ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের তেল রপ্তানি কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা

ইরানের প্রধান জ্বালানি রপ্তানি কেন্দ্র ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ‘খারগ দ্বীপ’-এ ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় শুক্রবার গভীর রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সামরিক অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইরানের জ্বালানি খাতের ‘মুকুটের মণি’ হিসেবে পরিচিত এই দ্বীপে হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ভোরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প এই অভিযান নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বোমা হামলা চালিয়ে দ্বীপটির সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, হামলায় দ্বীপটির তেল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দাবি বাস্তবসম্মত নয়। কারণ ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ক্ষুদ্র দ্বীপটি দিয়েই দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়।

হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি অর্থনীতিবিদ এড হিরস জানিয়েছেন, খারগ দ্বীপ আয়তনে অত্যন্ত ছোট। জেপি মরগানের এক নোট অনুযায়ী, এটি নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। এত ছোট জায়গায় সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে তেল রপ্তানি অবকাঠামো অক্ষত রাখা প্রায় অসম্ভব।

বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বীপে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের আঘাত হানবে।

খারগ দ্বীপে এই ভয়াবহ হামলার পর তেহরানে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডেকেছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব। অন্যদিকে, ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তিনি এখনো দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে ইরান যদি পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তবে তিনি তেল অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবেন।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন যে, শুক্রবার রাতেই ইরানে সর্বোচ্চ হামলা চালানো হবে। সেই ধারাবাহিকতাতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে পোশাক কারখানায় পানি পান করে শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ

ইরানের তেল রপ্তানি কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা

আপডেট সময় : ১১:০৭:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

ইরানের প্রধান জ্বালানি রপ্তানি কেন্দ্র ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ‘খারগ দ্বীপ’-এ ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় শুক্রবার গভীর রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সামরিক অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইরানের জ্বালানি খাতের ‘মুকুটের মণি’ হিসেবে পরিচিত এই দ্বীপে হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ভোরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প এই অভিযান নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বোমা হামলা চালিয়ে দ্বীপটির সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, হামলায় দ্বীপটির তেল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দাবি বাস্তবসম্মত নয়। কারণ ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ক্ষুদ্র দ্বীপটি দিয়েই দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়।

হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি অর্থনীতিবিদ এড হিরস জানিয়েছেন, খারগ দ্বীপ আয়তনে অত্যন্ত ছোট। জেপি মরগানের এক নোট অনুযায়ী, এটি নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। এত ছোট জায়গায় সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে তেল রপ্তানি অবকাঠামো অক্ষত রাখা প্রায় অসম্ভব।

বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বীপে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের আঘাত হানবে।

খারগ দ্বীপে এই ভয়াবহ হামলার পর তেহরানে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডেকেছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব। অন্যদিকে, ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তিনি এখনো দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে ইরান যদি পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তবে তিনি তেল অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবেন।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন যে, শুক্রবার রাতেই ইরানে সর্বোচ্চ হামলা চালানো হবে। সেই ধারাবাহিকতাতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।