ঢাকা ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপে তাপপ্রবাহে ১০ হাজার মৃত্যু: সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

ইউরোপে তাপপ্রবাহে ১০ হাজার মৃত্যু: সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

গত জুন মাসে ইউরোপজুড়ে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপপ্রবাহে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। মাত্র আট দিনের এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রবীণ নাগরিকরা। ইউরোপভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইউরোমোমো রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২০ থেকে ২৮ জুন—এই সময়ের মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৭টি দেশে ঘটে যায় এই মর্মান্তিক প্রাণহানি। ইউরোমোমো মূলত ইইউ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি জরিপকারী প্রতিষ্ঠান, যাদের হিসাব অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার জনেরই বয়স ছিল ৬৫ বছর বা তার বেশি।

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ বলছে, নিহতদের বড় অংশই মারা গেছেন হিট-স্ট্রোক বা প্রচণ্ড গরমের কারণে হৃদযন্ত্র ও শ্বাসতন্ত্র বিকল হয়ে। ডেনমার্কের স্ট্যাটেন্স সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান চিকিৎসক ও ইউরোমোমোর কর্মকর্তা লাসে ভেস্টারগার্ড রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তাপপ্রবাহজনিত এই মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো ব্যাখ্যা নেই। বছরের এই সময়ে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত মৃত্যু একেবারেই অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিবেদনে দেশভিত্তিক সুনির্দিষ্ট মৃত্যুর হিসাব উল্লেখ না করা হলেও জানানো হয়েছে, নিহতদের একটি বড় অংশের বসবাস ছিল ফ্রান্স ও বেলজিয়ামে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, গরম ও তাপপ্রবাহজনিত কারণে ইইউভুক্ত বিভিন্ন দেশে গড়ে সাপ্তাহিক ৫০০ জনের প্রাণহানি ঘটছে, আর এই পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে গত আট সপ্তাহ ধরে।

ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ইসিডিপিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে সাপ্তাহিক সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছিল করোনা মহামারির সময়—২০২০ সালের মে-জুনে, যখন এক সপ্তাহেই মৃত্যু হয়েছিল ১ হাজার ৬৫০ জনের বেশি মানুষের।

ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনই জুনের এই তাপপ্রবাহের মূল কারণ। তাদের আশঙ্কা, আগামী বছরগুলোতেও এমন তীব্র তাপপ্রবাহ বারবার ফিরে আসতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফতুল্লায় র‍্যাব হামলা মামলার আসামি গিট্টু রিপন কক্সবাজারে গ্রেফতার

ইউরোপে তাপপ্রবাহে ১০ হাজার মৃত্যু: সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

আপডেট সময় : ১২:১২:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

গত জুন মাসে ইউরোপজুড়ে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপপ্রবাহে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। মাত্র আট দিনের এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রবীণ নাগরিকরা। ইউরোপভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইউরোমোমো রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২০ থেকে ২৮ জুন—এই সময়ের মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৭টি দেশে ঘটে যায় এই মর্মান্তিক প্রাণহানি। ইউরোমোমো মূলত ইইউ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি জরিপকারী প্রতিষ্ঠান, যাদের হিসাব অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার জনেরই বয়স ছিল ৬৫ বছর বা তার বেশি।

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ বলছে, নিহতদের বড় অংশই মারা গেছেন হিট-স্ট্রোক বা প্রচণ্ড গরমের কারণে হৃদযন্ত্র ও শ্বাসতন্ত্র বিকল হয়ে। ডেনমার্কের স্ট্যাটেন্স সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান চিকিৎসক ও ইউরোমোমোর কর্মকর্তা লাসে ভেস্টারগার্ড রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তাপপ্রবাহজনিত এই মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো ব্যাখ্যা নেই। বছরের এই সময়ে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত মৃত্যু একেবারেই অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিবেদনে দেশভিত্তিক সুনির্দিষ্ট মৃত্যুর হিসাব উল্লেখ না করা হলেও জানানো হয়েছে, নিহতদের একটি বড় অংশের বসবাস ছিল ফ্রান্স ও বেলজিয়ামে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, গরম ও তাপপ্রবাহজনিত কারণে ইইউভুক্ত বিভিন্ন দেশে গড়ে সাপ্তাহিক ৫০০ জনের প্রাণহানি ঘটছে, আর এই পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে গত আট সপ্তাহ ধরে।

ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ইসিডিপিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে সাপ্তাহিক সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছিল করোনা মহামারির সময়—২০২০ সালের মে-জুনে, যখন এক সপ্তাহেই মৃত্যু হয়েছিল ১ হাজার ৬৫০ জনের বেশি মানুষের।

ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনই জুনের এই তাপপ্রবাহের মূল কারণ। তাদের আশঙ্কা, আগামী বছরগুলোতেও এমন তীব্র তাপপ্রবাহ বারবার ফিরে আসতে পারে।