ঢাকা ০১:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবম পে-স্কেল: জুলাই থেকেই মিলবে পুরো মূল বেতন

নবম পে-স্কেল: জুলাই থেকেই মিলবে পুরো মূল বেতন

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের চূড়ান্ত প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেলের মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে আনুষঙ্গিক ভাতাগুলো ২০২৭-২৮ অর্থবছরের শুরুতে কার্যকর করা হবে। দীর্ঘ ১১ বছর পর এই নতুন বেতনকাঠামো চালুর মাধ্যমে বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সমন্বিত রোড ম্যাপ জমা হচ্ছে চলতি সপ্তাহেই
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি ইতিমধ্যে পে কমিশনের সুপারিশগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছে। বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আলাদা তিনটি পে কমিশনের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে একটি সমন্বিত রোড ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই এই রোড ম্যাপটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত মিললেই জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে এ সংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে অর্থ বিভাগ।

জটিলতা এড়াতে দুই ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কৌশল হিসেবে প্রথমে তিন বছর মেয়াদি পরিকল্পনার চিন্তা করা হলেও, কারিগরি জটিলতা এড়াতে এখন দুই ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সরকারি হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি বা আইবিএএসপ্লাস (iBAS++)-এ যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য একবারেই মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর করার যৌক্তিকতা দেখিয়েছে অর্থ বিভাগ। তবে সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি দুই ধাপে শেষ করার দিকেই কমিটির মনোযোগ বেশি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানের ২০টি গ্রেডের মধ্যে ১ থেকে ১০ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের ১০০ শতাংশ বা এর কাছাকাছি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ রয়েছে। অন্যদিকে, ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য প্রায় ১৩০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে।

বাজেটে ৪৪ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। বাজেটে এই কার্যক্রমের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেট বক্তব্যে বিস্তারিত না জানানো হলেও কর্মকর্তারা বলছেন, এই অর্থ মূলত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ের কাজে ব্যয় হবে। নেট পাবলিক সার্ভিস খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ সংস্থান করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি। কমিশনের সুপারিশে মূল বেতনে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বড় বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

ব্যয়ের পরিমাণ আরও বাড়বে সরকারের
সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়িত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও দ্রুততম সময়ের মধ্যে বেতনকাঠামো পুনর্বিন্যাসের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের বছরে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে এই ব্যয়ের পরিমাণ আরও বাড়বে, যা সরকারের সেবামূলক কাজের মানোন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নবম পে-স্কেল: জুলাই থেকেই মিলবে পুরো মূল বেতন

আপডেট সময় : ১০:৫৩:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের চূড়ান্ত প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেলের মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে আনুষঙ্গিক ভাতাগুলো ২০২৭-২৮ অর্থবছরের শুরুতে কার্যকর করা হবে। দীর্ঘ ১১ বছর পর এই নতুন বেতনকাঠামো চালুর মাধ্যমে বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সমন্বিত রোড ম্যাপ জমা হচ্ছে চলতি সপ্তাহেই
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি ইতিমধ্যে পে কমিশনের সুপারিশগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছে। বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আলাদা তিনটি পে কমিশনের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে একটি সমন্বিত রোড ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই এই রোড ম্যাপটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত মিললেই জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে এ সংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে অর্থ বিভাগ।

জটিলতা এড়াতে দুই ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কৌশল হিসেবে প্রথমে তিন বছর মেয়াদি পরিকল্পনার চিন্তা করা হলেও, কারিগরি জটিলতা এড়াতে এখন দুই ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সরকারি হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি বা আইবিএএসপ্লাস (iBAS++)-এ যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য একবারেই মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর করার যৌক্তিকতা দেখিয়েছে অর্থ বিভাগ। তবে সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি দুই ধাপে শেষ করার দিকেই কমিটির মনোযোগ বেশি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানের ২০টি গ্রেডের মধ্যে ১ থেকে ১০ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের ১০০ শতাংশ বা এর কাছাকাছি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ রয়েছে। অন্যদিকে, ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য প্রায় ১৩০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে।

বাজেটে ৪৪ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। বাজেটে এই কার্যক্রমের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেট বক্তব্যে বিস্তারিত না জানানো হলেও কর্মকর্তারা বলছেন, এই অর্থ মূলত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ের কাজে ব্যয় হবে। নেট পাবলিক সার্ভিস খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ সংস্থান করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি। কমিশনের সুপারিশে মূল বেতনে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বড় বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

ব্যয়ের পরিমাণ আরও বাড়বে সরকারের
সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়িত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও দ্রুততম সময়ের মধ্যে বেতনকাঠামো পুনর্বিন্যাসের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের বছরে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে এই ব্যয়ের পরিমাণ আরও বাড়বে, যা সরকারের সেবামূলক কাজের মানোন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।