ঢাকা ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে একযোগে ৪ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, অবকাঠামো ধ্বংস

মধ্যপ্রাচ্যে একযোগে ৪ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, অবকাঠামো ধ্বংস

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা নুর নিউজ জানিয়েছে, দেশটির সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি যৌথভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক সামরিক কর্মকর্তা। গত ৪৮ ঘণ্টার শত্রুপক্ষের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করেই লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা হয়েছিল।

অভিযানের প্রথম পর্যায়ে জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়। এর ফলে ঘাঁটির বেশ কয়েকটি জ্বালানি মজুদাগার ও গোলাবারুদ ভান্ডারে আগুন ধরে যায়। আইআরজিসি জানায়, ইরানের উপকূলীয় সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব হিসেবেই এই প্রথম আঘাত হানা হয়।

সংস্থাটির বিবৃতি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজ থামানোর উদ্দেশ্যে আইআরজিসি নৌবাহিনী অভিযান চালানোর পরই যুক্তরাষ্ট্র প্রথম আক্রমণ শুরু করে। জাহাজ দুটির বিরুদ্ধে ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রাখা, অবৈধ চলাচল ও নৌপথে বিপত্তি তৈরির অভিযোগ তোলা হয়েছিল। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।

প্রতিশোধমূলক অভিযানের দ্বিতীয় ধাপে বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটির একাধিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়। আইআরজিসির তথ্যমতে, তাদের মহাকাশ বাহিনী এ হামলায় একটি হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, একটি পি-৮ বিমান হ্যাঙ্গার এবং মার্কিন সামরিক ড্রোনের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক তৎপরতার জবাবেই এসব হামলা অব্যাহত রয়েছে।

আইআরজিসির দাবি, হামলায় আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংক ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটির একটি গুরুত্বপূর্ণ এফপিএস রাডার ব্যবস্থাও অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে।

বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার পর দেশজুড়ে ফের সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। জনগণকে শান্ত থাকার পাশাপাশি নিকটবর্তী নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়েছে।

একই সময়ে কুয়েতেও বিমান হামলার সতর্কসংকেত শোনা যায়। দেশটির সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফের বরাতে জানা গেছে, আকাশসীমায় শত্রুপক্ষের নিক্ষিপ্ত লক্ষ্যবস্তু মোকাবিলা করছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকাকালীন একাধিক বিস্ফোরণের শব্দও শোনা গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। জনসাধারণকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি সবশেষে জানিয়েছে, তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান এখনো চলমান এবং পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফতুল্লায় র‍্যাব হামলা মামলার আসামি গিট্টু রিপন কক্সবাজারে গ্রেফতার

মধ্যপ্রাচ্যে একযোগে ৪ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, অবকাঠামো ধ্বংস

আপডেট সময় : ০১:০৩:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা নুর নিউজ জানিয়েছে, দেশটির সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি যৌথভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক সামরিক কর্মকর্তা। গত ৪৮ ঘণ্টার শত্রুপক্ষের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করেই লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা হয়েছিল।

অভিযানের প্রথম পর্যায়ে জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়। এর ফলে ঘাঁটির বেশ কয়েকটি জ্বালানি মজুদাগার ও গোলাবারুদ ভান্ডারে আগুন ধরে যায়। আইআরজিসি জানায়, ইরানের উপকূলীয় সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব হিসেবেই এই প্রথম আঘাত হানা হয়।

সংস্থাটির বিবৃতি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজ থামানোর উদ্দেশ্যে আইআরজিসি নৌবাহিনী অভিযান চালানোর পরই যুক্তরাষ্ট্র প্রথম আক্রমণ শুরু করে। জাহাজ দুটির বিরুদ্ধে ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রাখা, অবৈধ চলাচল ও নৌপথে বিপত্তি তৈরির অভিযোগ তোলা হয়েছিল। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।

প্রতিশোধমূলক অভিযানের দ্বিতীয় ধাপে বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটির একাধিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়। আইআরজিসির তথ্যমতে, তাদের মহাকাশ বাহিনী এ হামলায় একটি হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, একটি পি-৮ বিমান হ্যাঙ্গার এবং মার্কিন সামরিক ড্রোনের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক তৎপরতার জবাবেই এসব হামলা অব্যাহত রয়েছে।

আইআরজিসির দাবি, হামলায় আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংক ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটির একটি গুরুত্বপূর্ণ এফপিএস রাডার ব্যবস্থাও অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে।

বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার পর দেশজুড়ে ফের সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। জনগণকে শান্ত থাকার পাশাপাশি নিকটবর্তী নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়েছে।

একই সময়ে কুয়েতেও বিমান হামলার সতর্কসংকেত শোনা যায়। দেশটির সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফের বরাতে জানা গেছে, আকাশসীমায় শত্রুপক্ষের নিক্ষিপ্ত লক্ষ্যবস্তু মোকাবিলা করছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকাকালীন একাধিক বিস্ফোরণের শব্দও শোনা গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। জনসাধারণকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি সবশেষে জানিয়েছে, তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান এখনো চলমান এবং পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে।