ঢাকা ০৭:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলডিসি উত্তরণে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়ন জরুরি: দেবপ্রিয়

এলডিসি উত্তরণে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়ন জরুরি: দেবপ্রিয়



ফটোকার্ড ডাউনলোড

আগামী তিন বছরে বাংলাদেশকে একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের মতো তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

তাঁর মতে, এই তিন লক্ষ্য অর্জনে সরকারকে সমন্বিত, সময়বদ্ধ ও স্বচ্ছ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সক্রিয় ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীতে সিপিডির কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ: জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত ও আমাদের পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক এক মিডিয়া সংলাপে এসব কথা বলেন ড. দেবপ্রিয়।

তিনি বলেন, অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, সুদের হার কমানো, রাজস্ব আদায় বাড়ানো, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং সরকারি ব্যয়ের মান নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলোতে একযোগে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও উদ্যোগকে উৎসাহিত করা জরুরি।

ড. দেবপ্রিয়র মতে, এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার-এই তিনটি লক্ষ্য পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত ও পরিপূরক। সরকার সমন্বিতভাবে এগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আগামী তিন বছর রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি জানান, এই সময় শেষে দেশ পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাবে। ফলে অর্থনৈতিক সংস্কার ও প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের বিষয়গুলো রাজনৈতিকভাবেও বিশেষ গুরুত্ব পাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছতা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক দায়িত্ব।

এলডিসি উত্তরণের বিষয়টিকে কেবল আমলাতান্ত্রিক বা অর্থনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা না করে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ড. দেবপ্রিয়। তিনি বলেন, উত্তরণকালীন সংস্কার কর্মসূচি সংসদে উপস্থাপন করে আলোচনা করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

একই সঙ্গে বিষয়টিকে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর মতে, প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি শুধু অর্থ বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়। জ্বালানি, প্রযুক্তি, নৌপরিবহনসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই পুরো কর্মসূচিকে সরকারের সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে দেখতে হবে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি।

পাশাপাশি কারিগরি পর্যায়ে কর্মদল গঠন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দেন এই অর্থনীতিবিদ।

সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে একটি ড্যাশবোর্ড চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন ড. দেবপ্রিয়। তিনি বলেন, জাতিসংঘের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো শুধু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরলে হবে না, দেশের মানুষকেও সেগুলো সম্পর্কে জানাতে হবে।

কোন প্রতিশ্রুতি কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, কোন মন্ত্রণালয় বা সংস্থা দায়িত্বে রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কী অগ্রগতি হয়েছে-এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

ড. দেবপ্রিয় জানান, ২০১৮ সালে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি)। সে সময় উত্তরণের পর বিদ্যমান আর্থিক ও বাজারসুবিধা কীভাবে ধরে রাখা যায়, সেটিই ছিল মূল বিবেচনা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এলডিসি উত্তরণ শুধু সুযোগ-সুবিধা সংরক্ষণের বিষয় নয়; এর সঙ্গে পুরো অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন জড়িত।

তাঁর মতে, ইআরডির বর্তমান সক্ষমতা দিয়ে এত বিস্তৃত কর্মসূচি পুরোপুরি পরিচালনা করা কঠিন। তাই উত্তরণের প্রস্তুতি ও সংস্কার কার্যক্রমের দায়িত্ব আরও উচ্চপর্যায়ে নেওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি শুধু অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে প্রয়োজনীয় সমন্বয়, রাজনৈতিক অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়নের গতি নিশ্চিত করা কঠিন হবে বলেও মনে করেন তিনি।

এলডিসি উত্তরণ ও সংশ্লিষ্ট সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়নে সিপিডি ২৩টি বিষয় চিহ্নিত করেছে বলে জানান ড. দেবপ্রিয়। এসব বিষয়ে নিয়মিত মূল্যায়ন প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি বা ককাস গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বিভিন্ন দলের ১০ জন সংসদ সদস্যকে নিয়ে ককাস গঠনের বিষয়ে স্পিকারের দপ্তর থেকে ইতিমধ্যে নোটিশ জারি হয়েছে। শিগগিরই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করবে। এর মাধ্যমে এলডিসি উত্তরণ ও সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে সংসদ সদস্যদের মধ্যে আলোচনা এবং রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরির চেষ্টা করা হবে।

সংলাপের সমাপনী বক্তব্যে ড. দেবপ্রিয় বলেন, জাতিসংঘের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে তাঁরা স্বাগত জানান। এটিকে বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক সুযোগ হিসেবে দেখছেন তাঁরা। তবে সিদ্ধান্তটি যেহেতু ব্যতিক্রমী, তাই এই সুযোগের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেও বাংলাদেশকে বিশেষ সাফল্য দেখাতে হবে।

তিনি বলেন, এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ এত দিন যেসব বাণিজ্যিক ও আর্থিক সুবিধা পেয়ে এসেছে, সেগুলো থেকে ধাপে ধাপে বেরিয়ে আসার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকা জরুরি। আগামী বাজেটে কোন কোন খাতে সুবিধা কমানো হবে এবং কোথায় নতুন করে সহায়তা বাড়ানো হবে, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।

সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয় না থাকলে ভবিষ্যতে জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও সতর্ক করেন তিনি। এ জন্য সরকার, সংসদ, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে যতটা দক্ষতা দেখা গেছে, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ততটা দেখা যায়নি। এবার সেই ধারার পুনরাবৃত্তি না করে আগামী তিন বছরে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। তাঁর মতে, এটি শুধু কারিগরি বা প্রশাসনিক বিষয় নয়; এর জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের সক্রিয় ও দৃশ্যমান অঙ্গীকার প্রয়োজন।

এলডিসি উত্তরণে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়ন জরুরি: দেবপ্রিয়

আপডেট সময় : ০৪:০৪:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬


ফটোকার্ড ডাউনলোড

আগামী তিন বছরে বাংলাদেশকে একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের মতো তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

তাঁর মতে, এই তিন লক্ষ্য অর্জনে সরকারকে সমন্বিত, সময়বদ্ধ ও স্বচ্ছ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সক্রিয় ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীতে সিপিডির কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ: জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত ও আমাদের পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক এক মিডিয়া সংলাপে এসব কথা বলেন ড. দেবপ্রিয়।

তিনি বলেন, অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, সুদের হার কমানো, রাজস্ব আদায় বাড়ানো, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং সরকারি ব্যয়ের মান নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলোতে একযোগে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও উদ্যোগকে উৎসাহিত করা জরুরি।

ড. দেবপ্রিয়র মতে, এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার-এই তিনটি লক্ষ্য পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত ও পরিপূরক। সরকার সমন্বিতভাবে এগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আগামী তিন বছর রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি জানান, এই সময় শেষে দেশ পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাবে। ফলে অর্থনৈতিক সংস্কার ও প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের বিষয়গুলো রাজনৈতিকভাবেও বিশেষ গুরুত্ব পাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছতা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক দায়িত্ব।

এলডিসি উত্তরণের বিষয়টিকে কেবল আমলাতান্ত্রিক বা অর্থনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা না করে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ড. দেবপ্রিয়। তিনি বলেন, উত্তরণকালীন সংস্কার কর্মসূচি সংসদে উপস্থাপন করে আলোচনা করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

একই সঙ্গে বিষয়টিকে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর মতে, প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি শুধু অর্থ বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়। জ্বালানি, প্রযুক্তি, নৌপরিবহনসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই পুরো কর্মসূচিকে সরকারের সম্মিলিত দায়িত্ব হিসেবে দেখতে হবে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি।

পাশাপাশি কারিগরি পর্যায়ে কর্মদল গঠন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দেন এই অর্থনীতিবিদ।

সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে একটি ড্যাশবোর্ড চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন ড. দেবপ্রিয়। তিনি বলেন, জাতিসংঘের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো শুধু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরলে হবে না, দেশের মানুষকেও সেগুলো সম্পর্কে জানাতে হবে।

কোন প্রতিশ্রুতি কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, কোন মন্ত্রণালয় বা সংস্থা দায়িত্বে রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কী অগ্রগতি হয়েছে-এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

ড. দেবপ্রিয় জানান, ২০১৮ সালে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি)। সে সময় উত্তরণের পর বিদ্যমান আর্থিক ও বাজারসুবিধা কীভাবে ধরে রাখা যায়, সেটিই ছিল মূল বিবেচনা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এলডিসি উত্তরণ শুধু সুযোগ-সুবিধা সংরক্ষণের বিষয় নয়; এর সঙ্গে পুরো অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন জড়িত।

তাঁর মতে, ইআরডির বর্তমান সক্ষমতা দিয়ে এত বিস্তৃত কর্মসূচি পুরোপুরি পরিচালনা করা কঠিন। তাই উত্তরণের প্রস্তুতি ও সংস্কার কার্যক্রমের দায়িত্ব আরও উচ্চপর্যায়ে নেওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি শুধু অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে প্রয়োজনীয় সমন্বয়, রাজনৈতিক অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়নের গতি নিশ্চিত করা কঠিন হবে বলেও মনে করেন তিনি।

এলডিসি উত্তরণ ও সংশ্লিষ্ট সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়নে সিপিডি ২৩টি বিষয় চিহ্নিত করেছে বলে জানান ড. দেবপ্রিয়। এসব বিষয়ে নিয়মিত মূল্যায়ন প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি বা ককাস গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বিভিন্ন দলের ১০ জন সংসদ সদস্যকে নিয়ে ককাস গঠনের বিষয়ে স্পিকারের দপ্তর থেকে ইতিমধ্যে নোটিশ জারি হয়েছে। শিগগিরই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করবে। এর মাধ্যমে এলডিসি উত্তরণ ও সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে সংসদ সদস্যদের মধ্যে আলোচনা এবং রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরির চেষ্টা করা হবে।

সংলাপের সমাপনী বক্তব্যে ড. দেবপ্রিয় বলেন, জাতিসংঘের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে তাঁরা স্বাগত জানান। এটিকে বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক সুযোগ হিসেবে দেখছেন তাঁরা। তবে সিদ্ধান্তটি যেহেতু ব্যতিক্রমী, তাই এই সুযোগের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেও বাংলাদেশকে বিশেষ সাফল্য দেখাতে হবে।

তিনি বলেন, এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ এত দিন যেসব বাণিজ্যিক ও আর্থিক সুবিধা পেয়ে এসেছে, সেগুলো থেকে ধাপে ধাপে বেরিয়ে আসার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকা জরুরি। আগামী বাজেটে কোন কোন খাতে সুবিধা কমানো হবে এবং কোথায় নতুন করে সহায়তা বাড়ানো হবে, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।

সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয় না থাকলে ভবিষ্যতে জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও সতর্ক করেন তিনি। এ জন্য সরকার, সংসদ, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে যতটা দক্ষতা দেখা গেছে, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ততটা দেখা যায়নি। এবার সেই ধারার পুনরাবৃত্তি না করে আগামী তিন বছরে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। তাঁর মতে, এটি শুধু কারিগরি বা প্রশাসনিক বিষয় নয়; এর জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের সক্রিয় ও দৃশ্যমান অঙ্গীকার প্রয়োজন।