রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে আইনমন্ত্রী নিজেই এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ শেষ করতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঘটনার মূল আসামি সোহেল রানা (৩৪) গতকাল বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেছেন, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। অপরাধ গোপন ও মরদেহ সরিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে তিনি লাশ খণ্ডবিখণ্ড করার চেষ্টা করেছিলেন।
জবানবন্দি শেষে সোহেল রানাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। একই ঘটনায় সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবী সেকশন-১১ এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী রামিসার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর জানালার গ্রিল ভেঙে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান পল্লবী থানায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার এজাহারে শিশুটির বাবা উল্লেখ করেন, তার ধারণা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।
এদিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পরে রামিসার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গতকাল বুধবার রাত ৮টার দিকে তার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে নেওয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে ৯টার দিকে জানাজা শেষে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্য শিয়ালদী গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।



























