স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ বাণিজ্য ও সাবেক এক পরিচালকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অভিযোগ অনুসন্ধানে দফায় দফায় চিঠি দিয়ে নিয়োগ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। সর্বশেষ গত সপ্তাহে চাহিদা দেওয়া নথি পেতে তাগিদপত্র দিয়ে আবারও চিঠি দিয়েছেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন।
এর আগে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর থেকে অন্তত দুই দফায় নথিপত্র তলব করে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ডা. মো. শামিউল ইসলাম সাদীর বিরুদ্ধে বদলির আগ মুহূর্তে নজিরবিহীন অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্যে ৪০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অবৈধভাবে শতকোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় নথি জরুরি ভিত্তিতে পাঠানোর অনুরোধ করা হয় অধিদপ্তরে। কিন্তু কয়েকবার চিঠি দিয়েও নথি পাওয়া যায়নি। যে কারণে অনুসন্ধান কর্মকর্তা দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে পারছেন না।
দুদক থেকে পাঠানো চিঠিতে চাহিদা রেকর্ডপত্রের মধ্যে রয়েছে- ২০২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মেডিকেল টেকনিশিয়ান নিয়োগ সংক্রান্ত ১৬১ জন পরীক্ষার্থীর আবেদনপত্র, প্রিলি-লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের হাজির শিট, প্রিলি-লিখিত পরীক্ষায় মূল্যায়িত খাতা, ভাইভা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের হাজিরা শিট ও প্রাপ্ত নম্বর, চূড়ান্ত ফল শিট এবং চূড়ান্ত নিয়োগপত্র। এছাড়া নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো তদন্ত করা হয়েছে কিনা এবং হয়ে থাকলে বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন ইত্যাদি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী থাকাকালে দেশে জরুরি ভিত্তিতে ৮৮৯ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ১৮০০ জন মেডিকেল টেকনিশিয়ান নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। শুরুতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তীতে দুর্নীতির বড় ধরনের অভিযোগ উঠতে থাকে। অভিযোগের প্রধান তীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (প্রশাসন) ডা. শামিউল ইসলাম সাদীর নেতৃত্বে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।
আরো জানা যায়, ২০২৩ সালে ৩০ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা করে মোট ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত কাউকেই নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, ২০২০ সালের জুনে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে ওই সিন্ডিকেট কয়েকশ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন করে। যেখানে তৎকালীন উপপরিচালক (প্রশাসন) আ ফ ম আখতার হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটে ডা. সাদী ছাড়াও আরও কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী যুক্ত ছিলেন। তারা বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতিসহ প্রশাসনিক নানা কার্যক্রমেও তদবির বাণিজ্য চালাতেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরবর্তীতে পরীক্ষা ছাড়াই ১৪৫ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে বিশেষ ব্যবস্থায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সেখানেও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ। দুদকের অভিযোগ বলছে, ডা. শামিউল ইসলাম সাদীর উত্থান ঘটে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সময়। বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন। প্রতিটি নিয়োগে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে। অনেকে চাকরি না পেয়ে ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। এরই মধ্যে দুদকে অভিযোগ দাখিল করে ভুক্তভোগী সাদীসহ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য-উপাত্ত দিয়েছেন।



























