ঢাকা ০২:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিপি হাউজের সামনে সাবেক গ্রামীণফোন কর্মীদের বিক্ষোভ

জিপি হাউজের সামনে সাবেক গ্রামীণফোন কর্মীদের বিক্ষোভ

গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের ২০১০–২০১২ সালের ৫ শতাংশ Workers’ Participation Fund (WPPF) ও Workers’ Welfare Fund (WWF)-সংক্রান্ত বিলম্বজনিত পাওনা দ্রুত, স্বচ্ছ ও আইনসম্মতভাবে নিষ্পত্তির দাবিতে জিপি হাউজের সামনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মীরা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালিত হয়।
ঐক্য পরিষদ জানায়, প্রায় ১৬ বছর ধরে সাবেক কর্মীদের পাওনার বিষয়টি অনিষ্পন্ন রয়েছে। ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে আসছেন সাবেক কর্মীরা। মানববন্ধন, বিক্ষোভ, স্মারকলিপি প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েও কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি বলে দাবি তাদের।
পরিষদের মতে, দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে সাবেক কর্মী ও তাদের পরিবারের ওপর আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং মানসিক চাপ বেড়েছে।
গ্রামীণফোন টেলিকম স্মারকলিপি গ্রহণ করেনি
ঐক্য পরিষদ জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ গ্রামীণ টেলিকমের সামনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন শেষে প্রতিষ্ঠানটির কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেখানে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে গ্রামীণ টেলিকমের কার্যকর ভূমিকা, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ এবং স্বচ্ছ হিসাব যাচাইয়ের আহ্বান জানানো হয়।
তবে গ্রামীণ টেলিকম কর্তৃপক্ষ স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছে পরিষদ।
এ ঘটনায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে পরিষদ বলেছে, সাবেক কর্মীদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ না করা তাদের দাবি শোনা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশাকে আঘাত করেছে।
পরিচালনা পর্ষদের কাছে জবাবদিহির দাবি
ঐক্য পরিষদের অভিযোগ, গ্রামীণফোনের পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, পদক্ষেপ এবং কার্যকর সমাধানের উদ্যোগের অভাব পাওনা নিষ্পত্তি বিলম্বিত করতে সহায়তা করছে।
পরিষদ পরিচালনা পর্ষদের কাছে ২০১০–২০১২ সালের বিলম্বজনিত পাওনা নিষ্পত্তিতে এ পর্যন্ত নেওয়া সিদ্ধান্ত, বাস্তবায়নের অগ্রগতি, সাবেক কর্মীদের অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা, সরাসরি আলোচনার সময়সূচি এবং পাওনা যাচাই ও পরিশোধের সম্ভাব্য সময়সীমা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।
সরকারি দপ্তরে দেওয়া স্মারকলিপির অগ্রগতি জানাতে হবে
ঐক্য পরিষদ জানায়, পাওনা নিষ্পত্তির দাবিতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। এসব স্মারকলিপির পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কী ব্যবস্থা নিয়েছেন, কোনো তদন্ত বা তথ্য যাচাই হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কি না—তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে পরিষদ।
পরিষদ আরও জানতে চেয়েছে, স্মারকলিপি পাওয়ার পর কোন দপ্তর কী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং নেওয়া পদক্ষেপের বর্তমান অগ্রগতি কী।
ঐক্য পরিষদের ৬ দফা দাবি
১. ২০১০–২০১২ সালের ৫% WPPF/WWF-সংক্রান্ত বিলম্বজনিত পাওনা দ্রুত, স্বচ্ছ ও আইনসম্মতভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে।
২. গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ, গ্রামীণ টেলিকম এবং সাবেক কর্মীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. সংশ্লিষ্ট হিসাব ও নথি যাচাইয়ের জন্য স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং অগ্রগতি জানানোর নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে।
৪. স্মারকলিপি গ্রহণ না করার বিষয়ে গ্রামীণ টেলিকমকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং সাবেক কর্মীদের বক্তব্য গ্রহণ করতে হবে।
৫. পাওনা নিষ্পত্তিতে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত, ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে প্রকাশ্য জবাব দিতে হবে।
৬. সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দেওয়া স্মারকলিপির পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার লিখিত বিবরণ ও অগ্রগতি জানাতে হবে।
ঐক্য পরিষদ জানিয়েছে, আদালত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে সংশ্লিষ্ট আদেশ ও আইনগত সীমারেখা মেনে সংলাপ, তথ্য যাচাই এবং সমাধানের উদ্যোগ এগিয়ে নিতে হবে। সাবেক কর্মীদের দাবি আর অনির্দিষ্ট অপেক্ষার মধ্যে রাখা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেছে তারা।
কর্মসূচি থেকে ঐক্য পরিষদ জানায়, দাবি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। দীর্ঘদিনের পাওনার বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেছে পরিষদ।
‘১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান চাই, পরিচালনা পর্ষদের জবাবদিহি চাই, আলোচনায় বসুন, ৫% বিলম্বজনিত পাওনার আইনসম্মত নিষ্পত্তি চাই’—এই স্লোগান সামনে রেখে কর্মসূচি পালন করেন সাবেক গ্রামীণফোন কর্মীরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

জিপি হাউজের সামনে সাবেক গ্রামীণফোন কর্মীদের বিক্ষোভ

জিপি হাউজের সামনে সাবেক গ্রামীণফোন কর্মীদের বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০১:৪০:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের ২০১০–২০১২ সালের ৫ শতাংশ Workers’ Participation Fund (WPPF) ও Workers’ Welfare Fund (WWF)-সংক্রান্ত বিলম্বজনিত পাওনা দ্রুত, স্বচ্ছ ও আইনসম্মতভাবে নিষ্পত্তির দাবিতে জিপি হাউজের সামনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন গ্রামীণফোন ৫% বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মীরা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালিত হয়।
ঐক্য পরিষদ জানায়, প্রায় ১৬ বছর ধরে সাবেক কর্মীদের পাওনার বিষয়টি অনিষ্পন্ন রয়েছে। ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে আসছেন সাবেক কর্মীরা। মানববন্ধন, বিক্ষোভ, স্মারকলিপি প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েও কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি বলে দাবি তাদের।
পরিষদের মতে, দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে সাবেক কর্মী ও তাদের পরিবারের ওপর আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং মানসিক চাপ বেড়েছে।
গ্রামীণফোন টেলিকম স্মারকলিপি গ্রহণ করেনি
ঐক্য পরিষদ জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ গ্রামীণ টেলিকমের সামনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন শেষে প্রতিষ্ঠানটির কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেখানে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে গ্রামীণ টেলিকমের কার্যকর ভূমিকা, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ এবং স্বচ্ছ হিসাব যাচাইয়ের আহ্বান জানানো হয়।
তবে গ্রামীণ টেলিকম কর্তৃপক্ষ স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছে পরিষদ।
এ ঘটনায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে পরিষদ বলেছে, সাবেক কর্মীদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ না করা তাদের দাবি শোনা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশাকে আঘাত করেছে।
পরিচালনা পর্ষদের কাছে জবাবদিহির দাবি
ঐক্য পরিষদের অভিযোগ, গ্রামীণফোনের পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, পদক্ষেপ এবং কার্যকর সমাধানের উদ্যোগের অভাব পাওনা নিষ্পত্তি বিলম্বিত করতে সহায়তা করছে।
পরিষদ পরিচালনা পর্ষদের কাছে ২০১০–২০১২ সালের বিলম্বজনিত পাওনা নিষ্পত্তিতে এ পর্যন্ত নেওয়া সিদ্ধান্ত, বাস্তবায়নের অগ্রগতি, সাবেক কর্মীদের অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা, সরাসরি আলোচনার সময়সূচি এবং পাওনা যাচাই ও পরিশোধের সম্ভাব্য সময়সীমা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।
সরকারি দপ্তরে দেওয়া স্মারকলিপির অগ্রগতি জানাতে হবে
ঐক্য পরিষদ জানায়, পাওনা নিষ্পত্তির দাবিতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। এসব স্মারকলিপির পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কী ব্যবস্থা নিয়েছেন, কোনো তদন্ত বা তথ্য যাচাই হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কি না—তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে পরিষদ।
পরিষদ আরও জানতে চেয়েছে, স্মারকলিপি পাওয়ার পর কোন দপ্তর কী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং নেওয়া পদক্ষেপের বর্তমান অগ্রগতি কী।
ঐক্য পরিষদের ৬ দফা দাবি
১. ২০১০–২০১২ সালের ৫% WPPF/WWF-সংক্রান্ত বিলম্বজনিত পাওনা দ্রুত, স্বচ্ছ ও আইনসম্মতভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে।
২. গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ, গ্রামীণ টেলিকম এবং সাবেক কর্মীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. সংশ্লিষ্ট হিসাব ও নথি যাচাইয়ের জন্য স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং অগ্রগতি জানানোর নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে।
৪. স্মারকলিপি গ্রহণ না করার বিষয়ে গ্রামীণ টেলিকমকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং সাবেক কর্মীদের বক্তব্য গ্রহণ করতে হবে।
৫. পাওনা নিষ্পত্তিতে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত, ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে প্রকাশ্য জবাব দিতে হবে।
৬. সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দেওয়া স্মারকলিপির পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার লিখিত বিবরণ ও অগ্রগতি জানাতে হবে।
ঐক্য পরিষদ জানিয়েছে, আদালত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে সংশ্লিষ্ট আদেশ ও আইনগত সীমারেখা মেনে সংলাপ, তথ্য যাচাই এবং সমাধানের উদ্যোগ এগিয়ে নিতে হবে। সাবেক কর্মীদের দাবি আর অনির্দিষ্ট অপেক্ষার মধ্যে রাখা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেছে তারা।
কর্মসূচি থেকে ঐক্য পরিষদ জানায়, দাবি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। দীর্ঘদিনের পাওনার বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেছে পরিষদ।
‘১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান চাই, পরিচালনা পর্ষদের জবাবদিহি চাই, আলোচনায় বসুন, ৫% বিলম্বজনিত পাওনার আইনসম্মত নিষ্পত্তি চাই’—এই স্লোগান সামনে রেখে কর্মসূচি পালন করেন সাবেক গ্রামীণফোন কর্মীরা।