ঢাকা ১১:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্রদলের নতুন কমিটি আগামী মার্চের মধ্যেনেতৃত্ব বাছাইয়ে ব্যস্ত ‘সার্চ কমিটি’


বিশেষ প্রতিনিধি:আগামী দিনে আন্দোলন-সংগ্রামের কথা মাথায় রেখে দল পুনর্গঠন দ্রুত শেষ করতে চায় বিএনপি। দীর্ঘ এক দশক ধরে ক্ষমতার বাইরে দলটি এখন সংগঠন গোছানোয় তৎপর। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নতুন কমিটিও ঘোষণা করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ দিনের সিন্ডিকেটনির্ভর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে ভিন্ন আঙ্গিকে সাজাতে চাইছে বিএনপি। এবার ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব বাছাই করছে ‘সার্চ কমিটি’। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজনেরাই এ কমিটিতে রয়েছেন। তারা অতীতের মতো কোনো বিশেষ অঞ্চলকে প্রাধান্য না দিয়ে স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে উঠে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব বাছাই করবেন, যাতে বিগত কমিটি গঠনের পর যে রকম বিদ্রোহ হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি না হয়। এ জন্য লন্ডনে তারেক রহমানের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। সব মিলিয়ে আগামী মার্চের মধ্যেই ছাত্রদলের একটি সময়োপযোগী নতুন কমিটি গঠন করা হবে। যেখানে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও যোগ্যদের মূল্যায়ন করা হবে। নতুন কমিটিতে যারা পদ পাবেন না তাদেরকে স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল বা অন্যান্য অঙ্গসংগঠনে পদ দেয়া হবে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির প্রভাবশালী একটি অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতা ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জানিয়েছেন, ছাত্রদলকে এ মুহূর্তে ঢেলে সাজানো দরকার। বিএনপির হাইকমান্ড এ ব্যাপারে খোঁজখবর রাখছেন। ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে যারা পদ পাবেন না তাদের সমন্বয়ে অন্যান্য সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হবে বলে তিনি জানান।
এ দিকে ছাত্রদলের একটি অংশ কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি করারও দাবি জানাচ্ছে। তাদের মতে, কমিটি গঠনের ধারাবাহিকতা না থাকায় ছাত্রদল এখন বহু গ্রুপে বিভক্ত। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের কোনো বিকল্প নেই। যদিও এ বিষয়ে বিরাট একটি অংশ দ্বিমত পোষণ করেছেন। ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান পাপ্পু বলেন, কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি হলে ভালো হবে। কারণ ছাত্রদলে দীর্ঘ নেতৃত্বের গ্যাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ মুহূর্তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের বিকল্প নেই। তবে কাউন্সিল না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের অক্টোবরে। ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর রাজীব আহসানকে সভাপতি ও মো: আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের ১৫৩ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর ১৬ মাস পর গেল বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। দুই বছর অন্তর ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার কথা রয়েছে তাদের গঠনতন্ত্রে। এর অংশ হিসেবে গত ১৪ অক্টোবর ২০১৬ সালে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখেও নতুন কমিটির দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। বর্তমান কমিটির বেশির ভাগ নেতার ছাত্রত্ব না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে এ কমিটি গঠনের পর থেকেই ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। তা ছাড়া বর্তমান কমিটির শীর্ষ তিনজন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে পদ পেয়েছেন। এ কারণেই ছাত্রদল নেতারা সর্বস্তরে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। এ জন্য সম্প্রতি ছাত্রদলের তিন শতাধিক নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয়ে একত্রিত হয়ে বর্তমান কমিটির প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে এবং অবিলম্বে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।
বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে ছাত্রদল। নতুন কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দিন যতই যাচ্ছে ছাত্রদলের কমিটি গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে আবার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে। এ মুহূর্তে নতুন কমিটির শীর্ষ পদে ঘুরেফিরে কয়েকজনের নামই বেশি আলোচিত হচ্ছে। এদের সবার সাথেই ছাত্রদলের তৃণমূল এবং সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক যোগাযোগ ভালো বলে জানা গেছে। শীর্ষপদের জন্য আলোচনায় আছেন বর্তমান সহসভাপতি নাজমুল হাসান, আলমগীর হাসান সোহান, মামুন বিল্লাহ, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, ইখতিয়ার রহমান কবির, ইসতিয়াক নাসির, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব প্রমুখ। সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক, গোলাম মোস্তফা (ঢাবির সাকে যুগ্ম আহ্বায়ক), বায়েজিদ আরেফিন, শফিকুল ইসলাম শফিক অন্যতম। এদের মধ্যে মফিজুর রহমান আশিক ও গোলাম মোস্তফা বিগত ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে ব্যাপক নির্যাতিত। এ ছাড়া সহ সম্পাদক রাজীব আহসান পাপ্পু, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়া, আন্তর্জাতিক সম্পাদক রাশিদুল ইসলাম রিপনের নামও শোনা যাচ্ছে। এর বাইরেও পদপ্রত্যাশী অন্যরা নিজেদের মতো করে সিনিয়র নেতাদের কাছে গিয়ে লবিং-তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে অপেক্ষাকৃত কম বয়স্কদের রাখার পরিকল্পনা বিএনপি হাইকমান্ডের। এ ক্ষেত্রে শীর্ষ নেতাদের বয়সসীমা কমিয়ে যারা ২০০০-০১ (অনার্স) সেশনের তাদের মধ্য থেকে আগামী কমিটি গঠন করা হবে। তবে বিএনপির একটি মহল এ সিদ্ধান্তের বিরোধী। তাদের মতে, ছাত্রদলের মতো একটি বড় সংগঠনকে বয়সের ফ্রেমে আটকে না রেখে ত্যাগী, দক্ষ ও যোগ্যদের সমন্বয়ে কমিটি হওয়া উচিত। তা না হলে সংগঠনের চেইন অব কমান্ড বজায় থাকে না।
জানা যায়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর টানা আন্দোলনে যায় বিএনপি। এরপর টানা তিন মাসের আন্দোলন শেষে দল গোছানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গত বছরের ১৯ মার্চ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয় ৬ আগস্ট। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরীর কমিটি ঘোষণা করা হয়। ইতোমধ্যে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বশেষ ১৯ জানুয়ারি জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি আংশিক ঘোষণা করা হয়। তবে অন্যতম অঙ্গসংগঠন কৃষক দল, শ্রমিক দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল ও ওলামা দলের কমিটি হয়নি বহু দিন ধরে। ফলে এসব সংগঠনের অবস্থা খুবই নাজুক। যদিও ১৯ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেছে কৃষক দল।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন গাজায় শিশুদের লক্ষ্য করে ‘গণহত্যা’ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল

ছাত্রদলের নতুন কমিটি আগামী মার্চের মধ্যেনেতৃত্ব বাছাইয়ে ব্যস্ত ‘সার্চ কমিটি’

আপডেট সময় : ০৬:৩৬:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৭


বিশেষ প্রতিনিধি:আগামী দিনে আন্দোলন-সংগ্রামের কথা মাথায় রেখে দল পুনর্গঠন দ্রুত শেষ করতে চায় বিএনপি। দীর্ঘ এক দশক ধরে ক্ষমতার বাইরে দলটি এখন সংগঠন গোছানোয় তৎপর। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নতুন কমিটিও ঘোষণা করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ দিনের সিন্ডিকেটনির্ভর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে ভিন্ন আঙ্গিকে সাজাতে চাইছে বিএনপি। এবার ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব বাছাই করছে ‘সার্চ কমিটি’। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজনেরাই এ কমিটিতে রয়েছেন। তারা অতীতের মতো কোনো বিশেষ অঞ্চলকে প্রাধান্য না দিয়ে স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে উঠে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব বাছাই করবেন, যাতে বিগত কমিটি গঠনের পর যে রকম বিদ্রোহ হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি না হয়। এ জন্য লন্ডনে তারেক রহমানের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। সব মিলিয়ে আগামী মার্চের মধ্যেই ছাত্রদলের একটি সময়োপযোগী নতুন কমিটি গঠন করা হবে। যেখানে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও যোগ্যদের মূল্যায়ন করা হবে। নতুন কমিটিতে যারা পদ পাবেন না তাদেরকে স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল বা অন্যান্য অঙ্গসংগঠনে পদ দেয়া হবে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির প্রভাবশালী একটি অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতা ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জানিয়েছেন, ছাত্রদলকে এ মুহূর্তে ঢেলে সাজানো দরকার। বিএনপির হাইকমান্ড এ ব্যাপারে খোঁজখবর রাখছেন। ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে যারা পদ পাবেন না তাদের সমন্বয়ে অন্যান্য সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হবে বলে তিনি জানান।
এ দিকে ছাত্রদলের একটি অংশ কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি করারও দাবি জানাচ্ছে। তাদের মতে, কমিটি গঠনের ধারাবাহিকতা না থাকায় ছাত্রদল এখন বহু গ্রুপে বিভক্ত। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের কোনো বিকল্প নেই। যদিও এ বিষয়ে বিরাট একটি অংশ দ্বিমত পোষণ করেছেন। ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান পাপ্পু বলেন, কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি হলে ভালো হবে। কারণ ছাত্রদলে দীর্ঘ নেতৃত্বের গ্যাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ মুহূর্তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের বিকল্প নেই। তবে কাউন্সিল না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের অক্টোবরে। ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর রাজীব আহসানকে সভাপতি ও মো: আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের ১৫৩ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর ১৬ মাস পর গেল বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। দুই বছর অন্তর ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার কথা রয়েছে তাদের গঠনতন্ত্রে। এর অংশ হিসেবে গত ১৪ অক্টোবর ২০১৬ সালে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখেও নতুন কমিটির দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। বর্তমান কমিটির বেশির ভাগ নেতার ছাত্রত্ব না থাকাসহ বিভিন্ন কারণে এ কমিটি গঠনের পর থেকেই ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। তা ছাড়া বর্তমান কমিটির শীর্ষ তিনজন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে পদ পেয়েছেন। এ কারণেই ছাত্রদল নেতারা সর্বস্তরে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। এ জন্য সম্প্রতি ছাত্রদলের তিন শতাধিক নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয়ে একত্রিত হয়ে বর্তমান কমিটির প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে এবং অবিলম্বে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।
বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে ছাত্রদল। নতুন কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দিন যতই যাচ্ছে ছাত্রদলের কমিটি গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে আবার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে। এ মুহূর্তে নতুন কমিটির শীর্ষ পদে ঘুরেফিরে কয়েকজনের নামই বেশি আলোচিত হচ্ছে। এদের সবার সাথেই ছাত্রদলের তৃণমূল এবং সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক যোগাযোগ ভালো বলে জানা গেছে। শীর্ষপদের জন্য আলোচনায় আছেন বর্তমান সহসভাপতি নাজমুল হাসান, আলমগীর হাসান সোহান, মামুন বিল্লাহ, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, ইখতিয়ার রহমান কবির, ইসতিয়াক নাসির, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব প্রমুখ। সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক, গোলাম মোস্তফা (ঢাবির সাকে যুগ্ম আহ্বায়ক), বায়েজিদ আরেফিন, শফিকুল ইসলাম শফিক অন্যতম। এদের মধ্যে মফিজুর রহমান আশিক ও গোলাম মোস্তফা বিগত ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে ব্যাপক নির্যাতিত। এ ছাড়া সহ সম্পাদক রাজীব আহসান পাপ্পু, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়া, আন্তর্জাতিক সম্পাদক রাশিদুল ইসলাম রিপনের নামও শোনা যাচ্ছে। এর বাইরেও পদপ্রত্যাশী অন্যরা নিজেদের মতো করে সিনিয়র নেতাদের কাছে গিয়ে লবিং-তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে অপেক্ষাকৃত কম বয়স্কদের রাখার পরিকল্পনা বিএনপি হাইকমান্ডের। এ ক্ষেত্রে শীর্ষ নেতাদের বয়সসীমা কমিয়ে যারা ২০০০-০১ (অনার্স) সেশনের তাদের মধ্য থেকে আগামী কমিটি গঠন করা হবে। তবে বিএনপির একটি মহল এ সিদ্ধান্তের বিরোধী। তাদের মতে, ছাত্রদলের মতো একটি বড় সংগঠনকে বয়সের ফ্রেমে আটকে না রেখে ত্যাগী, দক্ষ ও যোগ্যদের সমন্বয়ে কমিটি হওয়া উচিত। তা না হলে সংগঠনের চেইন অব কমান্ড বজায় থাকে না।
জানা যায়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর টানা আন্দোলনে যায় বিএনপি। এরপর টানা তিন মাসের আন্দোলন শেষে দল গোছানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গত বছরের ১৯ মার্চ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয় ৬ আগস্ট। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরীর কমিটি ঘোষণা করা হয়। ইতোমধ্যে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বশেষ ১৯ জানুয়ারি জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি আংশিক ঘোষণা করা হয়। তবে অন্যতম অঙ্গসংগঠন কৃষক দল, শ্রমিক দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল ও ওলামা দলের কমিটি হয়নি বহু দিন ধরে। ফলে এসব সংগঠনের অবস্থা খুবই নাজুক। যদিও ১৯ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেছে কৃষক দল।