খাবার খেলেই কি আপনার বুক জ্বালাপোড়া করে? এই সমস্যায় ভোগেন না এমন মানুষ বর্তমানে খুব কমই আছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই রোগকে বলা হয় ‘গ্যাস্ট্রোইডোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ’।
অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং খারাপ খাদ্যাভ্যাসের কারণে আমাদের পরিপাকতন্ত্র দুর্বল হয়ে যায়। ফলে অনেকেই বদহজম ও অ্যাসিডিটির মতো পেটের নানা জটিলতায় ভোগেন।
কেন বুক জ্বালাপোড়া হয়?
আমরা যা খাই, তা সরাসরি পাকস্থলীতে পৌঁছায়। এরপর পাকস্থলী খাবার হজমের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যাসিড তৈরি করে। তবে এই অ্যাসিড নিচের দিকে না নেমে গলার দিকে উঠে আসতে পারে। এর ফলে বুকে তীব্র জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়।
এই সমস্যার পেছনে বেশ কিছু সাধারণ কারণ রয়েছে। যেমন:
-
অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার বা কফি খেলে এই সমস্যা বাড়ে।
-
ধূমপান এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ অ্যাসিডিটি তৈরি করে।
-
শরীরের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে ঝুঁকি বাড়ে।
-
গর্ভবতী নারীরা প্রায়ই এই পেটের সমস্যায় ভোগেন।
-
‘হায়াটাস হার্নিয়া’ থাকলে পাকস্থলীর অংশ বুকের দিকে চলে আসে।
-
অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রফেনের মতো কিছু ওষুধ থেকেও এটি হতে পারে।
গ্যাস্ট্রিক ও বুক জ্বালাপোড়া থেকে মুক্তির ৭টি ঘরোয়া উপায়
বিরক্তিকর এই সমস্যা থেকে বাঁচতে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলা জরুরি। নিচে ঘরোয়া উপায়ের কার্যকর পরামর্শগুলো দেওয়া হলো:
-
অল্প করে খান: একবারে বেশি খাবার খাবেন না। সারাদিনে ভাগ করে অল্প করে খান। কারণ, বেশি খেলে পাকস্থলীর অ্যাসিড ওপরের দিকে উঠে আসে।
-
সময়মতো খাবার খান: সঠিক সময়ে খাবার না খেলে গ্যাস্ট্রাইটিস হতে পারে। ফলে পাকস্থলীতে ক্ষত বা ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়ে।
-
সমস্যা সৃষ্টিকারী খাবার এড়ান: যে খাবার খেলে আপনার বুকে জ্বালাপোড়া শুরু হয়, সেগুলো তালিকা থেকে বাদ দিন।
-
তাড়াতাড়ি রাতের খাবার খান: ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত তিন থেকে চার ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন।
-
শোয়ার ভঙ্গিতে পরিবর্তন আনুন: ঘুমানোর সময় কোমরের চেয়ে মাথা ও বুক ১০ থেকে ২০ সেন্টিমিটার উঁচুতে রাখুন। তবে শুধু বালিশ ব্যবহার না করে খাটের একপাশ উঁচু করুন।
-
ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন: অতিরিক্ত ওজন নানা স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করে। তাই বুক জ্বালাপোড়া কমাতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
-
ধূমপান বর্জন করুন: ধূমপান কমিয়ে দিলে বা পুরোপুরি বন্ধ করলে এই সমস্যা অনেকটাই কমে যায়।



























