসেনসহ কয়েকজন কর্মী তাকে জোর করে অফিসে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বেঁধে রেখে টাকা আদায়ের হুমকি দেন। অসুস্থতার কথা জানালে তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

স্থানীয় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য মালা বেগম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি। অন্তঃসত্ত্বা একজন নারীকে এভাবে মারধর কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

পরিবারের সদস্যরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। খাইরুনের ভাসুর রফিক মোল্লা বলেন, প্রবাসে থাকা আমার ভাই এখনো টাকা পাঠাতে পারেনি। তাই তার স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।

কলাপাড়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ববি মালকার জানান, গৃহবধূর তলপেটে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আলট্রাসনোগ্রামে ভ্রূণ সুস্থ আছে। তবে ঝুঁকি এড়াতে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোডেকের ধানখালী শাখার ম্যানেজার মনির হোসেন। তিনি বলেন, আমরা শুধু তাকে অফিসে আসতে বলেছি। কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। এগুলো সব চক্রান্ত করা হচ্ছে আমাদের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিস্তির টাকা আদায়ে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৩:২০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কিস্তির টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি এনজিও সংস্থা কোডেকের কর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে ৫ টার দিকে উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের গণ্ডামারী গ্রামে ভুক্তভোগী খাইরুন বেগমের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তিনি বর্তমানে কলাপাড়া হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী জানা যায়, পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা খাইরুন বেগমকে চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে, কিল-ঘুষি ও তলপেটে লাথি মারা হয়। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খাইরুন বেগম জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে কোডেক থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তার স্বামী নজির মোল্লা কুয়েতে পাড়ি জমান। তবে বিদেশে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তিনি এখনো কোনো অর্থ পাঠাতে পারেননি। ফলে তিন সন্তান ও গর্ভের অনাগত সন্তানকে নিয়ে চরম সংকটে দিন কাটছে তার। এর মধ্যেই এনজিও কর্মীরা নিয়মিত কিস্তির টাকা আদায়ে চাপ দিচ্ছিলেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি কষ্ট করে দুইটি কিস্তি পরিশোধ করেছি। কিন্তু বাকি টাকা দিতে না পারায় তারা বাড়িতে এসে চাপ সৃষ্টি করে। টাকা না থাকায় সময় চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

এসময় ভুক্তভোগী ওই নারী আরও বলেন, ধানখালী শাখার ম্যানেজার মনির হোসেনসহ কয়েকজন কর্মী তাকে জোর করে অফিসে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বেঁধে রেখে টাকা আদায়ের হুমকি দেন। অসুস্থতার কথা জানালে তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

স্থানীয় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য মালা বেগম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি। অন্তঃসত্ত্বা একজন নারীকে এভাবে মারধর কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

পরিবারের সদস্যরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। খাইরুনের ভাসুর রফিক মোল্লা বলেন, প্রবাসে থাকা আমার ভাই এখনো টাকা পাঠাতে পারেনি। তাই তার স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।

কলাপাড়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ববি মালকার জানান, গৃহবধূর তলপেটে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আলট্রাসনোগ্রামে ভ্রূণ সুস্থ আছে। তবে ঝুঁকি এড়াতে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোডেকের ধানখালী শাখার ম্যানেজার মনির হোসেন। তিনি বলেন, আমরা শুধু তাকে অফিসে আসতে বলেছি। কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। এগুলো সব চক্রান্ত করা হচ্ছে আমাদের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।