জামালপুর সদর পৌরসভায় বাড়িওয়ালার ছেলের লাঠির আঘাতে রুবি বেগম নামে এক ভাড়াটিয়া গৃহবধূ গুরুতর আহত হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জামালপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত গৃহবধূর মাথায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হওয়ায় সেখানে ৬টি সেলাই দিতে হয়েছে।
১১ নং ওয়ার্ডের বাগেরহাটা বটতলা এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাটা বটতলা সংলগ্ন এলাকায় মোছাঃ সাথী বেগম ও মোঃ আপনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোছাঃ রুবি বেগম। ঘটনার দিন বাড়ির মালিকের সন্তান সাথী ও আপন নিজেদের মধ্যে ঝগড়ায় লিপ্ত হন।
ওই সময় রুবি বেগম তার ঘরের ভেতর স্বামীর সাথে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে স্বামী বাড়ির শোরগোলের কারণ জানতে চাইলে, রুবি জানান যে সাথী ও আপন নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করছেন। এই কথাটি শুনতে পেয়ে আপন চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
অভিযোগ উঠেছে, ক্ষিপ্ত হয়ে আপন প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে আচমকা রুবির ঘরে প্রবেশ করেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি শক্ত লাঠি দিয়ে রুবির মাথায় সজোরে আঘাত করেন। লাঠির আঘাতে রুবি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এ সময় নিজের জীবন বাঁচাতে রুবি চিৎকার শুরু করলে, আশেপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন। তারা ঘরের ভেতর ঢুকে আপনকে শান্ত করেন এবং রুবিকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের পর স্থানীয় লোকজন রুবিকে দ্রুত জামালপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হাসপাতালের তিনতলায় মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসক জানান, শক্ত লাঠির আঘাতের কারণে গৃহবধূর মাথায় এক ইঞ্চি গভীর এবং সাত ইঞ্চি লম্বা ক্ষত তৈরি হয়েছে। আঘাতের গভীরতা বিবেচনা করে তার মাথায় ৬টি সেলাই দেওয়া হয়েছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ভীতি বিরাজ করছে। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
























