ঢাকা ০১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবার ইরানের সাইবার হামলায় দিশেহারা ইসরায়েল

এবার ইরানের সাইবার হামলায় দিশেহারা ইসরায়েল

চলতি বছরে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের ব্যবসায়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাতে ইরানি সাইবার আক্রমণের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত এক বছরে এই ডিজিটাল হামলার হার প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির একজন উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। সোমবার (২৯ জুন) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানান।

এক বছরে হামলার পরিসংখ্যান
ইসরায়েলের ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেটের মহাপরিচালক ইয়োসি কারাদি জার্মানির প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘ডাই ওয়েল্ট’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এই সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৫ সালের জুন মাসে যখন ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চলছিল, তখন প্রায় ১ হাজার ৬০০টি শত্রুভাবাপন্ন সাইবার হামলা নথিভুক্ত করা হয়েছিল। অথচ ২০২৬ সালের ঠিক একই সময়ে এসে এই ডিজিটাল আক্রমণের সংখ্যা এক লাফে ৪ হাজার ৮০০-তে গিয়ে পৌঁছেছে।

সাইবার জগতের যুদ্ধ পরিস্থিতি
জার্মান সংবাদপত্রে প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি সাইবার প্রধান ইয়োসি কারাদি বলেন, “কিছু হ্যাকিং গোষ্ঠী প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত দক্ষ। আমরা তাদের মোকাবিলা করতে সক্ষম, তবে আমাদের অবশ্যই বিষয়টিকে বেশ গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের মতো সাইবার জগতে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তি বলে কিছু নেই।”

টার্গেটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
কারাদির তথ্যমতে, এই সাইবার হামলাগুলো মূলত ইসরায়েলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো, কেন্দ্রীয় সংস্থাসমূহ, বিভিন্ন পাবলিক খাত এবং ছোট ও মাঝারি আকারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে। এই ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিশেষ করে বেশ কিছু আইন বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান (ল ফার্ম) এবং হিসাবরক্ষণ বা অ্যাকাউন্টিং ফার্ম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নিরাপত্তা সক্ষমতা ও ক্ষয়ক্ষতি
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা এখন পর্যন্ত দেশের মূল ও সংবেদনশীল জাতীয় অবকাঠামোগুলোর ওপর চালানো সমস্ত হ্যাকিং আক্রমণ সফলভাবে প্রতিরোধ করতে পেরেছেন। তবে যেসব ছোট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল ছিল, হ্যাকাররা সেগুলোর কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করে ভেতরের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পুরোপুরি মুছে বা ওয়াইপ আউট করে দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এবার ইরানের সাইবার হামলায় দিশেহারা ইসরায়েল

আপডেট সময় : ১১:৩৬:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

চলতি বছরে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের ব্যবসায়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাতে ইরানি সাইবার আক্রমণের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত এক বছরে এই ডিজিটাল হামলার হার প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির একজন উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। সোমবার (২৯ জুন) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানান।

এক বছরে হামলার পরিসংখ্যান
ইসরায়েলের ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেটের মহাপরিচালক ইয়োসি কারাদি জার্মানির প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘ডাই ওয়েল্ট’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এই সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৫ সালের জুন মাসে যখন ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চলছিল, তখন প্রায় ১ হাজার ৬০০টি শত্রুভাবাপন্ন সাইবার হামলা নথিভুক্ত করা হয়েছিল। অথচ ২০২৬ সালের ঠিক একই সময়ে এসে এই ডিজিটাল আক্রমণের সংখ্যা এক লাফে ৪ হাজার ৮০০-তে গিয়ে পৌঁছেছে।

সাইবার জগতের যুদ্ধ পরিস্থিতি
জার্মান সংবাদপত্রে প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি সাইবার প্রধান ইয়োসি কারাদি বলেন, “কিছু হ্যাকিং গোষ্ঠী প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত দক্ষ। আমরা তাদের মোকাবিলা করতে সক্ষম, তবে আমাদের অবশ্যই বিষয়টিকে বেশ গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের মতো সাইবার জগতে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তি বলে কিছু নেই।”

টার্গেটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
কারাদির তথ্যমতে, এই সাইবার হামলাগুলো মূলত ইসরায়েলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো, কেন্দ্রীয় সংস্থাসমূহ, বিভিন্ন পাবলিক খাত এবং ছোট ও মাঝারি আকারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে। এই ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিশেষ করে বেশ কিছু আইন বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান (ল ফার্ম) এবং হিসাবরক্ষণ বা অ্যাকাউন্টিং ফার্ম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নিরাপত্তা সক্ষমতা ও ক্ষয়ক্ষতি
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা এখন পর্যন্ত দেশের মূল ও সংবেদনশীল জাতীয় অবকাঠামোগুলোর ওপর চালানো সমস্ত হ্যাকিং আক্রমণ সফলভাবে প্রতিরোধ করতে পেরেছেন। তবে যেসব ছোট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল ছিল, হ্যাকাররা সেগুলোর কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করে ভেতরের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পুরোপুরি মুছে বা ওয়াইপ আউট করে দিয়েছে।