ঢাকা ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্দরে মাদ্রাসা ছাত্র অপহরণের মূলহোতা এমরান গ্রেপ্তার: নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ৮ বছরের মাদ্রাসা ছাত্র মোহাম্মদ ভূঁইয়া অপহরণের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই অপহরণ নাটকের মূল পরিকল্পনাকারী ও মাস্টারমাইন্ড এমরান ভূঁইয়াকে (১৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে উপজেলার মদনপুর চাঁনপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। সোমবার দুপুরে তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে সোপর্দ করেছে বন্দর থানা পুলিশ।

গত ১৯ মার্চ বিকেলে মদনপুর এলাকার মোশারফ হোসেনের ছেলে এবং মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র মোহাম্মদ ভূঁইয়াকে কৌশলে অপহরণ করে একটি চক্র। নতুন জামা কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

অপহরণের ওই রাতেই শিশুটির পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। বিষয়টি নিয়ে কালক্ষেপণ না করে পরিবার তাৎক্ষণিক পুলিশকে অবহিত করলে উদ্ধারে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করে। কল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে ঈদের দিন পটুয়াখালী সদর এলাকা থেকে আলী হোসেন নামে চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আলী হোসেনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে ঢাকার শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশের বিশেষ টিম।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আলী হোসেনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই অপহরণের মূল হোতা হিসেবে এমরান ভূঁইয়ার নাম বেরিয়ে আসে। তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতেই পুরো অপহরণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছিল।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৌহিদ আলম নিশ্চিত করেছেন যে, এমরান ভূঁইয়াই ছিল এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, মামলার বাদী ও শিশুটির পিতা মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, আসামিকে গ্রেপ্তারের পর থেকে তার স্বজনরা মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে। এমনকি মামলা না তুললে তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মোশারফ হোসেন বন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ভিকটিম পরিবারকে হুমকির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বন্দরে মাদ্রাসা ছাত্র অপহরণের মূলহোতা এমরান গ্রেপ্তার: নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময় : ০৯:৫৯:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ৮ বছরের মাদ্রাসা ছাত্র মোহাম্মদ ভূঁইয়া অপহরণের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই অপহরণ নাটকের মূল পরিকল্পনাকারী ও মাস্টারমাইন্ড এমরান ভূঁইয়াকে (১৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে উপজেলার মদনপুর চাঁনপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। সোমবার দুপুরে তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে সোপর্দ করেছে বন্দর থানা পুলিশ।

গত ১৯ মার্চ বিকেলে মদনপুর এলাকার মোশারফ হোসেনের ছেলে এবং মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র মোহাম্মদ ভূঁইয়াকে কৌশলে অপহরণ করে একটি চক্র। নতুন জামা কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

অপহরণের ওই রাতেই শিশুটির পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। বিষয়টি নিয়ে কালক্ষেপণ না করে পরিবার তাৎক্ষণিক পুলিশকে অবহিত করলে উদ্ধারে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করে। কল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে ঈদের দিন পটুয়াখালী সদর এলাকা থেকে আলী হোসেন নামে চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আলী হোসেনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে ঢাকার শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশের বিশেষ টিম।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আলী হোসেনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই অপহরণের মূল হোতা হিসেবে এমরান ভূঁইয়ার নাম বেরিয়ে আসে। তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতেই পুরো অপহরণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছিল।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৌহিদ আলম নিশ্চিত করেছেন যে, এমরান ভূঁইয়াই ছিল এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, মামলার বাদী ও শিশুটির পিতা মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, আসামিকে গ্রেপ্তারের পর থেকে তার স্বজনরা মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে। এমনকি মামলা না তুললে তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মোশারফ হোসেন বন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ভিকটিম পরিবারকে হুমকির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।