ঢাকা ১১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় ৮০ শতাংশ ছাড় দিতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় ৮০ শতাংশ ছাড় দিতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত। তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষার খরচে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিতে হবে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও গাইডলাইন বিষয়ক এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর বিষয়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কোনো রোগীর পরীক্ষার খরচ ১০ হাজার টাকা হলে তার মধ্যে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে হেমোরেজিক ডেঙ্গুসহ জটিল রোগীদের চিকিৎসা চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।

এছাড়া ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর ‘ডেথ রিভিউ’ নিয়মিত করার কথা বলা হলেও তা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হয়নি। এক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়িয়ে নিয়মিত তথ্য বিশ্লেষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত ভার্চ্যুয়াল বৈঠক চলছে। উপজেলা পর্যায়েও সমন্বয় সভা করা হবে এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

মশা নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষাগারে নমুনা যাচাই করে কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে স্প্রে কার্যক্রমে কিছু অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যা তদারকি বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগামী শনিবার থেকে দেশব্যাপী বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ সব বিভাগীয় ও জেলা শহরে একযোগে র্যালি, মাইকিং, উঠান বৈঠক, কমিউনিটি সভা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানা গেছে।

মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এটি একটি সামাজিক লড়াই। আগামী তিন মাস দেশব্যাপী সচেতনতামূলক আন্দোলন চলবে।

এদিন সভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ছাড়াও বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় ৮০ শতাংশ ছাড় দিতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:০৯:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত। তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষার খরচে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিতে হবে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও গাইডলাইন বিষয়ক এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর বিষয়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কোনো রোগীর পরীক্ষার খরচ ১০ হাজার টাকা হলে তার মধ্যে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে হেমোরেজিক ডেঙ্গুসহ জটিল রোগীদের চিকিৎসা চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।

এছাড়া ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর ‘ডেথ রিভিউ’ নিয়মিত করার কথা বলা হলেও তা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হয়নি। এক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়িয়ে নিয়মিত তথ্য বিশ্লেষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত ভার্চ্যুয়াল বৈঠক চলছে। উপজেলা পর্যায়েও সমন্বয় সভা করা হবে এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

মশা নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষাগারে নমুনা যাচাই করে কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে স্প্রে কার্যক্রমে কিছু অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যা তদারকি বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগামী শনিবার থেকে দেশব্যাপী বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ সব বিভাগীয় ও জেলা শহরে একযোগে র্যালি, মাইকিং, উঠান বৈঠক, কমিউনিটি সভা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানা গেছে।

মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এটি একটি সামাজিক লড়াই। আগামী তিন মাস দেশব্যাপী সচেতনতামূলক আন্দোলন চলবে।

এদিন সভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ছাড়াও বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।