ভূমিসেবাকে সম্পূর্ণ দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত করতে সরকার ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালুর বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জনগণকে অত্যন্ত সহজে এবং ভোগান্তিহীনভাবে ভূমিসেবা পৌঁছে দিতে কার্যকর সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকার তেজগাঁওয়ের ভূমি ভবনে তিন দিনব্যাপী ‘ভূমি সেবা মেলা-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সময়ে ভূমির পরিকল্পিত ও সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত অপরিহার্য। এই ব্যবস্থাপনাটিকে আরও আধুনিক ও সহজ করে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে নাগরিকেরা এখন থেকে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অযথা হয়রানির শিকার না হয়েই তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন।
এর আগে সোমবার (১৮ মে) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু জানান, এই মেলার মূল লক্ষ্য হলো জনগণকে ভূমিসেবা সম্পর্কে সচেতন করা এবং সেবা প্রাপ্তি সহজতর করা। অতীতে ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে যে নেতিবাচক ধারণা ছিল, বর্তমান সরকার ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে সেই চিত্রটি পুরোপুরি বদলে দিতে চায়।
মেলার প্রতিপাদ্য ও উদ্দেশ্য
এ বছর ভূমিসেবা মেলার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা: সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ।’
এই মেলার প্রধান উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
-
অটোমেটেড বা স্বয়ংক্রিয় ভূমিসেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করা।
-
নাগরিকদের ভূমি অফিসে না গিয়ে ঘরে বসেই কীভাবে আধুনিক সেবা পাওয়া যায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া।
-
মেলা প্রাঙ্গণ থেকে সরাসরি ভূমিসেবা প্রদান এবং অটোমেটেড সিস্টেম ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা।
-
ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানে উৎসাহিত করার মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা।
-
ভূমিসেবা সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ সরাসরি গ্রহণ করে তাৎক্ষণিক সমাধানের ব্যবস্থা করা।
-
সার্বিকভাবে ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
উল্লেখ্য, তিন দিনব্যাপী এই ভূমিসেবা মেলাটি জাতীয় পর্যায়ে ঢাকার তেজগাঁওয়ের ভূমি ভবন ছাড়াও দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং রাজস্ব সার্কেলে একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


























