ঢাকা ০৪:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাইলটকে উদ্ধারের আড়ালে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র

বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারের নামে ইরান থেকে ‘সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির’ অপচেষ্টা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি মার্কিন বাহিনীর চালানো একটি বিশেষ সামরিক অভিযান নিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে তেহরান। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করা হয়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মার্কিন এই অভিযানকে রহস্যজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারের আড়ালে মূলত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির লক্ষ্য ছিল ওয়াশিংটনের।

তিনি আরও বলেন, এই পুরো সামরিক প্রক্রিয়াটি নিয়ে অনেক প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এটি যে কেবল একটি উদ্ধার অভিযান ছিল না, বরং ইউরেনিয়াম হাতিয়ে নেওয়ার একটি ‘প্রতারণামূলক কৌশল’ ছিল—এমন সম্ভাবনাকে কোনোভাবেই উড়িয়ে দিচ্ছে না তেহরান।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, যে এলাকায় মার্কিন পাইলট অবস্থান করছেন বলে দাবি করা হয়েছিল, তার সাথে মার্কিন বাহিনীর অবতরণস্থলের বিশাল দূরত্ব রয়েছে। ইসমাইল বাঘাই জানান, কোহগিলুয়ে ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশের যে স্থানে পাইলট ছিলেন বলা হচ্ছে, সেটি ইরানের সেই অঞ্চল থেকে অনেক দূরে যেখানে মার্কিন বাহিনী নামার চেষ্টা করেছিল। ভৌগোলিক এই অসংগতিই চুরির সন্দেহে ঘি ঢেলেছে।

এর আগে গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, গত শুক্রবার ইরানে বিধ্বস্ত হওয়া একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অভিযানকে তিনি ‘সাহসী’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

তবে ওয়াশিংটনের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনীর সেই অনুপ্রবেশের চেষ্টা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে।

ইব্রাহিম জুলফাগারি আরও দাবি করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দক্ষিণ ইসফাহানে যৌথ অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু মার্কিন বিমান ধ্বংস করেছে। পাইলটকে বের করে নেওয়ার জন্য মার্কিন বাহিনী মরিয়া হয়ে ইরানের মধ্যাঞ্চলে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল, কিন্তু ইরানি বাহিনীর তড়িৎ পদক্ষেপের কারণে সেই মিশন ব্যর্থ হয়।

পাইলটকে উদ্ধারের আড়ালে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় : ০৫:৩৫:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারের নামে ইরান থেকে ‘সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির’ অপচেষ্টা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি মার্কিন বাহিনীর চালানো একটি বিশেষ সামরিক অভিযান নিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে তেহরান। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করা হয়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মার্কিন এই অভিযানকে রহস্যজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধারের আড়ালে মূলত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির লক্ষ্য ছিল ওয়াশিংটনের।

তিনি আরও বলেন, এই পুরো সামরিক প্রক্রিয়াটি নিয়ে অনেক প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এটি যে কেবল একটি উদ্ধার অভিযান ছিল না, বরং ইউরেনিয়াম হাতিয়ে নেওয়ার একটি ‘প্রতারণামূলক কৌশল’ ছিল—এমন সম্ভাবনাকে কোনোভাবেই উড়িয়ে দিচ্ছে না তেহরান।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, যে এলাকায় মার্কিন পাইলট অবস্থান করছেন বলে দাবি করা হয়েছিল, তার সাথে মার্কিন বাহিনীর অবতরণস্থলের বিশাল দূরত্ব রয়েছে। ইসমাইল বাঘাই জানান, কোহগিলুয়ে ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশের যে স্থানে পাইলট ছিলেন বলা হচ্ছে, সেটি ইরানের সেই অঞ্চল থেকে অনেক দূরে যেখানে মার্কিন বাহিনী নামার চেষ্টা করেছিল। ভৌগোলিক এই অসংগতিই চুরির সন্দেহে ঘি ঢেলেছে।

এর আগে গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, গত শুক্রবার ইরানে বিধ্বস্ত হওয়া একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অভিযানকে তিনি ‘সাহসী’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

তবে ওয়াশিংটনের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনীর সেই অনুপ্রবেশের চেষ্টা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে।

ইব্রাহিম জুলফাগারি আরও দাবি করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দক্ষিণ ইসফাহানে যৌথ অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু মার্কিন বিমান ধ্বংস করেছে। পাইলটকে বের করে নেওয়ার জন্য মার্কিন বাহিনী মরিয়া হয়ে ইরানের মধ্যাঞ্চলে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল, কিন্তু ইরানি বাহিনীর তড়িৎ পদক্ষেপের কারণে সেই মিশন ব্যর্থ হয়।