ঢাকা ০১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ক্রিমিয়ায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ক্রিমিয়ায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়

রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ার বৃহত্তম শহর সেভাস্তোপোলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। হামলায় শহরের প্রধান বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। অন্যদিকে, মস্কো-নিযুক্ত গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ জানিয়েছেন, কিছু এলাকায় বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় রাজভোজায়েভ বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত ও আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে এবং জরুরি সেবাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ ও মোবাইল ফোনের ব্যাটারি সাশ্রয় করে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তীব্র গরমের কারণে বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের খোঁজখবর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইউক্রেনের মনুষ্যবিহীন সিস্টেম বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভডি দাবি করেছেন, অভিযানে ৪৮টি সক্রিয় ও পরিকল্পিত সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এদিকে বাখচিসারাই, কের্চ এবং আই-পেট্রি এলাকায়ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে অঞ্চলটিকে বিচ্ছিন্ন করতে ইউক্রেন ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক হামলার প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে। রাশিয়া-সমর্থিত প্রশাসনের প্রধান সের্গেই আকসিওনভ সাময়িকভাবে পেট্রোল বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কিছু গ্যারেজে এখনো পেট্রোল মজুত থাকলেও তা মূলত সরকারি জরুরি সেবার জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। একই সঙ্গে আতঙ্কে অনেক মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কিনতে শুরু করায় কিছু এলাকায় চিনির সংকটের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর ইউক্রেন থেকে ছোড়া ৩০০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর দাবি, রাশিয়া তাদের ভূখণ্ডে ১০১টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে ৯৫টি ধ্বংস করা হয়েছে।

মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারেও ইউক্রেনের ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। হামলার পর আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৃষ্টির সঙ্গে তেলমিশ্রিত কালো পদার্থও নিচে পড়েছে। তবে এ দাবি অস্বীকার করেছে মস্কো কর্তৃপক্ষ।

চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে গত ৪ জুন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে খোলা চিঠি পাঠান। তবে পুতিন ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে যুদ্ধবিরতির আগে শান্তি আলোচনা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে বর্তমানে ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ক্রিমিয়ায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়

আপডেট সময় : ১১:৫৬:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ার বৃহত্তম শহর সেভাস্তোপোলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। হামলায় শহরের প্রধান বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। অন্যদিকে, মস্কো-নিযুক্ত গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ জানিয়েছেন, কিছু এলাকায় বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় রাজভোজায়েভ বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত ও আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে এবং জরুরি সেবাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ ও মোবাইল ফোনের ব্যাটারি সাশ্রয় করে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তীব্র গরমের কারণে বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের খোঁজখবর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইউক্রেনের মনুষ্যবিহীন সিস্টেম বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভডি দাবি করেছেন, অভিযানে ৪৮টি সক্রিয় ও পরিকল্পিত সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এদিকে বাখচিসারাই, কের্চ এবং আই-পেট্রি এলাকায়ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে অঞ্চলটিকে বিচ্ছিন্ন করতে ইউক্রেন ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক হামলার প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে। রাশিয়া-সমর্থিত প্রশাসনের প্রধান সের্গেই আকসিওনভ সাময়িকভাবে পেট্রোল বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কিছু গ্যারেজে এখনো পেট্রোল মজুত থাকলেও তা মূলত সরকারি জরুরি সেবার জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। একই সঙ্গে আতঙ্কে অনেক মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কিনতে শুরু করায় কিছু এলাকায় চিনির সংকটের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর ইউক্রেন থেকে ছোড়া ৩০০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর দাবি, রাশিয়া তাদের ভূখণ্ডে ১০১টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে ৯৫টি ধ্বংস করা হয়েছে।

মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারেও ইউক্রেনের ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। হামলার পর আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৃষ্টির সঙ্গে তেলমিশ্রিত কালো পদার্থও নিচে পড়েছে। তবে এ দাবি অস্বীকার করেছে মস্কো কর্তৃপক্ষ।

চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে গত ৪ জুন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে খোলা চিঠি পাঠান। তবে পুতিন ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে যুদ্ধবিরতির আগে শান্তি আলোচনা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।