ঢাকা ০৮:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) পুলিশ পরিচয়ে এক কাপড় ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং নগদ অর্থসহ মূল্যবান সামগ্রী লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আজ মঙ্গলবার সকালে সোনারগাঁও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মাদক খোঁজার নামে আসবাবপত্র তছনছ ও লুটপাট

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বুরুমদী গ্রামের বাসিন্দা ও কাপড় ব্যবসায়ী রিয়াদ কবিরের বাড়িতে এই হামলা চালানো হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, একই এলাকার পিয়ার হোসেন, মাসুম, শফিকুল ইসলাম, আল-আমিন, লিটন হোসেন ও ফর্মা হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন ব্যক্তি তাদের বাড়িতে চড়াও হয়।

নিজেদের ডিবি পুলিশ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তারা ব্যবসায়ী রিয়াদ কবিরকে মারধর করে। ঘরে মাদক মজুত আছে—এমন দাবি করে তারা পুরো বাড়ির আসবাবপত্র তছনছ করে এবং ঘরে থাকা নগদ ৪ লাখ টাকা লুটে নেয়। পরবর্তীতে মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া আইডি কার্ড ও নতুন হুমকি

হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত একটি পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) ফেলে যায়। সেই কার্ডে ‘অজয় কুমার জয়, পদবী-সেপয়, ডিপার্টমেন্ট অফ নারকোটিক্স কন্ট্রোল বাংলাদেশ’ এবং আইডি ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ রয়েছে।

ঘটনার পর শরীফ হোসেন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিপাহি পরিচয় দিয়ে ওই ফেলে যাওয়া আইডি কার্ডটি ফেরত দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে টেলিফোনে হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত ও অধিদপ্তরের বক্তব্য

তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিপাহি শরীফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, আইডি কার্ড ফেরতের জন্য তিনি কাউকে ফোন করেননি এবং এমন কোনো অভিযানের বিষয়েও তিনি অবগত নন।

অন্যদিকে, প্রধান অভিযুক্ত পিয়ার হোসেনও তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, গত তিন দিন ধরে তিনি ওই এলাকাতেই যাননি এবং প্রশাসনের লোকজনকে রিয়াদের পরিবার মারধর করেছে বলে তিনি শুনেছেন।

পূর্ব শত্রুতার জেরে হয়রানি, পুলিশের তদন্ত শুরু

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রিয়াদ কবিরের দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরে স্থানীয় একটি চক্র পুলিশের সোর্স ব্যবহার করে তাদের পরিবারকে হয়রানি ও হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে। মাদক উদ্ধারের নামে নাটক সাজিয়ে নগদ টাকা লুট করা হয়েছে। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থেই তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।

এই বিষয়ে সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার জানান, ব্যবসায়ীর অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা হয়েছে। ডিবি পুলিশের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা একটি গুরুতর অপরাধ। ঘটনার পেছনের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন গাজায় শিশুদের লক্ষ্য করে ‘গণহত্যা’ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল

ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৫:২৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) পুলিশ পরিচয়ে এক কাপড় ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং নগদ অর্থসহ মূল্যবান সামগ্রী লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আজ মঙ্গলবার সকালে সোনারগাঁও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মাদক খোঁজার নামে আসবাবপত্র তছনছ ও লুটপাট

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বুরুমদী গ্রামের বাসিন্দা ও কাপড় ব্যবসায়ী রিয়াদ কবিরের বাড়িতে এই হামলা চালানো হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, একই এলাকার পিয়ার হোসেন, মাসুম, শফিকুল ইসলাম, আল-আমিন, লিটন হোসেন ও ফর্মা হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন ব্যক্তি তাদের বাড়িতে চড়াও হয়।

নিজেদের ডিবি পুলিশ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তারা ব্যবসায়ী রিয়াদ কবিরকে মারধর করে। ঘরে মাদক মজুত আছে—এমন দাবি করে তারা পুরো বাড়ির আসবাবপত্র তছনছ করে এবং ঘরে থাকা নগদ ৪ লাখ টাকা লুটে নেয়। পরবর্তীতে মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া আইডি কার্ড ও নতুন হুমকি

হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত একটি পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) ফেলে যায়। সেই কার্ডে ‘অজয় কুমার জয়, পদবী-সেপয়, ডিপার্টমেন্ট অফ নারকোটিক্স কন্ট্রোল বাংলাদেশ’ এবং আইডি ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ রয়েছে।

ঘটনার পর শরীফ হোসেন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিপাহি পরিচয় দিয়ে ওই ফেলে যাওয়া আইডি কার্ডটি ফেরত দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে টেলিফোনে হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত ও অধিদপ্তরের বক্তব্য

তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিপাহি শরীফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, আইডি কার্ড ফেরতের জন্য তিনি কাউকে ফোন করেননি এবং এমন কোনো অভিযানের বিষয়েও তিনি অবগত নন।

অন্যদিকে, প্রধান অভিযুক্ত পিয়ার হোসেনও তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, গত তিন দিন ধরে তিনি ওই এলাকাতেই যাননি এবং প্রশাসনের লোকজনকে রিয়াদের পরিবার মারধর করেছে বলে তিনি শুনেছেন।

পূর্ব শত্রুতার জেরে হয়রানি, পুলিশের তদন্ত শুরু

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রিয়াদ কবিরের দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরে স্থানীয় একটি চক্র পুলিশের সোর্স ব্যবহার করে তাদের পরিবারকে হয়রানি ও হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে। মাদক উদ্ধারের নামে নাটক সাজিয়ে নগদ টাকা লুট করা হয়েছে। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থেই তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।

এই বিষয়ে সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার জানান, ব্যবসায়ীর অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা হয়েছে। ডিবি পুলিশের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা একটি গুরুতর অপরাধ। ঘটনার পেছনের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।