পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড তাদের ব্যবসায়িক ও আর্থিক শক্তিমত্তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা ‘এমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড’ (ইসিআরএল)-এর মূল্যায়নে কোম্পানিটি দীর্ঘমেয়াদে ‘এএ প্লাস’ (AA+) এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’ (ST-1) রেটিং অর্জন করেছে।
মঙ্গলবার (৫ মে, ২০২৬) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের এই ইতিবাচক তথ্য নিশ্চিত করেছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
রবি আজিয়াটা জানিয়েছে, তাদের ব্যবসায়িক ও আর্থিক সক্ষমতার এই মান নির্ধারণে গত ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা চার বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এছাড়া রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত রবির সব ধরনের গুণগত ও পরিমাণগত তথ্য আমলে নিয়েছে রেটিং সংস্থাটি।
রেটিংয়ের তাৎপর্য ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা
আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ও আর্থিক ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনা করেই এই রেটিং দেওয়া হয়।
-
এএ প্লাস (AA+): এর অর্থ হলো কোম্পানিটি তার আর্থিক প্রতিশ্রুতি বা দায়বদ্ধতা পূরণে অত্যন্ত উচ্চ সক্ষমতাসম্পন্ন এবং তাদের ব্যবসায়িক ঝুঁকি বেশ কম।
-
এসটি-১ (ST-1): স্বল্পমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে এই রেটিংটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নির্দেশ করে।
সামগ্রিকভাবে রবির ব্যবসায়িক অবস্থাকে ‘স্থিতিশীল’ (Stable) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উচ্চ রেটিং কোম্পানিটির প্রতি দেশি-বিদেশি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও দৃঢ় করবে।
২০২০ সালে দেশের পুঁজিবাজারে যাত্রা শুরু করা বহুজাতিক এই কোম্পানিটি ব্যবসায়িকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও আজ ডিএসইতে এর শেয়ারের দামে কিছুটা সংশোধন দেখা গেছে। মঙ্গলবার লেনদেনের প্রথম দেড় ঘণ্টায় রবির প্রতিটি শেয়ারের দাম ২০ পয়সা কমে ২৯ টাকা ৮০ পয়সায় নেমেছে।
উল্লেখ্য যে, গত দুই বছরের মধ্যে রবির শেয়ারের সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ৩৫ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে আর্থিক সক্ষমতার এই ইতিবাচক মূল্যায়ন দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারটির অবস্থানে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর রাখছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।



















