চট্টগ্রাম বিভাগ ছাড়া দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগের সময়সূচি মেনেই অনুষ্ঠিত হবে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পরীক্ষা স্থগিতের কোনো নতুন নির্দেশনা নেই
১৪ জুলাই দুপুরে তিনি স্পষ্ট করে জানান, পরীক্ষা স্থগিত রাখার বিষয়ে নতুন কোনো নির্দেশনা আসেনি। সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, শিক্ষা বোর্ডগুলো সেটিই বাস্তবায়ন করবে। তবে বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে সকালেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চলমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছান সংশ্লিষ্টরা।
সভায় কারা উপস্থিত ছিলেন
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সভাটি পরিচালনা করেন। এতে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক। পাশাপাশি বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপাররাও অংশ নেন।
শুধু চট্টগ্রামেই কেন স্থগিত
আলোচনায় উঠে আসে, জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম বিভাগে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই শুধু ওই বিভাগেই পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে দেশের বাকি অংশে পরীক্ষা নেওয়ার মতো উপযুক্ত পরিবেশ এখনো রয়েছে বলে জানানো হয়। এছাড়া গতকাল একটি কেন্দ্র বাদে প্রায় সব কেন্দ্রেই নির্বিঘ্নে পরীক্ষা শেষ হয়েছে।
সার্বিক দিক বিবেচনা করে সভায় সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয়, চট্টগ্রাম বিভাগ ছাড়া দেশের সব জায়গায় পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ীই পরীক্ষা চলবে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত
তবে এই সিদ্ধান্তের মধ্যেও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় একদল শিক্ষার্থীর আন্দোলন থামেনি। টানা বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে তারা তিনটি দাবি জানিয়েছেন। প্রথমত, দুর্যোগ পরিস্থিতি না কাটা পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখা। দ্বিতীয়ত, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষার সুযোগ দেওয়া। তৃতীয়ত, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ।
এসব দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন।























