জ্বালানি তেলের বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘ফুয়েল পাস’ নামে নতুন একটি মোবাইল অ্যাপভিত্তিক সেবা চালু করেছে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি অস্থিরতা মোকাবিলায় এবং কৃত্রিম সংকট রোধে এই ডিজিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন পদ্ধতি চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকার দুটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে এই সুবিধা উন্মুক্ত করা হয়েছে।
ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে তেল বিতরণের ফলে সৃষ্টি হওয়া দীর্ঘ যানজট এবং একই ব্যক্তির বারবার তেল সংগ্রহ করে কৃত্রিম সংকট তৈরির পথ বন্ধ করতে এই কিউআর (QR) কোড ভিত্তিক ব্যবস্থা আনা হয়েছে।
এই পদ্ধতিতে প্রতিটি নিবন্ধিত চালকের জন্য একটি নির্দিষ্ট কিউআর কোড থাকবে। পাম্পে তেল নেওয়ার সময় এই কোড স্ক্যান করার মাধ্যমে নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করা যাবে। এর ফলে একদিকে যেমন বিতরণে স্বচ্ছতা আসবে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয়ভাবে পুরো দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের এই পাইলট প্রকল্পটি বর্তমানে রাজধানীর দুটি স্থানে চালু রয়েছে:
-
তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন
-
আসাদগেটের সোনার বাংলা ফুয়েল স্টেশন
এই দুটি স্টেশনে পাইলটিং সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব ধরনের যানবাহনের জন্য এই ডিজিটাল সেবা চালু করা হবে।
নিবন্ধনের সহজ নিয়ম
যাদের কাছে স্মার্টফোন আছে, তারা খুব সহজেই নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে নিবন্ধন করতে পারবেন: ১. গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘Fuel Pass’ অ্যাপটি ডাউনলোড করে ইনস্টল করুন। ২. অ্যাপে প্রবেশ করে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন। ৩. এরপর মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করুন। ৪. পাসওয়ার্ড সেট করে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।
যাদের স্মার্টফোন নেই, তাদের জন্যও বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তারা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করে নিজেদের কিউআর কোডটি ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে ব্যবহার করতে পারবেন।
বিআরটিএ ডাটাবেজের সাথে সংযোগ
উল্লেখ্য যে, এই ডিজিটাল সিস্টেমটি সরাসরি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (BRTA) কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর ফলে যানবাহনের তথ্য যাচাই করা সহজ হবে এবং অবৈধ বা অনিবন্ধিত যানের জ্বালানি সংগ্রহ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ডিজিটাল রূপান্তর জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।



























