কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত এখন চরমে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চরম সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন, ইরান যদি আমেরিকার কোনো জাহাজে আক্রমণ করে, তবে দেশটিকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হবে। এই উত্তেজনার ফলে দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে।
ট্রাম্পের সামরিক শক্তি প্রদর্শন সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইতিহাসের সবচেয়ে উন্নত মানের অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত এবং প্রয়োজন হলে এর সবটুকু ব্যবহার করতে কার্পণ্য করবে না তার প্রশাসন।
‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ও নৌ-সংঘাত হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সম্ভাব্য অবরোধ মোকাবিলা এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামক একটি বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এর মধ্যেই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায় যখন মার্কিন বাহিনী হরমুজের কাছে ইরানের সাতটি ছোট নৌকা গুলি করে ডুবিয়ে দেয়। ট্রাম্পের দাবি, গত সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের হামলার পর এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়।
জলপথে বাণিজ্যিক অচলাবস্থা ওয়াশিংটন দাবি করেছে, তারা সফলভাবে দুটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজকে প্রণালিটি পার করে দিয়েছে। তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ওই অঞ্চলের জলপথে বাণিজ্যিক যাতায়াত এখনো স্বাভাবিক হয়নি এবং অনেকটা স্থগিত অবস্থায় রয়েছে।
সংকটে ৮৭ দেশের জাহাজ মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, সংঘাতের কারণে ওই এলাকায় ৮৭টি ভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ আটকে পড়েছে। তিনি এই জাহাজগুলোকে ‘নিরপরাধ দর্শক’ হিসেবে অভিহিত করেন। কুপার এক বিবৃতিতে জানান, গত ১২ ঘণ্টায় তারা কয়েক ডজন শিপিং কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন যাতে তারা নির্ভয়ে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার শুরু করে। প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী মার্কিন বাহিনী এই সংকীর্ণ বাণিজ্য পথে জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিতে কাজ করে যাচ্ছে।
তবে মার্কিন নিরাপত্তা আশ্বাসের বিপরীতে বিদেশি শিপিং কোম্পানিগুলো এখনই ঝুঁকি নিতে কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।



















