আইপিএলের গত আসরে অভিষেক হয়েছিল ভারতীয় কিশোর বৈভব সূর্যবংশীর। ৩৫ বলের সেঞ্চুরিতে তিনি ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। চলমান আসরে যেন আরও পরিপক্ব ১৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার, ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ে তিনি বোলারদের মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছেন। গতকাল (শনিবার) করেছেন আইপিএলের তৃতীয় দ্রুততম (৩৬ বলে) সেঞ্চুরি। এদিনই প্রথমবার সূর্যবংশীর মোকাবিলা করেছেন প্রতিপক্ষ সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, পরে জানালেন তিনিও এই কিশোর ব্যাটারের ভক্ত!
রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে সূর্যবংশী ৩৭ বলে ৫ চার ও ১২ ছক্কায় থামেন ১০৩ রানে। গত বছর তিনি আইপিএলে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। ফলে আইপিএল ইতিহাসের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৪০ বা তার কম বল খেলে দুটি সেঞ্চুরির রেকর্ডও গড়লেন তিনি। এক ইনিংসে ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২ ছক্কা মারার রেকর্ডটিও এখন তার দখলে। তার ব্যাটিংয়ের ঝাঁজ টের পেলেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক কামিন্সও। পরে জানান, ‘মনে হয় (সে এখন) নতুন আমার নতুন প্রিয় খেলোয়াড়। সে খুব জোরে পেটায়, যা দেখতে দারুণ লাগে, বেশ আনন্দদায়ক।’
সূর্যবংশীর ভয়ডরহীন ব্যাটিং কারও অজানা নয়। বোলিং আক্রমণে জাসপ্রিত বুমরাহ, জোফরা আর্চার, ট্রেন্ট বোল্ট কিংবা জশ হ্যাজলউড– যিনিই থাকুন না কেন, স্বভাবসুলভ আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে কার্পণ্য করেন না সূর্যবংশী। প্রথম দেখায় তা টের পেয়েছেন কামিন্সও, ‘একজন বোলার হিসেবে আপনাকে একদম নিখুঁত বল করতে হবে, কারণ আপনি যদি তা না পারেন, তবে বল অনেক দূরে গিয়ে পড়বে। ও সত্যিই অসাধারণ। তার ক্যারিয়ারের শুরুটা দারুণ হয়েছে এবং তার খেলার ধরন আমার বেশ পছন্দ।’
কামিন্সের প্রথম বলেও ছক্কা হাঁকিয়ে স্বাগত জানাতে ভুল করেননি সূর্যবংশী। এদিনই চোট কাটিয়ে চলমান আইপিএলের প্রথম ম্যাচ খেললেন হায়দরাবাদের এই অজি তারকা। যদিও পুরো স্পেলে দারুণ ছিলেন কামিন্স। ৪ ওভারে ২৭ রানের বিনিময়ে শিকার করেন ১ উইকেট। তিনি ছাড়া আর কোনো বোলারই ৭–এর নিচে ইকোনমি রাখতে পারেননি। সূর্যবংশীর দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ২২৮ রানের বড় সংগ্রহ পায় রাজস্থান। যদিও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। লক্ষ্য তাড়ায় ইষান কিষাণ ও অভিষেক শর্মাদের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৯ বল এবং ৫ উইকেট হাতে রেখে জিতেছে হায়দরাবাদ।
গতকাল আইপিএলের দুটি ম্যাচই ছিল হাই-স্কোরিং। প্রথম ম্যাচে তো বিশ্বরেকর্ড হয়েছে। দিল্লি ক্যাপিটালসের দেওয়া ২৬৬ রান তাড়া করে জিতেছে পাঞ্জাব কিংস। দিনের দুটি ম্যাচ মিলিয়ে চার ইনিংসে উঠেছে ৯৮৬ রান। যা নিয়ে কামিন্সের ভাষ্য, ‘উইকেট সম্ভবত খুব ফ্ল্যাট, তবে এটি কেবল টি-টোয়েন্টি ম্যাচ, টেস্ট নয় যে যেখানে এমন ফ্ল্যাট উইকেট থাকবে এবং ব্যাটাররা এখানে পাঁচদিন ধরে খেলবে। তাই আমি এর বিরুদ্ধে নই, সর্বোচ্চ চার ওভার করতে হচ্ছে। আমাদের দলও সামঞ্জস্যপূর্ণ, ব্যাটাররা বড় রান আর বোলাররা যতটা সম্ভব কম খরচের চেষ্টা করে। কয়েক বছর আগেও এমন রান হয়তো ভাবা যেত না, এখন ধারণা বদলে গেছে। আমি তাতে আপত্তি করি না।’



























