ঢাকার ধামরাইয়ে ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে পাঁচটি গ্রামের প্রায় ২৫ একর জমির ধান পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে উপজেলার আমতা ইউনিয়নের শতাধিক কৃষক চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কোটি টাকার ফসল হারিয়ে দিশেহারা কৃষকরা এখন ক্ষতিপূরণের দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
রবিবার (৩ মে) বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা তাদের নষ্ট হয়ে যাওয়া জমির পাশে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। কৃষকদের অভিযোগ, আমতা ইউনিয়নের বাউখন্ড, নান্দেশ্বরী, চালা, নারায়ণপুর ও ভাবনহাটি গ্রামের পাশেই অবস্থিত ‘আলিফ’, ‘আল মদীনা’ ও ‘টাইগার’ নামের তিনটি ইটভাটা। সম্প্রতি চলতি মৌসুমের ইট পোড়ানো বন্ধ করার সময় এসব ভাটা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে আশেপাশের ফসলি জমির ধান পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আমজাদ আলী, সত্তার ও জিন্নত আলী আক্ষেপ করে জানান, তারা অন্যের জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করেন। প্রতি বছর বড় অংকের টাকা জমির মালিককে দিতে হয়। এই ধান দিয়েই তাদের সারা বছরের অন্নসংস্থান হতো। এখন ফসল হারিয়ে তারা জীবন নিয়ে শঙ্কিত।
অন্যদিকে নকি, ইনাম ও নন্দলের মতো বড় কৃষকরা জানান, প্রতি বছরই এসব ইটভাটার কারণে তাদের লোকসান গুনতে হয়। তারা কেবল ক্ষতিপূরণের আশ্বাস নয়, বরং ফসলি জমির পাশে থাকা এসব ইটভাটা চিরস্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
সমাবেশের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফ হোসেন। তিনি বলেন, “আমি আমতা ইউনিয়নের ফসলি মাঠগুলো দেখেছি। প্রায় ২৫ একর জমির ধান এখন ফুল ও দুধ অবস্থায় ছিল। ইটভাটার গরম বাতাসের কারণে ধানের পাতা কালো হয়ে গেছে। যে ধানগুলো ফুল অবস্থায় আছে, সেগুলোর পরাগায়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সব চিটা হয়ে যাবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির এই সময়ে মানবসৃষ্ট কারণে কৃষকের এমন ক্ষতি মেনে নেওয়া যায় না। কৃষকরা যাতে দ্রুত সন্তুষ্টজনক ক্ষতিপূরণ পান এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুন জানান, ইতিমধ্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই দায়ী ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হবে।






















