ঢাকা ০৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষক দলের কাউন্সিল হয় না ১৯ বছর

কৃষক দলের কাউন্সিল হয় না ১৯ বছর

ঢাকা: দীর্ঘদিন কাউন্সিল না হওয়া ও গতিশীল নেতৃত্বের অভাবে স্থবির বিএনপির অন্যতম অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কার্যক্রম। ফলে রাজপথে সরকারবিরোধী আন্দোলন কিংবা কৃষকদের অধিকার রক্ষার আন্দোলন; কোথাও কোনো ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি সংগঠনটির নেতাকর্মীদের। তবে নেতাদের দাবি, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় সরকার কারাগারে বন্দি রাখায় সংগঠনটির পুনর্গঠন কার্যক্রমে কিছুটা হলেও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কৃষক দলের সর্বশেষ কাউন্সিল হয় ১৯৯৮ সালের ১৬ মে। তখন সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে মাহবুবুল আলম তারা এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাবেক ছাত্রনেতা শামসুজ্জামান দুদু নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে মাহবুবুল আলম তারা আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ায় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান দায়িত্ব নেন। কিন্তু ২০০৭ সালের আগস্টে তার অকাল মৃত্যুতে সংগঠনের দ্বিতীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (বর্তমানে বিএনপির মহাসচিব) সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। যদিও ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে দলের মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পরপরই কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন তিনি।

এছাড়াও কৃষক দলের প্রথমে আহ্বায়ক পরবর্তীতে সভাপতি ছিলেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত মান্নান ভূঁইয়া। তখন থেকেই (১৯৯১ সাল) শামসুজ্জামান দুদু এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ কাউন্সিলে সংগঠনের ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি সারাদেশে ৬৮টি সাংগঠনিক কমিটি করা হয়। যদিও এসব কমিটির সবক’টিই এখন মেয়াদোত্তীর্ণ। অনেক কমিটির দায়িত্বশীল নেতারা পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রীয় বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে চলে এসেছেন। অনেকে জেলা পর্যায়ের দায়িত্বও গ্রহণ করেছেন। আবার অনেকে মারা গেছেন কিংবা নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। এরপরও বহাল রয়েছে একযুগেরও বেশি সময় আগের সেই কমিটি। ২০০৫ সালে গঠিত খোদ ঢাকা মহানগর কমিটিই এখন ‘কাজীর কেতাবে আছে গোয়ালে নেই’ অবস্থা।

এরইমধ্যে আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে কৃষক দলের চতুর্থ কাউন্সিল করার প্রস্তুতি চলছে। কাউন্সিল সম্পর্কে জানতে চাইলে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডিকে বলেন, ‘আমরা ২০০৬ সালে যখন কৃষকদলের কাউন্সিল করার উদ্যোগ নিয়েছি তখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে হঠাৎ করে চলে আসে ১/১১ সরকার। তারপর থেকে বিএনপি নানাভাবে চাপের মধ্যে আছে। ফলে গত ১৪/১৫ বছর ধরে সংগঠনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিয়েও পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছি। তাই সাংগঠনিকভাবে কৃষকদলের কাউন্সিল করা সম্ভব হয়নি। এখন আবারও আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, যদিও নানা অসহযোগিতা আছে। আবেদন করার পরও কাউন্সিল করার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত পুলিশের অনুমতি (ক্লিয়ারেন্স) পাইনি। তারপরেও চেষ্টা করছি।’

নেতৃত্বে থাকতে চান কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কাউন্সিল একটা ফ্যাক্টর, যারা কাউন্সিলর তারা যদি চায়…। তাছাড়া আমি তো দীর্ঘদিন যাবৎ এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, স্বাভাবিকভাবেই একটা প্রত্যাশা, আশা থাকে যে সভাপতি হিসেবে বিদায় নেবো।’

বিএনপির ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিলো ‘এক নেতার এক পদ’। বিষয়টি তুলে ধরা হলে দুদু বলেন, ‘বিশেষ বিবেচনায় এখনও একজন একাধিক পদে আছেন। কারণ দলের চেয়ারপারসন যাকে উপযুক্ত বা প্রয়োজন মনে করবেন তাকে একাধিক পদেও রাখতে পারেন।’

কৃষক দল নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতামত জনতে চাইলে তারা বলেন, ‘কৃষক দলের নেতৃত্বে কে বা কারা আসবেন সেটা জানি না, বুঝতেও চাই না। শুধু আমরা যারা শহীদ জিয়ার আদর্শের রাজনীতি করি এবং আমৃত্যু রাজনীতি করে যাবো; তাদের একটাই চাওয়া অতি দ্রুত কৃষকদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হোক।’

তবে তাদের দাবি, কৃষক দলের নতুন কমিটি হতে হবে সরাসরি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনুমোদিত। তাদের মতে, কৃষক দলই একমাত্র সংগঠন যেখানে নেতৃত্ব নিয়ে কোনো অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বিশৃঙ্খলা নেই।

কৃষক দল সূত্রে জানা যায়, কৃষক দলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন দলটির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন এবং বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম। আর সভাপতি ছিলেন আরেক প্রয়াত মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া। এমনকি বিএনপির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এই কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে বিএনপি নেতারা মনে করেন কৃষক দলের সভাপতির চেয়ারটি এক ধরনের ম্যাজিকাল চেয়ার। এ পদে দায়িত্ব পালন করার পর তাদের পদোন্নতি হয়েছে বিগত দিনে। দলের মহাসচিব পর্যায়ের সব নেতা কৃষক দল থেকেই পদায়ন পেয়েছিলেন। তাই অনেক নেতাই চাইবেন এ পদটি নেয়ার জন্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষক দলের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন,‘কৃষক দলকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু একক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কেন্দ্র থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির পাশাপাশি দীর্ঘদিনের আহ্বায়ক কমিটিও রয়ে গেছে। অভিযোগ উঠেছে, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম না থাকায় মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন। অনেকেই বৃদ্ধ হয়ে যাওয়া, দল থেকে বহিষ্কার ও মারা যাওয়ার ফলে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে কমিটির ভেতরে। শুধু তাই নয়, সংগঠনটির প্রভাবশালী কিছু নেতার কারণেই দীর্ঘদিন ধরে কোনো কাউন্সিল হচ্ছে না। ফলে সংগঠনটির ভেতরে কোনো গণতন্ত্রিক চর্চাও নেই। এমনকি এ সংগঠন কার্যক্রমের দিক থেকে দিন দিন যেন ব্যক্তিকেন্দ্রিক সংগঠনে পরিণত হচ্ছে। এমনকি যে কাউন্সিল হওয়ার কথা উঠেছে সেটিও লোক দেখানো ছাড়া কিছুই নয়। মূলত নেতৃত্ব ধরে রাখতেই এ কাউন্সিল করার পায়তারা।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষক দলের চতুর্থ কাউন্সিলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। প্রধান বক্তা থাকবেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পুনর্গঠনের ধারাবাহিকতায় কৃষক দলের নতুন কমিটি খুব শিগগিরই ঘোষণা করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আর সেক্ষেত্রে কমিটির নেতৃত্বে নবীন ও প্রবীণের সমন্বয় ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি সংগঠনের গতি বাড়াতে কৃষক দলের বাইরে থেকে কাউকে এনেও নেতৃত্ব দিতে পারেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের হয়ে যুদ্ধে নামতো চীন-রাশিয়া-তুরস্ক, আমি থামিয়েছি: ট্রাম্প

কৃষক দলের কাউন্সিল হয় না ১৯ বছর

আপডেট সময় : ০৫:৩৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

কৃষক দলের কাউন্সিল হয় না ১৯ বছর

ঢাকা: দীর্ঘদিন কাউন্সিল না হওয়া ও গতিশীল নেতৃত্বের অভাবে স্থবির বিএনপির অন্যতম অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কার্যক্রম। ফলে রাজপথে সরকারবিরোধী আন্দোলন কিংবা কৃষকদের অধিকার রক্ষার আন্দোলন; কোথাও কোনো ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি সংগঠনটির নেতাকর্মীদের। তবে নেতাদের দাবি, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় সরকার কারাগারে বন্দি রাখায় সংগঠনটির পুনর্গঠন কার্যক্রমে কিছুটা হলেও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কৃষক দলের সর্বশেষ কাউন্সিল হয় ১৯৯৮ সালের ১৬ মে। তখন সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে মাহবুবুল আলম তারা এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাবেক ছাত্রনেতা শামসুজ্জামান দুদু নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে মাহবুবুল আলম তারা আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ায় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান দায়িত্ব নেন। কিন্তু ২০০৭ সালের আগস্টে তার অকাল মৃত্যুতে সংগঠনের দ্বিতীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (বর্তমানে বিএনপির মহাসচিব) সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। যদিও ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে দলের মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পরপরই কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন তিনি।

এছাড়াও কৃষক দলের প্রথমে আহ্বায়ক পরবর্তীতে সভাপতি ছিলেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত মান্নান ভূঁইয়া। তখন থেকেই (১৯৯১ সাল) শামসুজ্জামান দুদু এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ কাউন্সিলে সংগঠনের ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি সারাদেশে ৬৮টি সাংগঠনিক কমিটি করা হয়। যদিও এসব কমিটির সবক’টিই এখন মেয়াদোত্তীর্ণ। অনেক কমিটির দায়িত্বশীল নেতারা পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রীয় বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে চলে এসেছেন। অনেকে জেলা পর্যায়ের দায়িত্বও গ্রহণ করেছেন। আবার অনেকে মারা গেছেন কিংবা নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। এরপরও বহাল রয়েছে একযুগেরও বেশি সময় আগের সেই কমিটি। ২০০৫ সালে গঠিত খোদ ঢাকা মহানগর কমিটিই এখন ‘কাজীর কেতাবে আছে গোয়ালে নেই’ অবস্থা।

এরইমধ্যে আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে কৃষক দলের চতুর্থ কাউন্সিল করার প্রস্তুতি চলছে। কাউন্সিল সম্পর্কে জানতে চাইলে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডিকে বলেন, ‘আমরা ২০০৬ সালে যখন কৃষকদলের কাউন্সিল করার উদ্যোগ নিয়েছি তখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে হঠাৎ করে চলে আসে ১/১১ সরকার। তারপর থেকে বিএনপি নানাভাবে চাপের মধ্যে আছে। ফলে গত ১৪/১৫ বছর ধরে সংগঠনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিয়েও পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছি। তাই সাংগঠনিকভাবে কৃষকদলের কাউন্সিল করা সম্ভব হয়নি। এখন আবারও আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, যদিও নানা অসহযোগিতা আছে। আবেদন করার পরও কাউন্সিল করার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত পুলিশের অনুমতি (ক্লিয়ারেন্স) পাইনি। তারপরেও চেষ্টা করছি।’

নেতৃত্বে থাকতে চান কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কাউন্সিল একটা ফ্যাক্টর, যারা কাউন্সিলর তারা যদি চায়…। তাছাড়া আমি তো দীর্ঘদিন যাবৎ এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, স্বাভাবিকভাবেই একটা প্রত্যাশা, আশা থাকে যে সভাপতি হিসেবে বিদায় নেবো।’

বিএনপির ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিলো ‘এক নেতার এক পদ’। বিষয়টি তুলে ধরা হলে দুদু বলেন, ‘বিশেষ বিবেচনায় এখনও একজন একাধিক পদে আছেন। কারণ দলের চেয়ারপারসন যাকে উপযুক্ত বা প্রয়োজন মনে করবেন তাকে একাধিক পদেও রাখতে পারেন।’

কৃষক দল নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতামত জনতে চাইলে তারা বলেন, ‘কৃষক দলের নেতৃত্বে কে বা কারা আসবেন সেটা জানি না, বুঝতেও চাই না। শুধু আমরা যারা শহীদ জিয়ার আদর্শের রাজনীতি করি এবং আমৃত্যু রাজনীতি করে যাবো; তাদের একটাই চাওয়া অতি দ্রুত কৃষকদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হোক।’

তবে তাদের দাবি, কৃষক দলের নতুন কমিটি হতে হবে সরাসরি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনুমোদিত। তাদের মতে, কৃষক দলই একমাত্র সংগঠন যেখানে নেতৃত্ব নিয়ে কোনো অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বিশৃঙ্খলা নেই।

কৃষক দল সূত্রে জানা যায়, কৃষক দলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন দলটির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন এবং বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম। আর সভাপতি ছিলেন আরেক প্রয়াত মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া। এমনকি বিএনপির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এই কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে বিএনপি নেতারা মনে করেন কৃষক দলের সভাপতির চেয়ারটি এক ধরনের ম্যাজিকাল চেয়ার। এ পদে দায়িত্ব পালন করার পর তাদের পদোন্নতি হয়েছে বিগত দিনে। দলের মহাসচিব পর্যায়ের সব নেতা কৃষক দল থেকেই পদায়ন পেয়েছিলেন। তাই অনেক নেতাই চাইবেন এ পদটি নেয়ার জন্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষক দলের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন,‘কৃষক দলকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু একক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কেন্দ্র থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির পাশাপাশি দীর্ঘদিনের আহ্বায়ক কমিটিও রয়ে গেছে। অভিযোগ উঠেছে, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম না থাকায় মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন। অনেকেই বৃদ্ধ হয়ে যাওয়া, দল থেকে বহিষ্কার ও মারা যাওয়ার ফলে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে কমিটির ভেতরে। শুধু তাই নয়, সংগঠনটির প্রভাবশালী কিছু নেতার কারণেই দীর্ঘদিন ধরে কোনো কাউন্সিল হচ্ছে না। ফলে সংগঠনটির ভেতরে কোনো গণতন্ত্রিক চর্চাও নেই। এমনকি এ সংগঠন কার্যক্রমের দিক থেকে দিন দিন যেন ব্যক্তিকেন্দ্রিক সংগঠনে পরিণত হচ্ছে। এমনকি যে কাউন্সিল হওয়ার কথা উঠেছে সেটিও লোক দেখানো ছাড়া কিছুই নয়। মূলত নেতৃত্ব ধরে রাখতেই এ কাউন্সিল করার পায়তারা।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষক দলের চতুর্থ কাউন্সিলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। প্রধান বক্তা থাকবেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পুনর্গঠনের ধারাবাহিকতায় কৃষক দলের নতুন কমিটি খুব শিগগিরই ঘোষণা করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আর সেক্ষেত্রে কমিটির নেতৃত্বে নবীন ও প্রবীণের সমন্বয় ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি সংগঠনের গতি বাড়াতে কৃষক দলের বাইরে থেকে কাউকে এনেও নেতৃত্ব দিতে পারেন বিএনপি চেয়ারপারসন।