ঢাকা ০৭:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্দোলনের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন: সমঝোতার আড়ালে নতুন রূপ নিচ্ছে ফ্যাসিবাদ?

আন্দোলনের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন: সমঝোতার আড়ালে নতুন রূপ নিচ্ছে ফ্যাসিবাদ?

জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ও ফ্যাসিবাদী শাসন পুরোপুরি নির্মূলের লক্ষ্য কতটুকু অর্জিত হয়েছে, তা নিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও সংশয় দেখা দিয়েছে। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অবসানের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বরং আন্দোলনের বিপক্ষ শক্তির একটি অংশ এখনো বিভিন্ন কৌশলে নিজেদের প্রভাব বজায় রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জুলাই আন্দোলনের আগে ‘ফ্যাসিস্ট’ শব্দটির এমন ব্যাপক পরিচিতি বা ব্যবহার ছিল না। সাধারণ মানুষ একটি বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত ব্যবস্থার আশায় রাজপথে নেমেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে বলে দাবি করছেন সমালোচকরা।

অভিযোগ রয়েছে, আন্দোলনের পর একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী গোপনে পুরোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে তারা ওই শক্তিকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। এর ফলে ফ্যাসিবাদ নির্মূল হওয়ার পরিবর্তে নতুন রূপ ও মুখোশ ধারণ করে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য যদি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসানই হয়ে থাকে, তবে তা কতটুকু সফল হলো? পর্যবেক্ষকদের মতে, পুরোনো ফ্যাসিবাদী কাঠামো দুর্বল হলেও বর্তমানে নতুন মুখোশধারী শক্তির উত্থান ঘটছে, যা আগামী দিনে দেশের জন্য আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা জানান, একসময় যাদের ফ্যাসিস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাদের সঙ্গেই অনেক নেতার ঘনিষ্ঠতা ও গোপন আঁতাতের বিষয়গুলো সামনে আসছে। এই দ্বিমুখী আচরণের কারণে সাধারণ জনগণের মনে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং আন্দোলনের প্রকৃত চেতনা হুমকিতে পড়ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আদর্শ ও নীতি ভুলে এই ধরনের আপসের সংস্কৃতি বজায় থাকলে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পুরো অর্জনই ম্লান হয়ে যাবে। কাউকে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দেওয়ার পর আবার তাদের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্দোলনের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন: সমঝোতার আড়ালে নতুন রূপ নিচ্ছে ফ্যাসিবাদ?

আপডেট সময় : ০৭:১৭:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ও ফ্যাসিবাদী শাসন পুরোপুরি নির্মূলের লক্ষ্য কতটুকু অর্জিত হয়েছে, তা নিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও সংশয় দেখা দিয়েছে। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অবসানের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বরং আন্দোলনের বিপক্ষ শক্তির একটি অংশ এখনো বিভিন্ন কৌশলে নিজেদের প্রভাব বজায় রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জুলাই আন্দোলনের আগে ‘ফ্যাসিস্ট’ শব্দটির এমন ব্যাপক পরিচিতি বা ব্যবহার ছিল না। সাধারণ মানুষ একটি বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত ব্যবস্থার আশায় রাজপথে নেমেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে বলে দাবি করছেন সমালোচকরা।

অভিযোগ রয়েছে, আন্দোলনের পর একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী গোপনে পুরোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে তারা ওই শক্তিকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। এর ফলে ফ্যাসিবাদ নির্মূল হওয়ার পরিবর্তে নতুন রূপ ও মুখোশ ধারণ করে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য যদি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসানই হয়ে থাকে, তবে তা কতটুকু সফল হলো? পর্যবেক্ষকদের মতে, পুরোনো ফ্যাসিবাদী কাঠামো দুর্বল হলেও বর্তমানে নতুন মুখোশধারী শক্তির উত্থান ঘটছে, যা আগামী দিনে দেশের জন্য আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা জানান, একসময় যাদের ফ্যাসিস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাদের সঙ্গেই অনেক নেতার ঘনিষ্ঠতা ও গোপন আঁতাতের বিষয়গুলো সামনে আসছে। এই দ্বিমুখী আচরণের কারণে সাধারণ জনগণের মনে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং আন্দোলনের প্রকৃত চেতনা হুমকিতে পড়ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আদর্শ ও নীতি ভুলে এই ধরনের আপসের সংস্কৃতি বজায় থাকলে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পুরো অর্জনই ম্লান হয়ে যাবে। কাউকে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দেওয়ার পর আবার তাদের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।